somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাখাওয়াত হোসেন  বাবন
ব্লগিং শুরু করি প্রথম আলো ব্লগে "আমার কবিতা নামে" আমি ব্লগিং করি মূলত নিজের ভেতরে জেগে উঠা ব্যর্থতা গুলোকে ঢেকে রাখার জন্য । দুনীতিবাজ, হারামখোর ও ধর্ম ব্যবসায়িদের অপছন্দ করি ।

অর্থমন্ত্রীর এতো নির্যাতন আর যে সয় না এই মন

০১ লা জুন, ২০১৭ সকাল ১০:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, দেশি চিনির চাহিদা নাই তাই তিনি দেশি চিনির কলগুলি বন্ধ করে দেবেন । অথচ বাজারে গিয়ে মানুষ দেশি চিনি খোজে। দাম বেশি। তবুও খোজে । কিন্তু অর্থমন্ত্রী বেচতে চান বিদেশ থেকে আনা পরিশোধিত চিনি । যা চিনি নামের বিষ । তাহলে কি মনে প্রশ্ন জাগে না বাজারে দেশি চিনির পর্যাপ্ত চাহিদা থাকার পরেও তিনি চিনিকলগুলি কাদের স্বার্থে বন্ধ করতে চেয়ে ছিলেন ? তা কি শুধুই সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে বলে ? বাজারে চাহিদা থাকলে চিনিকলগুলি লোকসান করে কি করে ? অতীব রহস্য, তাই না ?
এবার আসি দেশি পণ্য বিড়ির কথায় । যা দেশের খেটে খাওয়া কৃষক, মজুর,যারা রাবিশ শ্রেণীর (জাতীয় শব্দ) মানুষ তারা পান করে থাকে । অর্থমন্ত্রী সেই বিড়ি
একেবারে বন্ধ করে দিতে চাইছেন । কোন সন্দেহ নাই যে, বিড়ি পান স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর । অর্থমন্ত্রী সাহেব কিন্তু কৃষক, মজুরের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে, তাদের প্রতি দয়া দেখিয়ে বিড়ি বন্ধ করতে চাইছেন না । তিনি চাইছেন,কৃষকরা যেন বিড়ির দামে সিগারেট কিনতে পারে । তাই আসসে বাজেটে বিড়িতে ৭০% ট্যাক্স বসাচ্ছেন । তাহলে সিগা্রেটওয়ালারা খুশি হবে । টাকা চলে যাবে আবারো কোটিপতিদের পকেটে । কি আশ্চর্য তাই না ? উনি শুধু বড় বড় ব্যবসায়ীদের রহস্যজনক কারণে খুশি করেন । যাদের কাছে থেকে তত্বাবধায়ক সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করেছিলো । তারাই ওনার,ওনাদের প্রিয় পাত্রে পরিনত হয়েছেন । রাবিশ কৃষক, মজুর এবার তোরা বিড়ি ছেড়ে সিগারেট ধর আর কতোকাল বিড়ি খাবি ।
নিম্ন আয়ের, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তিল তিল করে ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করে, জমায় । স্বপ্ন দেখে সেই টাকা দিয়ে এক টুকরো জমি কিনবে ,একটা বাড়ি করবে । ছেলে মেয়েকে লেখা পড়া শেখাবে । বিদেশে পাঠাবে । মেয়ের বিয়ে দেবে। কিন্তু জনদরদী অর্থমন্ত্রীর তা সহ্য হচ্ছে না, তিনি জনগনের এই টাকায় কর বসিয়ে তা কেটে নিতে চাইছেন । চাইছেন, সঞ্চয় পত্রের মুনফা কমিয়ে দিতে । ১লাখ টাকা ৩ মাসের জন্য ব্যাংকে রাখলে সেই টাকা থেকে নাকি কর কেটে নিয়ে জমাকারীর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে একলাখের চেয়েও কম টাকা । তিন মাস একলাখ টাকা খাটিয়ে গ্রাহক পাবে আন্ডা । কতো বড় সাহস, রাশিস জনগণ সঞ্চয়ের স্বপ্ন দেখিস । স্বপ্ন দেখা বন্ধ কর ।
বেশির ভাগ অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী,প্রবীন ব্যক্তিগন অবসরকালীন প্রাপ্ত টাকায় সঞ্চয়পত্র কিনে তা থেকে প্রাপ্ত মুনফা দিয়ে সংসার চালান । কিন্তু অর্থমন্ত্রী চাইছেন, তারা সেই টাকাও ভেঙ্গে খেয়ে ফেলুক তারপর ভিক্ষায় নামুক । ব্যাংকে জমা রাখলে সরকার টাকা কেটে নেবে । সঞ্চয়পত্র কিনলে মুনফা পাবে না । তাই এমনিতেই সঞ্চয়পত্র কেনা বন্ধ হয়ে যাবে । লাভ না হলে কেন কেউ সঞ্চয়পত্র কিনবে ?
সুতরাং তা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে । এভাবেই জনগণের কষ্টের টাকা অর্থমন্ত্রী নিজেই টাকা মনে করেই ছিনিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করছেন।
অর্থমন্ত্রী হয়তো চাইছেন জনগণ আবার শেয়ার বাজারে যাক । হা হা হা । শেয়ারবাজারের লুটের কথা মনে আছে তো ? না ভুলে গেছেন ? সেই শেয়ার বাজারে টাকা খাটান । অথবা টাকা বালিশের নীচে নিয়ে ঘুমান । তারপর ডাকাত এসে সেই টাকা লুটে নিয়ে যাক । তাতে সরকারের কি ? দু একটা কথা বলে,দেশ প্রেমিক আখ্যা দিয়ে তাদের দায় শেষ । সরকারের কাছের লোকেরাই চুরি করছে । এ কথা গতকালও একজন সংসদে দাড়িয়ে বলেছে । চুরি এখন প্রকাশ্য হচ্ছে । চোরেরা তাই প্রকাশ্যেই ঘুরছে । তারা কিছুই পরোয়া করছে না । বাজারে কারো নিয়ন্ত্রন নাই । যে যার ইচ্ছে মতো দাম হাকছে ব্যবসা করছে ।
বলি এতো টাকা টাকা দিয়ে অর্থমন্ত্রী কি করবেন ? দেশের উন্নতি করবেন ? জনগণ মরে গেলে সেই উন্নতি কার জন্য ? অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন, আপনি ব্যাংকগুলো থেকে লুট হওয়া,শেয়ার বাজার থেকে লুট হওয়া হাজার হাজার কোটি টাকা উদ্ধারে জন্য কি করেছেন ? কি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন ? কোথায় সেই টাকা ? এর পরেও শুনতে হয় হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে । সরকারী ব্যাংকগুলো লুট করে সেই টাকা প্রাইভেট ব্যাংকগুলোতে খাটানো হচ্ছে । ধীরে ধীরে পাখা গজানের পর তা বাহিরে চলে যাচ্ছে । অথবা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়ে তা পবিত্র হয়ে যাচ্ছে । অর্তমন্ন্ত্রী কতো কিছু করেন শুধু এই কালো টাকাওয়ালাদের কিছু করেন না । হায় সেলুকাস । কতো বিচিত্র আকারে হচ্ছে দেশ চুরি । উন্নতি যে হচ্ছে না তা বলবো না কিন্তু কিন্তু চোরেদের চৌরত্বের কারণে উন্নতি জনগনের চোখে পরছে না ।
৫ বার বাড়িয়েছেন গ্যাসের মূল্য, অসংবার বাড়িয়েছেন বিদ্যুতের মূল্য । ডাবল দামে জ্বালানী তেল বেচে ব্যবসা করছেন । জনগন কিছু বলছেন না । চুপ করে আছে কিন্তু আর কতো ? জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাচ্ছে । সেই আওয়াজ কি শুনতে পাচ্ছেন ? যেদিন ফাটবে সেদিন সব ভেসে যাবে । এখনো সময় আছে , জনগন বান্ধব বাজেট দিন । ধনীদের খুশি করার চিন্তা বাদ দিন । জনগনের জন্য ভাবুন । একটা সুযোগ পেলেই জনগন ছুড়ে ফেলে দিবে আপনার সব উন্নয়ন ।
রাবিশ জনগণকে বলছি, তোর কপালে ঝাড়ুর বারি । খালি ভোটের চিন্তায় থাকিস। ৫ই জানুয়ারির কথা মনে করে আরো দুইডা ঝাড়ুর বারি বেশি দে। আর দোয়া কর এইডা যেন এই অর্থমন্ত্রীর শেষ বাজেট হয় ।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০১৭ দুপুর ২:৫৫
১১টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×