somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাখাওয়াত হোসেন  বাবন
ব্লগিং শুরু করি প্রথম আলো ব্লগে "আমার কবিতা নামে" আমি ব্লগিং করি মূলত নিজের ভেতরে জেগে উঠা ব্যর্থতা গুলোকে ঢেকে রাখার জন্য । দুনীতিবাজ, হারামখোর ও ধর্ম ব্যবসায়িদের অপছন্দ করি ।

সব প্রচার কিন্ত অপপ্রচার নয়

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ধরুন আপনি পরকীয়া করেন । পরকীয়া বানান কি ? র ষিকার না দীর্ঘিকার এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না ।
যা বলছিলাম, ধরুন আপনি পরকীয়া করেন । বিষয়টা আপনার পরিচিত জনেরা টের পেয়ে গেলেন । শুরু হলো ফিসফাস ,ঠুসঠাস । কথায় আছে, গুয়ের গন্ধ আর রসালো কথা নাকি বাতাসের আগে ছড়ায় । আপনার পরকীয়ার কথাও এ কান, ও কান হতে হতে আপনার স্ত্রী কানে গিয়ে পৌঁছল । সদা লক্ষ্মী, সতী-সাবিত্রী স্ত্রী রেগে তেলে বেগুন । শুরু হলো সাংসারিক ছায়াছবি, এর ই নাম অশান্তি । রাজ্জাক, শাবানা,নতুনের জায়গায় অভিনেতা, অভিনেত্রী আপনারা তিনজন । দর্শকের সারিতে আত্মীয়, স্বজন ছেলে মেয়েরা । আপনার অবস্থা তখন ডাঙ্গায় তোলা মাছের মতো । যার সাথে সর্ম্পক সে কিছু না ছড়ালেও , কথা ছড়াবার লোকের তো আর অভাব হয় না । আর যদি খারাপ মেয়ে বা ছেলের পাল্লায় পরেন তাহলে তো আর কথাই নাই ।

আপনি কিন্তু আপনার সামাজিক অবস্থান,সন্তানদের ভবিষ্যৎ আত্মীয় স্বজনদের সবার কথা ভেবে সর্বোপরি মান ইজ্জত হারাবার ভয়ে,বিড়ালের মাছ খাওয়ার মতো মুখ মুছে ফেলে বলে বসলেন, সব অপপ্রচার । আপনার উন্নতিতে ঈষাম্ভিত হয়ে লোকজন অপপ্রচার করছে । আপনার ভাবসাপ প্রতিবাদে, অস্বীকারে ইত্যাদি দেখে অনেকের ই মনে হতে পারে আসলেই সেটা অপপ্রচার ।

কিন্তু মনে রাখবেন, মেয়েদের ব্রেনের আরপিএম শয়তানের ব্রেনের আরপিএম এর চাইতেই অনেক গুন বেশি । তারা যখন কারো পেছনে লাগে তখন আটঘাট বেধেই লাগে । আপনার মোবাইল ফেসবুক ঘেঁটে ঘটনার সত্যতা বের করতে খুব বেশি বেগ পেতে হয় না । যদি ও আপনি সব ডিলিট করে ফেলেন , চোরের মনে সদা খিরাই ক্ষেতে ।

গায়ের জোড়ে,কুট কৌশলে সত্য ঘটনাটাকে মেরে কেটে হয়তো শেষ পর্যন্ত অপপ্রচার বলে চালিয়ে দিতে পারবেন । কিন্তু ভাই ঘটনাটা তো সত্যই ছিলো । মজা যা লুটার তা দুই পক্ষই লুটেছেন । জিতে গেছেন ভেবে মনে মনে শয়তানের হাসি হাসছেন । কিন্ত এর পরের দাম্পত্য জীবন কি আর স্বাভাবিক থাকে ? অনেক ক্ষেত্রেই থাকে না ।

আবার অনেক অপ প্রচার আছে যা আসলেই সত্য নয় । মানির মান নষ্ট করার জন্য শুধুই অপ প্রচার । সেটাকেই রং চং দিয়ে সত্য বানিয়ে নি:দোষ ব্যক্তিকে কলঙ্কিত করার বহু ঘটনা ইতিহাস থেকে আজো বিলীন হয়ে যায়নি । উত্থান পতনের এই রঙ্গ মঞ্চে এসব নতুন কিছু না । মনে রাখবেন, চুরি করে চোর উপাধি মুছে ফেলা গেলেও চুরি না করে চোর উপাধি পেলে সেটা আর মুছে ফেলা যায় না । মিথ্যা অপবাদ এর ব্যাপারে ধর্ম কি বলে আমি সেদিকে যাবো না ।

যখনই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোন দুর্নীতির কথা ঘটলেই এখন শুনি , সব অপ-প্রচারের তোকমা দিয়ে দুর্নীতিবাজদের বাঁচিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় । চোরের মার বড় গলার চেয়ে দুর্নীতিবাজের নিজের গলা আরো বড় হয়ে যায় । কারণ এই চুরিটা তো আর একা করা হয় না । অনেক প্লান, প্রোগ্রাম করে মিলে মিশে চুরি করা হয় তাই ফাঁক থাকে না । আগে ছিলো চোরে চোরে মাশতুতো ভাই আর এখন চোরে চোরে শালা দুলাভাই ।

সম্প্রতি শিল্পকলা একাডেমীর, এমন একটি দুনীতির কথা উঠে এসেছে । শিল্প কলা একাডেমীর ডিজি বা মহাপরিচালকের যিনি একদিকে আমার ক্লাসমেটের চাচা অন্য দিকে আমার প্রিয় শিক্ষিকা কৃষ্টি হেফাজ ম্যাডামের স্বামী সেই হিসাবে উনি আমার সামান্য পরিচিত ।

দুদকে'র জিজ্ঞাসাবাদে উনি কিন্তু বলে দিয়েছেন সব অপ প্রচার। মিথ্যা বানোয়াট,এর কোন সত্যতা নেই ।
চাচা, মানলাম সব অপপ্রচার বা মিথ্যা বানোয়াট । মানলাম, মিথ্যা বিল বাউচার বানিয়ে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনার সবটাই মিথ্যা, বানোয়াট । কিন্তু এই যে কোটি কোটি টাকা খরচ হলো , সেটা তাহলে কি ভাবে হলো ? কখন হলো ? কোন ঘটনা বা অনুষ্ঠানের জন্য হলো ? এটা প্রমাণ করে দেওয়া কিন্তু খুব কঠিন নয় কোন বিষয় না । যদি সত্যিই টাকাটা প্রয়োজনে খরচ হয়ে থাকে । তাই এই মিথ্যাকে কিন্তু মিথ্যা প্রমাণ করার দায়িত্বও আপনার ।

কারণ আপনার শরীরে সব দায় চাপিয়ে দিয়ে যারা আজ বহু দূরে দাড়িয়ে মজা দেখছেন , তাদের মুখোশগুলো খুলে দেবার দায়িত্ব কিন্তু আপনাকেই পালন করতে হবে । তা না হলে, দুর্নীতিবাজেরা আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে । আর যদি সেটা করতে গিয়ে আপনার নিজের মুখোশ ই খুলে পরে তাহলে বলবো, চাচা আপনা প্রাণ বাঁচা ।

পরিশেষে বলবো, শিল্প সাহিত্যের নামে দেশে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে, অথচ দেশের শিল্প, সাহিত্য আজ ধ্বংস প্রায় । আর কতো ? একটা জাতি এতো, এতো দুনীতি কেন সহ্য করবে ? কেন, দুনীতিবাজদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেই তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আরো বড় দুনীতিতে ঝাপিয়ে পরবে ? এতো বড় স্পর্ধা চোর বাটপারের দল পায় কি করে ?
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৪:২৬
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮



ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ISD মোবাইল, TNT ফোন।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৮

২০০১ সালে কম মানুষের হাতেই মোবাইল ছিলো। মোবাইল ছিলো বড়লোকী পরিচয়। সে সময় সকল মোবাইল থেকে ইন্টারনেশন্যাল ফোন ও টেলিফোন থেকে কল আসার সুবিধা ছিলো না। মুষ্টিমেয় সিমের বিদেশ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানুষ' হওয়া খুব সোজা, 'মুসলমান' হওয়া কঠিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



একটু আগেই ভাবছিলাম, মানুষ হওয়াটা খুব সহজ। বাবা-মা জিংজিং করে আমাদের পৃথিবীতে এনেছেন, এতে আমাদের কৃতিত্ব কোথায়! কোন কৃতিত্ব নেই। আমরা অটো ভাবেই 'মানুষ' হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি। দুইজন মানব-মানবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধের দায় হযরত আলীর (রা.) হলে আমরা হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) কেন দোষ দেব?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৪



সূরাঃ ৯ তাওবা, ৬০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬০। সদকা বা যাকাত ফকির, মিসকিন, এর কর্মচারী, মোয়াল্লাফাতে কুলুব (অন্তর আকৃষ্ট),দাসমুক্তি, ঋণ পরিশোধ, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরের জন্য। এটা আল্লাহর বিধান।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

×