somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাময়িক পৃথিবী
আমি একজন গুনাহগার

লাইফ ইনস্যুরেন্স বা জীবন বীমা করা কি জায়েয............???

২৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই বিষয়ে অনেক ঘাটাঘাটি করার পর এই লেখাটি লিখলাম।সবাই পড়ুন আশা করি উপকৃত হবেন।
-
লাইফ ইনস্যুরেন্স বা জীবন বীমা মানেই হল জীবিতাবস্থায় জীবনের এবং মৃত্যু বরণ করার তার পরিবারের পরিপূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। এই যুক্তিটি নীতি বাক্যের মাধ্যমে অনেক পূর্ব থেকেই বিশ্বের দরবারে প্রচলিত আছে। এই পদ্ধতিতে সাধারণ ব্যক্তিদেরকে যে কোন ভাবে বুঝিয়ে তাকে লাইফ ইনস্যুরেন্স তালিকাভুক্ত করে তার কাছে থেকে নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ করাই হল নিম্ন শ্রেণীর কর্মচারীদের কাজ। প্রান্তিক পর্যায়ের কর্মচারীদের কোন বেতন নির্ধারিত না থাকলেও চাপার জোরে কাউকে লাইফ ইনস্যুরেন্সে অংশ গ্রহণ করিয়ে সংগৃহীত সেই সদস্যদের জমা-কৃত টাকার একটা বৃহত্তম অংশই সেই নিম্ন শ্রেণীর কর্মচারী-গনই পেয়ে থাকে। যাহোক অন্যান্য কোম্পানির দেখা-দেখি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি সর্বপ্রথম একটি ইসলামি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি হিসাবে প্রকাশ পায়। মুলতঃ কোম্পানিটির নামের সাথে ইসলামী সংযুক্ত থাকাতে খুব অল্প দিনেই তারা বাজার পেয়ে বসে। তাদের এই ব্যবস্থার প্রতি অনেক লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি ঈর্ষান্বিত হয়ে তাদের কোম্পানির সাথেও ইসলাম জুরে দেয়। তার কারণ: বাংলাদেশের ধূর্ত জনগণ জানেন যে,যে কোন নামের সাথে ইসলাম লাগিয়ে দিলেই মূর্খ লোকগুলো হুমড়ি খেয়ে সেই দিকেই ধাবিত হয়। এর মধ্যে সব থেকে যে বিষয়টি কাজ করে, তাহলো মুসলমান হয়েও ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধে সাধারণ মানুষদের ধারনা একেবারেই কম থাকা। যার কারণে কোথাও ইসলাম লেখা দেখলেই মনে করে যে,এটাই সবথেকে ভেজালমুক্ত এবং এখানে কোন প্রকার ভুল থাকার সম্ভাবনাই নেই। এদেরকেই বলা হয় অবুঝ ধর্মভীরু,যারা নিজেরা কখনোই নিজেদেরকে শিরক-কুফর থেকে বাচাতে পারে না।
-
ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি সব থেকে যে বিষয়টি ফলাও করে বেড়ায়, তাহলো “আল্লহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন”। আমার কথা হল,লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি কোথায় কোন ব্যবসা করেন? তারা ব্যবসা করে কোথায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন? তাদের ব্যবসায় কি ক্ষতি হওয়ার নীতিমালা সম্বন্ধে কোন তথ্য লিপিবদ্ধ আছে? তাদের ব্যবসায় কোন কাঁচামাল আছে কি? তাদের ব্যবসার সামগ্রী ক্রয়ের যায়গা কোনটি আর বিক্রয়ের যায়গাই বা কোনটি? সকল উত্তর দেয়ার দায়িত্ব আপনাদের নিজেরই। যাহোক আমার মনে হয় তাদের দ্রব্য সামগ্রী ক্রয়ের বাজার হল সাধারণ জনগণ,আর বিক্রয়ের বাজার হল ব্যাংক বা ধনি ব্যক্তি-গন। প্রশ্নানুসারে একজন মানুষ ১,০০,০০০/ টাকার চার কিস্তি বীমায় ১,৪০,০০০/ টাকা জমা করে চতুর্থ কিস্তিতে সে সর্বমোট ১,০০,০০০/ পায়। লাভের কথা না হয় পরেই থাকল,তাহলে নগদ জমা-কৃত টাকার বাকি ৪০,০০০/ কোথায় যায়? মনে রাখা দরকার যে,এই টাকাগুলোই হল চাকুরী-পাপ্ত কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদের মুখের আহার,যা তারা মিলে মিশে ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে থাকে।
-
একজন মানুষকে নতুনভাবে ইনস্যুরেন্স করানোর জন্য যে কত প্রকার কৌশলই ব্যবহার করা হয়,সেগুলোর আর কোন ইয়ত্তা নেই। হয়ত কখনো একজন মানুষ মৃত্যু বরন করলে তাকে সেই টাকা দেয়ার জন্য বিশাল সেমিনার বা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়,যাতে করে তাদের সকল ভাল দিকগুলো জন সম্মুখে প্রকাশ পায় এবং বেশি বেশি করে মানুষ মৃত্যুর পরে তার উত্তরসূরিদের নিরাপত্তার জন্য লোভে পরে লাইফ ইনস্যুরেন্স করে। কিন্তু একজন মানুষ বিশ বছরের হিসাবে লাইফ ইনস্যুরেন্স করে পাঁচ বৎসর টাকা জমা করার পর যদি বন্ধ করে দেয়,তাহলে যে তার পূর্বের জমা-কৃত সকল টাকাই বাতিল হয়ে যায়,এই তথ্যগুলো কিন্তু একেবারেই বলে না। ইসলামী শব্দ যুক্ত কোন রাজনৈতিক দলে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন অমুসলিম না থাকলেও ইসলামি লাইফ ইনস্যুরেন্সে কিন্তু অমুসলিমদের চাকুরী বা অংশগ্রহণ মোটেও নিষিদ্ধ নেই। কারণ হল এই ক্ষেত্রে লাভের ব্যবস্থা থাকায় ইসলাম হল গৌণ বিষয়।
সব থেকে বড় কথা হল মানুষ মৃত্যু বরন করার পর তার পরিবার কেমন ভাবে চলবে,তার সিদ্ধান্ত আল্লহ রব্বুল আলামিন নিজেই করে রেখেছেন। সুতরাং প্রত্যেক মানুষ মৃত্যু বরন করার পর একমাত্র একমাত্র লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি সকল প্রকার সাহায্য তথা যে কয়টি টাকা তার পাওয়ার কথা,তা দিলেই সেই পরিবারের সকল প্রকার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে,এই কথা বিশ্বাস করা একেবারেই শিরকি গুনাহ এবং লাইফ ইনস্যুরেন্স কর্মীদের কর্তৃক একপ্রকার বিশেষ রকমের প্রতারণা মাত্র। এই ধরনের লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে যারা মৃত্যু বরন করেছেন,তাদের পরিবার ছাড়া সবাইই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া সকল নীতিমালা ইংরেজি ভাষায় লিখা থাকাতে আসল সর্ত সম্বন্ধে কোন গ্রাহকই তেমন কিছুই জানে না যে,সে কোন বিধানের উপর স্বাক্ষর করল। তাই এই ধরনের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ফতোয়াবিদ-গন লাইফ ইনস্যুরেন্সকে হারাম হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন। মোট কথা হল কোন মুসলমানেরই লাইফ ইনস্যুরেন্স করা উচিত নয়। তকদীরের উপর বিশ্বাস রাখা ফরজ। তাই তকদিরের উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে রিজিকের সন্ধানে তদ্বির করতে হবে; আর এটাই মু’মিনের দায়িত্ব
(কপি)
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:১৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×