পাশের বাড়ির ছেলেটা s.s.c পাশ করেই কিভাবে যেন পুলিশের কনস্টেবল হয়ে গেল,পছন্দের মেয়েকে পালিয়ে নিয়ে এসে বিয়েও করে ফেলল;শেষবারের খবর হল: মেয়েটা নাকি এখন সাত মাসের গর্ভবতী।ও বাড়ির দু' বাড়ি পরেই একই পরিবারের দু' বোন কলেজে উঠতে না উঠতেই প্রাইমারি স্কুলে চাকুরী জুটে গেল,সেকি চাল- চলন এখন ওদের!সর্বশেষ অবস্থা হল: ওদের বাবা চায়ের দোকানে প্রতিনিয়তই ঝড় তুলছেন এই বলে যে,তার মেয়ের বিয়ের জন্য নাকি অনেক হোমরা-তোমরা হামলে পড়ছে!
এটা ২০১৬ইংরেজির কথা।আমি যখন s.s.c দিই তখন গ্রামে শিক্ষিত ছিল না বল্লেই চলে,উচ্চশিক্ষার আশায় শহরে পারী জমিয়েছি,ক্লাসের পর ক্লাস শেষ করেছি বইয়ের পাতায় চোখ- মুখ গুজে,ভেবেছি এখন বাইরে তাকাবো না,যখন তাকাবো,তখন যেন চারদিকে আলো দেখতে পাই!
এই ভবিষ্যৎ আলোর স্বপ্ন নিয়ে অনেক অন্ধকার দিন পেছনে পেলে এসেছি!সমবয়সী যারা গ্রামে ছিল,পড়া- লেখার ধার ধারেনি,তাদের কেউই এখন একা নয়; বাচ্চা- কাচ্চা নিয়ে সংসার করছে।উপার্জনের জায়গা হয়তো দেখাবার মতো কিংবা বলার মতো নয়,তবুওতো ওরা সংসার সামলাচ্ছে।মা- বাবাকে,স্ত্রী- পুত্র দেখবাল করছে।ওরা অতটা সুখে না থাকুক,দুঃখে নেই।আবার এ প্রজন্মের অনেকেই ছোটখাট সরকারি- বেসরকারি চাকুরি করছে।এবার সর্বশেষ খবরটা বলি: বয়সটা শেষের দিকে,এখনো একটা চাকুরির আবেদন পত্র পুরণের জন্য মায়ের কাছে লজ্জার মাথা খেয়ে হাত পাতি।বাবা সবসময় পাশের বাড়ির কর্মীক মানুষগুলোর উদাহরণ টেনে আমাকে চাকুরির কথা স্মরণ করাবার চেষ্টার ত্রুটি রাখেন না।বড়ভাই,আকারে ইঙ্গিতে বুঝাতে চায় যে আমি কোনভাবেই পর্দাথের মধ্যে পরি না!আর আমি দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে আজও রেলওয়ের ১৬তম গ্রেডের একটা চাকুরির পরীক্ষা দিয়ে এলাম,যেটার মাইনে পাশের বাড়ির s.s.c পাশ করা ছেলেটির মাইনের চাইতেও কম!


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

