somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন
তুমি যদি আজ পাশে থাকতে,তাহলে আমার স্বপ্নগুলো দুঃস্বপ্নে পরিণত হত না . . . . . .

সাম্প্রতিকঃ ফিলিস্তিনি হত্যাকান্ডঃ ন্যায়বিচারই রক্তক্ষরন বন্ধ করতে পারে ।

১০ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ৯:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সম্প্রতি ফিলিস্তিনিদের হাতে তিনজন ইসরায়েলি কিশোর খুন হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত বর্বর ও নির্মম, এটি ক্ষমার অযোগ্য। এটাও সত্য যে ইসরায়েলের হাতে অন্তত ৩৭ জন লেবানিজ শিশু খুন হয়েছে। এটাও দুঃখজনক, সন্ত্রাসবাদের এই হচ্ছে পরিণতি। ১৯৯৬ সালে লেবাননের কানায় ইসরায়েলি সেনাদের গোলাবর্ষণে ১০৯ জন বেসামরিক ব্যক্তি খুন হয়, এদের মধ্যে অনেকেই ছিল শিশু। এই মানুষেরা জাতিসংঘের একটি শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল, ফলে নিশ্চিতভাবেই এটা ছিল যুদ্ধাপরাধ। সে কারণে আমি বলতে চাই, এই তিনজন ইসরায়েলি টিনএজারকে হত্যার ঘটনাটিও যুদ্ধাপরাধ।
কথা হচ্ছে, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধকাণ্ডের পাণ্ডুলিপি অত্যন্ত নোংরা, একই সঙ্গে তা প্রাণঘাতীও বটে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এই তিনজন টিনএজারকে যারা হত্যা করেছে, তাদের ‘পশু’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাতে কী? মেনাচেম বেগিন কি ১৯৮২ সালে ফিলিস্তিনিদের ‘দুই পায়া জন্তু’ আখ্যা দেননি? এবং তারপর বেগিনের নির্দেশে ফিলিস্তিনের ওপর বিমান থেকে লাখ লাখ গোলাবর্ষণ করা হয়, নেতানিয়াহু যেমন বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য হামাসকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
আর এদিকে রাষ্ট্রপতি শিমন পেরেস বলেছেন, ইসরায়েল ‘এই জঘন্য সন্ত্রাসীদের কঠোর হাতে দমন করবে’। কিন্তু কতজন সংবাদকর্মী জানেন যে এই শিমন পেরেস প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ১৯৯৬ সালে ‘সন্ত্রাস’-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করায় কানায় গণহত্যা সংঘটিত হয়। না, কেউই তা জানে না। মধ্যপ্রাচ্যের একটি ব্যাপার হচ্ছে, এখানে সামষ্টিক স্মৃতির কোনো বালাই নেই। এটা বড় ভুলনশীল এলাকা।
সেই ১৯৬০ সালে ইসরায়েল লেবাননের ‘সন্ত্রাসীদের’ ওপর বিমান আক্রমণ শুরু করে। তারপর অসংখ্য বিমান আক্রমণ হয়েছে। ইসরায়েল এখনো তা করে যাচ্ছে, লেবাননে ‘সন্ত্রাসবাদ মুছে ফেলতে’ বা বেগিনের ভাষ্য অনুসারে, ‘সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন করতে’। ইসরায়েল ১৯৮২ সালে যে লেবানন আক্রমণ করেছিল, তাতে ১৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। ২০০৮-০৯ সালে ইসরায়েল যখন গাজা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, তখন এক হাজার ১০০ ফিলিস্তিনি ও ১৩ জন ইসরায়েলি প্রাণ হারান। এই ১৩ জন ফিলিস্তিনির মধ্যে চারজনই নিজেদের ভুল বোঝাবুঝির কারণে মারা যান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সে সময় চুপ থাকলেও এবার তিনি বেশ উচ্চকণ্ঠ, তিনি এই ‘কিশোরদের হত্যার মতো মূঢ় কাজের’ সমালোচনা করেছেন।
১৯৯৬ সালে হিজবুল্লাহ বলেছিল, ইসরায়েল ‘নরকের সব দ্বার খুলে দিয়েছে’। হামাস সতর্ক করে বলেছিল, ‘ইসরায়েল নরকের সব দ্বার খুলে দিচ্ছে’। লক্ষ করুন, সেই একই পোকায় খাওয়া পাণ্ডুলিপি। রক্তের বদলে আরও রক্ত, যা হোক, শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথ যা বলেছিল, তার কিছুটা সত্যতা তো মিলল।
ফিলিস্তিনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় কুর্দি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, নেতানিয়াহু যদি সে-বিষয়ক তার নব্য উৎসাহে শাণ দেন, তাহলে আমাদের ভুলে যেতে হবে, ফিলিস্তিন একটা রাষ্ট্র। আর এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে সব সহিংসতার অবসান ঘটবে, তাই নয় কি? মাহমুদ আব্বাস মরহুম ইয়াসির আরাফাতের মতোই দুর্নীতিগ্রস্ত। তিনি আরেক দুর্নীতিগ্রস্ত সংগঠন হামাসের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছেন। এর ফলে, ইসরায়েলের নোংরা রাজনৈতিক প্রশাসন এ কথা বলার সাহস পাচ্ছে যে হামাস ফিলিস্তিন সরকারে থাকলে কোনো শান্তি আসতে পারে না। এমনকি হামাস যখন ফিলিস্তিন সরকারের অংশও ছিল না, তখন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, কোনো ফিলিস্তিনির সঙ্গে কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, আব্বাস তো আর হামাসের হয়ে কথা বলতে পারেন না।
শেষ পর্যন্ত, এটা আসলে ভূমিরই ব্যাপার। এ অঞ্চলের সব যুদ্ধবিগ্রহের উৎস হচ্ছে এই ভূমি। আরব ভূমিতে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইসরায়েল শুধু ইহুদিদের জন্য উপনিবেশ বানিয়েছে। বহুল আলোচিত পশ্চিম তীরেই সেটা তারা বানিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই ইহুদিরাই হিটলারের হাতে লাখে লাখে মারা পড়েছে। সে স্মৃতি আমরা ভুলিনি। সেটা ভোলারও নয়। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় সেই ইহুদিরাই ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে বসল। এর কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়। সেই পশ্চিম তীরেই এই তিনজন ইসরায়েলি কিশোর মারা পড়ল। তারা সেই অবৈধ উপনিবেশে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। না, এ যুক্তিতে তাদের হত্যাকাণ্ড বৈধ হয়ে যায় না।
এই হত্যাকাণ্ড নিঃসন্দেহে খুবই বর্বর ও নির্মম, একই সঙ্গে তা ক্ষমার অযোগ্যও বটে। এই মৃত্যুতে তাদের পরিবারবর্গ যে দুঃখ পেয়েছে, সেটা তাদের প্রাপ্য নয়। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। হ্যাঁ, ন্যায়বিচার। তার মানে হচ্ছে, খুনিদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। একই সঙ্গে, এই চুরি হয়ে যাওয়া ভূমি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে তা ফেরত দিতে হবে। সেটা করতে হলে অনতিবিলম্বেই এর প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এতে হয়তো আরও রক্ত ঝরবে। তবে এতে হয়তো আমাদের অনন্তকাল ধরে রক্তক্ষরণ দেখতে হবে না।


কার্টেসীঃ রবার্ট ফিস্ক: মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাংবাদিক।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×