
ভ্রমণের সময় আমি খাওয়ার ব্যাপারে খুব সাবধান থাকি । হজমের সমস্যার কারণে জিহ্বাটাকে একটু শাসনে রাখি । নতুবা দুচোখ ভরে দেখার বদলে পেট মোচড় নিয়েই ব্যস্ত হতে হয় । দুপুরে টিউলিপের অনেক সাজানো খাবার থেকে বেছে বেছে কিছু খেয়ে রুমে ফিরি । ধবধবে সাদা বিছানাটা টানছে । কখন ঘুমিয়ে পড়েছি টের পাইনি ।
মোবাইলের রিংয়ে ঘুম ভাঙ্গে । রুমি ভাই ফোন করেছে । টিউলিপের কলাতলি অভিমুখী বাস ছাড়ছে – আমি যাব কি-না? উনাকে ‘না’ বলে দিয়ে ওঠে পড়ি । চারটে বাজে । পশ্চিমের জানালার ধারে যাই । পর্দা সরিয়ে দেই, স্লাইডিং জানালাটা খুলে দেই । সমুদ্রের এক ঝলক ঠান্ডা বাতাসে শরীরটা জুড়িয়ে যায় ।
.
কানে আসে শো-শো-শো..... একটানা সাগরের গর্জন । ফাল্গুনের পরিস্কার সাদা আকাশ । মিশেছে ওই দূর সাগরে ।একটা সাদা রেখার মত লাগছে আকাশ-সাগরের মিলনস্থলটা । বিকেলের মিষ্টি রোদ, বসন্তের মৃদু-মন্দ হাওয়া- আমি বসে আছি একা । টিউলিপ হোটেলের কামরায় - সামনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত । ইনানি বীচের ধে দেখতে পাচ্ছি অস্পষ্ট কিছু অবয়ব । সোফাটা সরিয়ে জানালার একবারে কাছে নেই । তার ডানে ছোট্ট টেবিলটায় একটা সাদা কাগজ আর কলম নিয়ে বসি । আজ মোবাইলে লিখতে ইচ্ছে করছে না । সাগরে কথায় পাতা ভরে ওঠতে থাকে । এমনি সময়ে কলিং বেলের আওয়াজে ধ্যান ভেঙ্গে যায় । দরজা খোলাই ছিল । সাজ্জাদ ভাই ঘরে প্রবেশ করলেন । উনি আমার সহকর্মী । লেখার ইতি টেনে বেড়িয়ে পড়লাম । শো-শো আওয়াজটা আরে কাছে থেকে শোনার জন্য ।
.
সাজ্জাদ ভাইয়ের সাথে সুইমিং পুলে আসি । উনি উনার মোবাইলটা দিয়ে কিছু ছবি তুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন । ছবি তোলা, বিভিন্ন বিষয়ে কথা বার্তা বলতে চলছে । কিছুক্ষণ পর মেরিন ড্রাইভের রাস্তা পার হয়ে সৈকতে আসি । টিউলিপের সৌজন্যে কিছু জায়গা উঁচু করে পাকা করা হয়েছে । সেখানে কিছু আরাম কেদারা আছে । আমরা দুজন দুটোতে গা এলিয়ে দিলাম । নীল শাড়ি পরে সমুদ্র বয়ে চলেছে, উপরে সাদা মেঘের আঁচল বিছিয়েছে আকাশ । এসব সময়ে আমার কথা বলতে ইচ্ছে করে না । আমি সাজ্জাদ ভাইয়ে কথায় হু-হা করতে থাকি ।
.
সোনা রঙ্গে পানি রেঙ্গে ওঠছে ক্ষণে ক্ষণে । দুজনেই ওঠে পড়ি । পথে যেতে দেখা হয়ে যায় মারুফ সোবহান ভাইয়ের সাথে । চারিদিকে প্রবালের সারি সারি পাথর । টপকে টপকে চলে যাই জলের আরো কাছে । পা ভিজাই । মোবাইলটা ব্যস্ত হয়ে পড়ে অস্তগামী রবির শেষ স্মৃতিটুকু ধরে রাখার জন্য ।
.
শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে মনটা ফুরফুরে । সমুদ্রের নির্মল হাওয়ায় মনের ক্লান্তি-গ্লানি মুছে যাক - নির্মল হোক এ অন্তর ।
.
মো: শামছুল ইসলাম
তারিখ: ১৭/০২/২০১৮ ইং
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৮:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



