
আমার আঁকার হাত এতই ভাল ছিল,
লিখে না দিলে কে বুঝে,
এটা আম না পেঁপে?
তাই শৈশব স্মৃতি আঁকি অজান্তে মানস পাতায়,
লাল,কাল,নীল রঙে-
আনন্দ,হতাশা,বেদনায় রাঙিয়ে।
হঠাৎ একদিন ইচ্ছে হয়,
খেয়ালি বালকের মত,
থরে থরে সাজানো স্মৃতির আলমারি থেকে-
দু’একটা স্মৃতির অনুবাদ করি,
কি-বোর্ডে কাঙ্খিত শব্দ খুঁজি,
’৫২-র শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আনা,
ভাষায় কথা বলি।
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর এলেই,
১৬ই ডিসেম্বরের সকালের স্মৃতিটা ভাসে-
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আমি ও বাবা দেখি,
এক হাতে বাংলাদেশের পতাকা উঁচিয়ে,
অন্য হাতে সাইকেলটা ধরে,
প্যাডেল চেপে আসছে,
শুভ্র দাঁড়ির সাবু ভাইয়ের বাবা।
বাবা আঁতকে উঠে বলে-
লোকটা পাগল নাকি?
মারবে গুলি পাকি সেনা,
মরবেন বেঘোরে উনি পথে।
দৌড়ে নামি সিঁড়ি ভেঙ্গে ছোট ছোট পায়ে,
স্বাধীনতার প্রতীকী সাইকেলটার পিছু ছুটি,
এক,দুই করে হাজার শৃঙ্খলিত পদ পথে নামে,
মুক্তিপাগল মুক্তিসেনাদের ঘাড়ে করে মুক্তির উল্লাসে মাতে,
ভয়ংকর পাকিদের জীপটা দাঁড়িয়ে যায় পথের মাঝে,
ঘৃণা ভরা চোখ গুলো ওদের ঘিরে ধরে,
তবে আমরা পশু হতে পারেনি পশুদের সাথে।
সেদিন দুপুরে বাসায় ফেরা হয়নি,
ক্ষিধেরা পালিয়ে ছিল কোথায়,
বাবার বকুনি হারিয়ে ছিল,
উনিও তো সেদিন শিশুই ছিলেন,
বিজয়ের অপার আনন্দে সবাই শিশু হলো,
ঘর-পথ সব এক হয়ে ছিল।
মুক্তিপাগল সবাই সেদিন শিশু হয়েছিল,
বিজয়ের আনন্দে ভেসে,
সন্ধ্যা-রাত করে আনন্দে বাড়ি ফিরেছিল!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ ভোর ৫:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




