somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাখাওয়াত হোসেন  বাবন
ব্লগিং শুরু করি প্রথম আলো ব্লগে "আমার কবিতা নামে" আমি ব্লগিং করি মূলত নিজের ভেতরে জেগে উঠা ব্যর্থতা গুলোকে ঢেকে রাখার জন্য । দুনীতিবাজ, হারামখোর ও ধর্ম ব্যবসায়িদের অপছন্দ করি ।

যে ঘটনা কেউ ই জানে না, একজন সেনা অফিসারের ছোট্র একটি কথায় এরশাদ সেদিন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফার্মগেট ,শাহবাগ, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ীর রাস্তা ঘাট একেবারে জন শূন্য এমন কি একটা কুকুরও নেই । সারাদিনের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া করা জনতা, ছাত্র নেতারা বিভিন্ন বাড়ির ছাদে, চিলেকোঠায় গ্রেফতার এড়ানোর জন্য যে যেখানে পারে লুকিয়ে ঘুমিয়ে নিচ্ছে, বিশ্রাম নিচ্ছে । কাল আবার পিকেটিং, আন্দোলন করতে হবে । স্বাধীনতার পর এমন উৎসব মুখর আন্দোলন আর আসেনি বাঙালীর জীবনে । বাঙালী বলতেই আন্দোলন প্রিয় । প্রতিবাদ মুখর । তখন তো আর মিডিয়ার এতো ঝনঝনানি, ছনছনানি, ঝলকানি ছিল না । ছিল বিটিভি আর প্রিটিংমিডিয়া । তারাও ছিল চাপে আর খামের নেশায় চুড় । বস্তু নিষ্ঠ সংবাদ প্রাপ্তির একমাত্র ভরসা তখন ভয়েজ অফ আমেরিকা । সেটাই সবাই মিলে মিশে ভাগাভাগি করে শুনতো । সন্ধ্যার পর তাই চায়ের দোকান,পানের দোকানের সামনে ভিড় জমে যেত । জমে উঠতো আডডা,আলোচনা । যে করেই হোক, এরশাদের পতন চাই চাই । সবার মুখে মুখে তখন একই স্লোগান, "এক দফা এক দাবী এরশাদ তুই কবে যাবি ।"

ঢাকা ইউনিভারসিটির ছাত্রদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য এরশাদের তৈরি জাতীয় ছাত্র সমাজ ও এরশাদের জন্য তেমন কোন ফল বয়ে আনতে পারেনি । ছাত্রদল নেতা আমান উল্লাহ আমান কয়েকবার বিক্রি হয়েও আবার ফিরে গেছে । আমান উল্লাহ আমান এর কেরানীগঞ্জের বাসায় সরকারের পক্ষ থেকে রাতারাতি ফোন ও লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য । যে করেই হোক আন্দোলন দমিয়ে দিতে হবে । এরশাদের তৈরি ছাত্র নেতা নোটন,ঝোটন,টিটু- মুন্নারা তখন ছিল ফুল গিয়ারে । এদেরকে জমা খরচ না দিয়ে চলা ছিল বেশে মশ্কিল ।
নূর হোসেন ,ডাক্তার মিলন এর মৃত্যু আন্দোলনের ফুয়েলের কাজ করে । দাবানলের মতো সেই আগুন ছড়িয়ে পরেছিল চারিদিকে । তাতে অবশ্য এরশাদ মোটেও ভীত হয়নি । মওদুদ আহম্মদ.শাহ মোয়াজ্জেমরা দিনরাত এরশাদের মসনত ঠিক রাখার জন্য কাজ করে গেছন । এরশাদ গেলে তাদেরও সব যাবে । জেলেও যেতে হতে পারে । তাই চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিল না ।

মওদুদ আহম্মদ এরশাদের ভাইস প্রেসিন্ডেন্ট এরশাদের হয়ে বক্তৃতা, বিবৃত্তি যা দেওয়ার উনিই দিচ্ছেন । দেশের দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তি তখন তিনি । পুলিশ আর্মি সহ সব বাহিনীকে যা নির্দেশ দেবার উনিই দিচ্ছেন । সকাল-সন্ধ্যা এরশাদের সঙ্গে মিটিং করে তাকে আসস্থ করছেন, চিন্তার কিছু নাই । সব নিয়ন্ত্রণে আছে।
এরশাদ কিন্তু ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে উঠেছিলেন । একদিকে জেনারেলদের উপর ভরসা রাখতে পারছিলেন না অন্যদিকে মওদুদ,শাহ মোয়াজেম, মঞ্জুদের কথায় ভরসা পাচ্ছিলেন না । মনের শান্তি নষ্ট হয়ে গেছে । নিজের মনের সঙ্গে যুদ্ধটা বেড়ে যাচ্ছিল ক্রমশ । বিশেষ করে নূর হোসেনের বুকে পিঠে লেখা স্বৈরাচার নিপাত যাক, "গণতন্ত্র মুক্তি পাক" লেখাগুলো চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছিল । নুর-হোসেনের মৃত্যু এরশাদকে পীড়া দেয় । তিনি চেয়েছিলেন নুর-হোসেনের বাড়িতে যেতে কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা করতে পারেননি । তিনি নির্দেশ দিয়েছেন কোন প্রাণহানি যে না ঘটে , আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সব সমাধান করতে । কিন্তু তিনি বুঝতে পারছিলেন একটু একটু করে সব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চেলে যাচ্ছে । এরশাদ ঘুমাতে পারতেন না । সারারাত পায়চারি করে রাত্রিপার করে দিতেন । শরীর স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পরছিল ।

রাত আনুমানিক ৩টা বাজে, এরশাদ এর তন্দ্রা ঘুম ভেঙ্গে যায় । মিনিট বিশেক হয়তো ঘুমিয়েছেন । বিছানায় উঠে বসেন । তারপর বিছানা থেকে নেমে প্রেসিডেন্ট ভবনের বারান্দায় বের হয়ে আসেন । সব নীরব,নিস্তব্ধ । লম্বা বারান্দায় একশো পাওয়ারের একটা বাতি জ্বলছে । সেই বাতির নীচে দাড়িয়ে আছে , ছিপছিপে লম্বা এক সেনা সদস্য। এরশাদকে রুম থেকে বের হতে দেখে সে সর্তক হয়ে যায় । সাথে থাকা অস্ত্র স্পর্শ করে সিনা টানটান করে দাড়িয়ে স্যালুট করে । এরশাদ স্যালুটের জবাব দেন না । দরজায় কিছু সময় দাড়িয়ে থেকে রুম থেকে বের হয়ে বারান্দাটা ভাল করে দেখে নেন । যারা ডিউটি করে এরশাদ তাদের সবাইকে চেনেন । নাম ধরে ডাকেন । কুশল জিজ্ঞাসা করেন । এটা এরশাদের অনেকগুলো ভাল গুণের মধ্যে একটি । এতে সবাই প্রাউড ফিল করে ।

একজন ভাল নেতার হওয়ার সব চেয়ে বড় গুণ হচ্ছে সব কিছু মনে রাখতে পারা । যতো ছোট কর্মীই হোক না কেন, দলের সবাইকে বাই নেইম চেনা হচ্ছে একজন নেতার সব চেয়ে বড় গুণ । ভাসানি,মুজিব,জিয়া সবার মাঝে এ গুণ দেখা গেছে । এই নেতারা সবাই দলের কোন কর্মীর সঙ্গে একবার পরিচয় হলে তারপর থেকে তাকে বাই নেমে চিনতেন, ডাকতেন । কুশল জিজ্ঞাসা করতেন । এরশাদের মাঝেও এই গুন বেশ ভাল মতোই আছে । তার প্রমাণ হচ্ছে, তার সময়ে সেনা বাহিনীতে কোন রকম ঝামেলা বা "কু" না হওয়া । তিনি খুব ভাল করেই জানেন কি ভাবে সৈনিকদের আর অফিসারদের পরিচালনা করতে হয় । অথচ জিয়াউর রহমানের সময় সেনা বাহিনীতে ছোট বড় অসংখ্য "কু" হয়েছে । অনেক অফিসার মারা গেছে । সাধারণ মানুষ সে খবর জানে না । কিন্তু মন্ত্রী পরিষদে যোগ দেওয়া সিভিলিয়ানদের এরশাদ অনেক সময় বুঝতে পারেন না । তাদের চোখের ভাষা সব সময় পড়া যায় না । হিসাব এলো মেলো হয়ে যায় ।

লম্বা বারান্দা ধরে হাটতে থাকেন এরশাদ । পরনে নাইট গাউন । উচু লম্বা প্রেসিডন্টকে যথেষ্ট সুপুরুষ মনে হয় সিকোরিউটিতে নিয়োজিত সেনা সদস্যের কাছে । তার সামনে দিয়ে হেটে হেটে প্রেসিডেন্ট বারান্দার শেষ মাথায় চলে যান । তাকে দেখে বুঝার উপায় নেই তার ভেতরে কি চলছে । বারান্দার শেষ মাথায় কয়েক সেকেন্ড দাড়িয়ে আবার ফিরে আসতে থাকেন তিনি । খুব ধীর পায়ে হেটে হেটে সেনা সদস্যর সামনে এসে দাঁড়ান । নাম ধরে জিজ্ঞাসা করেন,কি খবর তোমার । সব ঠিক আছে ? তোমার বাবা মা কেমন আছে ? এই সেনা সদস্য আগেও দু তিন বার এখানে ডিউটি করেছেন তাই এরশাদ থাকে চেনেন । প্রেসিডেন্টের মুখে নিজের নাম শুনে কিছুটা ঘাবরে গেলেও ঠিক থাকেন । ছোট করে উত্তর দেন-
স্যার ভাল, ভাল আছি স্যার ।
তোমার বাড়ি তো পুরাণ ঢাকায়, তাই না ?
জি, স্যার ।
পুরাণ ঢাকার কি খবর ? তুমি কি জানো ? এরশাদ আন্দোলনের খোজ খবর জিজ্ঞাসা করেন । একটু থেমে তিনি আবার জিজ্ঞাসা করেন,পুরাণ ঢাকায় অনেক গাড়ি পোড়াচ্ছে শুনলাম, গুলিস্তানেও নাকি তাই ? তুমি কি কিছু জানো ?
সেনা সদস্য কিছু বলার সাহস পান না । বুক ধনুকের মতো টান টান করে দাড়িয়ে থাকেন । কি বলবে ভাষা খুঁজে পায় না । তার অবস্থা অনুমান করে এরশাদ বলেন, তোমার ভয় নেই । তুমি নি:ভয়ে আমাকে বলো কি অবস্থা ঢাকা শহরের ? একটু আগে মওদুদ সাহেব এসেছিলেন, উনি তো বলে গেছেন, পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে ।
এই সেনা সদস্য কিছু দিন হলো কমিশন পেয়েছেন । এতো অল্প সময়ে কেউ প্রেসিডেন্টের ডিউটি করার সুযোগ পায় না । কিন্তু তিনি পেয়েছেন । নতুন চাকরী, নিজের যোগ্যতার গুনে এই পর্যন্ত এসেছেন তবুও এতো বড় একজন মানুষের সামনে কথা বলতে তার গলা শুকিয়ে আসে । নিজের ভেতরের সকল উত্তেজনা চেপে রেখে বলেন, "স্যার পরিস্থিতি ভাল না ।"
কিছু সময় চুপ করে থেকে এরশাদ আবার জিজ্ঞাসা করেন, কতোটুকু ভাল না ।
সেনা সদস্য উত্তর দেয় , স্যার, যতোটুকু খারাপ হলে বলা যায়, মোটেও ভাল না ।
এরশাদ কিছু বলেন না । হুম জাতীয় শব্দ করে সেনা সদস্যের কাধ চাপরে দিয়ে খুব ধীরে হেটে হেটে তার রুমে চলে যায় । রুমে ঢুকে তিনি মওদুদ সাহেবকে ফোন করে বলেন, "আপনি সবাই নিয়ে এখুনি আসেন । আমি জরুরী একটা ঘোষনা দিতে চাই । এর পর ভোর ছটার মধ্যেই অনেকে জেনে যান যে, এরশাদ পদত্যাগের করেছেন বা পদত্যাগ করছেন ।
একজন সেনা সদস্যের কতো ছোট্র একটি কথা এরশাদকে সেদিন অনেক বড় একটি সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছিল । সেটা ভেবে আমি অবাক হই । সত্যি বলতে এরশাদের সাথে থাকা মন্ত্রী পরিষদ বা জেনারেলরা কেউই ক্ষমতা ছাড়ার কথা চিন্তা ও করেনি । এরশাদ পদত্যাগ করবেন এটা ছিল তাদের চিন্তার অতীত । এরশাদ আসলে ভেতরে ভেতরে ভেঙ্গে পরেছিলেন । নিজের সঙ্গে যুদ্ধে তিনি হেরে যান । চাটুকার পরিবেষ্টিত এরশাদ ছিলেন মূলত একা । সেদিন এই সেনা সদস্যের সত্য বলা কথাগুলো এরশাদকে দারুণ ভাবে নাড়া দেয় এবং তাকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছিল । সেই সেনা সদস্য তার যোগ্যতা তার মেধা এবং বুদ্ধি দিয়ে আজো দেশের সেবা করে যাচ্ছেন । তাকে স্যালুট জানাচ্ছি ।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:২৫
২৯টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ আগস্ট-পরবর্তী ৩ দিনের বাংলাদেশ-

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯



৫ আগস্ট-পরবর্তী ৩ দিনের বাংলাদেশ-

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশ জুড়ে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তার ক্ষয়ক্ষতি ছিল ব্যাপক ও বহুমাত্রিক। সংবাদমাধ্যম ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×