‘’বেদা বিভিন্না, শ্রুতুয়ে বিভিন্না নাসো মুনিযাস্যং মতং বিভিন্না ধ্রমসং তত্তং নিহিতং গুহায়ং মহাজেন যেন গতঃ স পন্থা’’
হিন্দুদের মহাকাব্য ‘মহাভারত’-এ উল্লেখিত আছে যে, যখন রাজা যুধিষ্ঠিরকে জিজ্ঞাসা করা হলো- ‘প্রকৃত ধর্ম কি?’ তখন উত্তরে তিনি উপরের মন্তব্যটি করেন যার অর্থ দাঁড়ায়-
‘’বিভিন্ন প্রকার বেদ স্মৃতিশাস্ত্রগুলো বিভিন্ন। মুনী-ঋষিগণের মতবাদ ভিন্ন ভিন্ন। ধর্মের নিগূঢ় রহস্য গুহার মাঝে নিহিত। সে ধর্মপথ অবলম্বনকারীগ্ণই মহাজন বা শ্রেষ্ঠ।‘’
‘ধর্মের নিগূঢ় রহস্য গুহার মাঝে নিহিত’ বলতে আসলে কি বুঝিয়েছেন পান্ডব রাজা যুধিষ্ঠির? এখানে স্মরণ করা যেতে পারে যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ‘জাবালে নূর’ পর্বতের ‘হেরা’ নামক গুহায় আত্মমগ্ন থাকতেন বা ধ্যান করতেন। মাসিক সওতুল মদিনার সম্পাদক মোহাম্মদ শামসুজ্জামানের মত গুণীজনদের মতে যুধিষ্ঠির এখানে ‘ইসলাম’ ধর্মের প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন। আর, ‘সে ধর্মপথ অবলম্বনকারীগ্ণই মহাজন বা শ্রেষ্ঠ’ বলতে ইসলাম ধর্মের অনুসারীগণকেই বুঝিয়েছেন।
সনাতন ধর্ম অনুসারী হিন্দুদের ধর্মমতের সঙ্গে ইসলামের আরেকটি মিল খুঁজে পাওয়া যায় এখানে- সনাতন ধর্মের দশ অবতারের সর্বশেষ হচ্ছেন ‘কল্কি অবতার’। তেমনি ভাবে ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যত নবী-রাসূল এসেছেন তাঁদের মাঝে সর্বশেষজন হচ্ছেন প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)। কল্কি অবতারের পর আর অবতার আসবেন না তেমনি হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর পর আর কোন নবী-রাসূল আসবেন না। তিনিই ‘খাতামুন নাবীঈন’ বা শেষ নবী। এ ব্যাপারে আল্লাহ স্পষ্ট ভাবে পবিত্র কোরআন শরীফে বলে দিয়েছেন-
‘’ওয়ালা কির রাসূলুল্লাহে ওয়া খাতামুন নাবীঈন।‘’
অর্থাৎ, ‘’বরং তিনি [হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)] আল্লাহর রাসূল এবং শেষনবী।‘’
এ প্রসঙ্গে আবুল হোসেন ভট্টাচার্য তার সাড়া জাগানো ‘আমি কেন খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করিলাম না’ বইতে লিখেছেন, ‘কল্ক’ অর্থ ‘পাপ’ আর ‘কল্কি’ অর্থ ‘পাপ বিনাশকারী’। কলি যূগে পুরো পৃথিবী যখন পাপে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে, তখন ‘কল্কি’ বা ‘পাপ বিনাশকারী’ দেবতা এই নশ্বর ধরাধামে অবতার হবেন বা আগমন করবেন। ফলে, ‘কল্কি’ অবতারই যে শেষনবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) তা বুঝতে পারা যায়।
পূর্বের পর্বগুলো পড়তেঃ
১ম পর্ব- view this link
২য় পর্ব- view this link
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৮:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




