কাওরান বাজার থানায় বসে আছি ঘন্টা দু'য়েক হলো । আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সরাসরি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে । অপরাধ বোমা হামলায় আহত মেয়েটিকে নিজ গরজে হাসপাতলে নিয়ে আসা । আহত রিকশাওয়ালা হাসপাতালে আসতে রাজি হয়নি । আমাকে যখন থানায় নিয়ে আসা হয় তখনও মেয়েটির জ্ঞান ফিরেনি । মেয়েটির জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে বোমা হামলায় শরীরের উপরের অংশের অনেকটা জ্বল্সে গেছে ।
সিএনজিতে করে হাসপাতালে পৌছাবার পর, বোমা হামলায় আহত শুনে কোন ডাক্টার মেয়েটিকে চিকিৎসা দিতে রাজি হয়নি । সবার এক কথা, এটা পুলিশ কেস । আগে পুলিশকে ইনফম করুণ । তা না হলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে । আরে এখন আমি পুলিশ পাবো কোথায় ? মেয়েটার আগে চিকিৎসা দরকার । আগে মেয়েটার চিকিৎসার ব্যবস্হা করবো নাকি পুলিশের খোজে ছুটবো । ডাক্টারদের সে কথা বলাতে তারা ফিরে ও দেখেনি । মেয়েটি মরার মতো ট্টলিতে পরে আছে । আমি এদিক ওদিক করছি । একে ,ওকে সাহায্য করার জন্য বলছি । হঠাৎ করেই যেন চিড়িয়াখানার যন্তুতে পরিনত হলাম। সবাই বেশ অবাক হয়ে আমাদের দেখছে । আমাকে অসহায় অবস্থায় ছোটা ছুটি করতে দেখে , অনেকক্ষন যাবত পাশে ঘুর ঘুর করা একটা লোক এসে বলল, স্যার এখানে কিছু হবে না । কাছেই একটা ক্লিনিক আছে, যেখানে চলেন , চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি । আমি বুঝলাম লোকটা দালাল । গরুর দালাল , বাড়ির দালাল এর মতো এখন মানুষের সেবা পা্ওয়ার জন্য ও দালাল তৈরি হয়েছে । আমি বললাম, দেখ ভাই মেয়েটা আমার কোন আত্মীয় হয়না, রাস্তায় আহত হয়ে পরেছিল আমি চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছি । একটু সাহায্য করো ।
লোকটা ফিসফিস করে বলল, এখানে কিছু হবে না । বললাম তো ক্লিনিকে নিয়ে চলেন । সব ব্যবস্হা করে দেবো ।
দেখ, আমার কাছে খুব বেশি টাকা নেই । আমি অসহায় হয়ে বললাম ।
আপনি কেন টাকা দেবেন ?
তাহলে কে দিবে ?
দেবে মেয়েটির আত্মীয়-স্বজন । খবর পেয়ে তারা আসবে না ? তখন বিল দিয়ে মেয়ে নিয়ে যাবে । আমার ইচ্ছে হলো, লোকটার গালে কষে একটা থাপ্তর মারতে । কোন রকম নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, দয়া করে তুমি আমার সামনে থেকে যাও ।
আমি কি আপনার লগে থাকতে আইছিনি মিয়া ? বিপদে পরছেন তাই সাহায্য করতে চাইছি ।
তোমার সাহায্য আমার দরকার নাই । তুমি যাও ।
যামু মানে এইটা কি আপনার বাবার জায়গা নাকি ?
আমি আর কথা না বাড়িয়ে হাসপাতালের মহাপরিচালকের রুমটা খুজে বের করে বিনা অনুমতিতে ঢুকে গেলাম ।
সব কথা শুনার পর মহাপরিচালক সাহেব ফোনে কাউকে নিদের্শ দিলেন । আমাকে বললেন , আপনি আমার পিওনের সঙ্গে যান । আর এটা পুলিশ কেস । পুলিশ না আসা পযর্ন্ত কোথাও যাবে না । আমি মাথা নেড়ে পিয়নের পেছন পেছন গেলাম । হাসপাতালের বারান্দায় মেয়েটা মরার মতো পরে আছে কারা যেন ট্রলি থেকে নামিয়ে মেঝেতে শুইয়ে দিয়েছে । আমি ছুটে গিয়ে মেয়েটাকে তুলে বসাতে চাইলাম । পারলাম না । মেয়েটার শ্বাস প্রশ্বাস চলছে কিনা বুঝতে পারছি না । দূরে দাঁড়িয়ে সেই দালালটাকে হাসতে দেখলাম । মহাপরিচালকের পিয়ন ডাক্টার আর ট্রলি নিয়ে এসে মেয়েটাকে একটা ওয়াডে নিয়ে গেল । মেয়েটার চিকিৎসা শুরু হলো । আমি মেয়েটাকে যে ওয়াডে নিয়ে যাওয়া হলো তার বাইরে একটা টুলে বসে পরলাম । মনে পরে গেল আমার গন্তব্যের কথা । যে গন্তব্যে আমার পৌছাতেই হতো ।
পুলিশ আসতে আসতে রাত আটটা । পুরো ঘটনা শুনে অল্প বয়স্ক এসআই আমাকে বলল, আপনাকে থানায় যেতে হবে । পুরো ঘটনাটা রহস্যজনক । তদন্ত করে দেখতে হবে । আমি বললাম আমাকে যেতে হবে কেন ? ঘটনা যা ঘটেছে তার তো সবটাই বললাম । আমি আমার বাসার ঠিকানা আর ফোন নম্বর দিচ্ছি । আমাকে ডাকলেই আমি এসে দেখা করবো । এস আই বলল, না তা হবে না । রিপোট লিখতে হবে । যান গাড়িতে গিয়ে বসুন । সারা ঢাকা শহর ঘুরে যখন থানায় এসে পৌছালাম তখন ঘড়িতে সাড়ে নটা বাজে । তারপর থেকে ওসি সাহেবর জন্য থানায় বসে আছি ঘন্টা দু'য়েক । ওসি সাহেব এসে যা বলবেন তার উপর আমাক ভাগ্য নির্ভর করছে । ওসি সাহেব বলে দিবেন আমি আপরাধী না পরউপকারী । একটা দ্বীঘ শ্বাস ছেড়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে বললাম , তোমার সৃস্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষগুলো এতো নিকৃস্ঠ কেন প্রভু?
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



