গতকাল টিভিতে স্কল নিউজে দেখলাম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিজিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে । সকালে ফেসবুক খুলে দেখি, একটি দৈনিক তাদের অনলাইন ভার্শনে রিপোর্ট করেছে, এফবিআই আলোচনা না করেই চলে গেছে । বাংলাদেশে আসার পর অবশ্য এফবিআই বেশ কদিন যাবত তাদের কার্যক্রম চালিয়ে গেছে । হত্যাকাণ্ডের জায়গা পরিদর্শনসহ বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে, তাদের তদন্তের কাজ চালিয়ে গেছে । এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা-বাহিনী তাদের যথেষ্ট সাহায্য করেছে । কিন্তু এফবিআই চলে যাবার সময় কোন কিছু না বলেই চলে যাওয়াটা আমার কাছে ভাল লাগেনি ।
অভিজিতের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকার যথার্থ ভূমিকা পালন করেছে । অনেক কথামালার প্রতিশ্রুতি না দিয়ে নীরবে যা যা করার তা করে গেছে এবং যাচ্ছে । একটা মহল অবশ্য চাইছিল, সরকারের মুখ থেকে কথা বের করার । এই যেমন, আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের ধরবো । ফাঁশিতে ঝুলা-মু ইত্যাদি ইত্যাদি । তারপর আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের ধরতে না পারলে সরকারকে বাঁশ দেওয়া যেত আর কি । কিন্তু সরকার যে সুযোগ না দেওয়ায় অনেকের আপসোসের কোন কমতি ছিল না । তবুও অনেক চাপাচাপির পর গতকালই সরকারের পক্ষ থেকে কিছু একটা বলা হল ।
আমি এসব নিয়ে কিছু বলতে, চাইছি না । আমি বলতে চাইছি এফবিআইএর না বলে চলে যাওয়া নিয়ে । এফবিআই এর এভাবে চলে যাওয়ার মধ্যদিয়ে আমরা কি ম্যাসেজ পেলাম ?
ম্যাসেজ হচ্ছে, অভিজিতের খুনের ব্যাপারে এফবিআই কিছুই করতে পারবে না । তাদের পক্ষে সম্ভব নয় অপরাধীদের খুঁজে বের করা । অপরাধীদের খুঁজে বের করতে পারলে সেটা দেশের গোয়েন্দারাই পারবে । এফবিআই যখন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, তখন যেখানে আলামতের আর কিছু অবশিষ্ট ছিল না । ফুল আর ফটোসেশনের চাপে সব আলামত ধুয়ে মুছে গেছে ।
মাঝখানে বদনাম হল দেশের, এখন এফবিআই দেশে ফিরে গতানুগতিক ভাবে একটা বিবৃত্তি দেবে এবং তা সেটা সারাবিশ্বে প্রচার পাবে । প্রমাণ করার একটা চেষ্টা চলবে, বাংলাদেশ জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র । এ দেশে অন্যান্য ধমের মানুষ শান্তিতে নাই । অথচ ইউরোপ, আমেরিকায় যতো মানুষ ধমের নামে বলি হয়েছে তার একশ ভাগের এক ভাগও এশিয়ায় হয়নি । আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে নিয়ে নির্বাচনের সময়কার নিউজগুলো একটু পরলেই ব্যাপারটা বুঝা যায় । যে ইউরোপ কে সভ্যতার মায়াপুরি বলা হয়ে সে ইউরোপ হাজার হাজার মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে খৃষ্টান না হওয়ার কারণে । যাদু টনার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে । সে ইতিহাস অবশ্য নাস্তিকদের জানা নেই ।
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সাব ভৌম রাষ্ট্র । এদেশের পুলিশ,র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে । সেখানে অনেক দক্ষ কর্মকর্তাও রয়েছে । যদি কেউ অভিজিতের হত্যাকারীদের ধরতে পারে তবে সেটা তারাই পারবে এফবিআই নয় ।
অভিজিত সংক্রান্ত আরো দুটো লেখা লেখার পরে আমার ফেস বুকের ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে অনেক বন্ধু বের হয়ে গেছেন । সবার কথা উল্লেখ করার মতো না হলেও একজনের কথা না বলে পারছি না । তিনি তসলিম নাসরিন । আমরা সর্বশেষ ব্লগটি লেখার পরে তিনি , আমারকে আনফে্রন্ড করে দিয়েছেন । আমি হেসেছি । কিছু কিছু মানুষ আছেন, তারা শুধু নিজের মোটা মাথায় যেটা আসে সেটাই প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন বা অন্যের উপর চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করেন । অন্যের মুখে সমালোচনা বা আলোচনা শুনে তা সহ্য করতে পারেন না । এরাই নাকি আবার ঈশ্বর, খোদা বিশ্বাস করে না । করবে কিভাবে ঈশ্বর, খোদাকে বোঝার জন্য যে রসায়ন লাগে এটা তাদের মষ্তিকে নেই । এরা আসলে অটিস্টিক । আমি এদের ইগনর করার চেষ্টা করছি ।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৩:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





