
রাশিয়া আক্রমণের পর পুতিন দারুণ কঠিন একটি সময় পার করছেন । যুদ্ধে যতোটা সহজে জয় তুলে নিবেন বলে তিনি ভেবেছিলেন বাস্তবে ততোটা সহজ হয়নি । কেননা এই মুহূর্তে রাশিয়া একা পুরো ইউরোপ ও আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। কোন ঘোষুনা ছাড়াই আমেরিকা ও তার মিত্ররা ইউক্রেনের পক্ষে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নেমেছে । অন্যদিকে রাশিয়া তার এই কঠিন সময়ে চীন আর ইরানকে ছাড়া বিশ্বের অন্যকোন দেশকে পাশে পায়নি । শুরুতে তুরস্ক পাশে থাকলেও শেষ পর্যন্ত পাল্টি খেয়ে সরে গেছে ।
কাউকে পাবার আশা করে অবশ্য পুতিন ইউক্রেন আক্রমণ করেনি । তিনি ভেবেছিলেন একাই যুদ্ধটা শেষ করে ফেলবেন । কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি । যতো সময় গড়াচ্ছে যুদ্ধের ব্যয় ও হতাহতের সংখ্যা ততোই বাড়ছে । এ বিষয়টা মাথায় রেখে যুদ্ধের কৌশল হিসাবে , এক সময় পুতিনের পাচক বা বাবুর্চি হিসাবে কাজ করা ইয়েভগেনি প্রিগোশিন নামক ব্যক্তিকে যুদ্ধের কাজে লাগিয়েছিলেন ।
ইয়েভগেনি প্রিগোশিন পুতিনের সহানুভূতি পেয়ে পাচক এর কাজ ছেড়ে ভাড়াটে সৈন্য সংগ্রহ করে একটি বাহিনী তৈরি করে সিকিউরিটি ব্যবস্যা শুরু করেছিলেন । যার নাম ছিলো ভাগনার গ্রুপ বা বাহিনী । পুতিনের সুদৃষ্টি ফলে অল্প ক'বছরেই সে ব্যবসায় সাফল্য অর্জন করে । অল্প কদিনেই রাশিয়ার সবচেয়ে ধনীদের কাতারে উঠে এসে নিজেকে এলিট শ্রেণী ভাবতে শুরু করে । ইউক্রেন যুদ্ধের পর দায়িত্ব পেয়ে ইয়েভগেনি প্রিগোশিনের ভাগ্য খুলে যায় । তার কাজ ছিলো শুধু সৈন্য সংগ্রহ করা । অস্ত্র সংগ্রহ করতে সহায়তা করতো পুতিন প্রশাসন ।
ইউক্রেন এর মতো একটি ফলহীন বিহীন দীর্ঘ যুদ্ধের ব্যয়ভার ও নিজস্ব সৈন্যদের হতাহতের সংখ্যা কমাবার জন্য পুতিন পশ্চিমাদের কাছ থেকে বুদ্ধিটা ধার করে ভাগনার বাহিনীর প্রধানকে ভাড়াটে সৈন্য সংগ্রহ করে সরাসরি যুদ্ধের জন্য ইউক্রেনে পাঠানে বলেন । লোভনীয় এই প্রস্তাব ভাগনার বাহিনীর প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোশিন হাতছাড়া করেনি । মোটা বেতন,নগদ অর্থ, আধুনিক অস্ত্র ও দখলকৃত অজ্ঞ্চলের সম্পদের ভাগ বাটোয়ারার হিস্যার লোভ দেখিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হতে সৈন্য সংগ্রহ করে বিশাল বাহিনী গড়ে তুলে ।
বেশ কিছুদিন যুদ্ধ করার পর । নিজেকে রাশিয়ার খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ভাবতে থাকেন । তার ধারনা জন্মে তাকে ছাড়া পুতিন বা রাশিয়া অচল । কিচ্ছু করতে পারবে না । পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের লোভে পড়ে ভাগনার প্রধান বিভিন্ন দাবিদাওয়ার ছুতো তুলে পুতিনের পক্ষ ত্যাগ করে তার সৈন্য বাহিনী নিয়ে ইয়েভগেনি প্রিগোঝিনের নেতৃত্বে রুশ সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে মস্কোর দিকে অগ্রসর হয় । এরপর বাকিটা তো সবারই জানা । বিশ্বাস ঘাতকের পরিণতি কখনো ভালো হয় না । ইয়েভগেনি প্রিগোশিন বা ভাগনারের কপালেও তাই ছুটল । বিমান দুর্ঘটনায় আরো ১০ জন কমান্ডারের সাথে ভাগনার প্রধানও অক্কা পেয়েছেন । এখন ওপারে গিয়ে বিশাল ভাড়াটে বাহিনী নিয়ে পশ্চিমা বাহিনীর পক্ষে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন । পুতিন ছাড় দে ছেড়ে দেয় না । ওয়েল ডান স্যার পুতিন । স্যালুট ।
তার এই পরিণতির কথা তো আগেই লিখেছিলাম । বিশ্বাস না হয় পড়ে দেখুন ।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০২৩ সকাল ১১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


