
সন্ধ্যা নেমেছে অনেকক্ষণ । আমার রুমমেট ডালিম ভাই সকালে চলে গেছেন । আমার সাথে দেখা হয়নি । আমি সকালের নাস্তা করতে নীচে গিয়ে ছিলাম । দেখা করার মত মানসিকতাও উনার তখন ছিল না । চট্টগ্রামের গ্রামের বাড়ি থেকে ফোন আসে । উনার চাচী মারা গেছেন । পরে উনার কাছেই শুনেছি – উনার মা উনাদের ভাই-বোনদের ছোট রেখেই মারা যান । মার আদরেই চাচীর কাছে বড় হয়েছেন । সহজ-সরল ডালিম ভাই চাচীকে শেষবারের মত দেখার জন্য পাগলের মত ছুটে গেছেন – কক্সবাজারের আনন্দ উনার কাছে ফিকে হয়ে গেছে ।
.
জানালার ধারে গিয়ে বসি । দূর থেকে সাদা রেখা গুলো ছুটে আসছে । তারপর তীরে এসে হারিয়ে যাচ্ছে । এখন জোয়ার । শো-শো-শো-..শব্দটা আরো জোরালো হচ্ছে । সব শব্দ ছাপিয়ে একজন অনাত্মীয় মানুষের চলে যাওয়াটা আমাকে ব্যথিত করে । এই তো জীবন – সমুদ্রের ওই সাদা ফেনার মতই । একসময় হারিয়ে যায় । তাঁর একান্ত আপন লোকদের কাছে শুধু স্মৃতি হয়েই থাকে ।
.
না, এভাবে মন খারাপ করে বসে থাকবো না । রুম থেকে বেরিয়ে পড়ি । সৈকতের কাছে অনেকে সাথে দেখা হয় । গল্পে মেতে ওঠি । চারিদিকে বেশ অন্ধকার । কারো মুখ পরিষ্কার দেখা যায় না । এই সুযোগে আমি মাঝে মাঝে পুরোপুরি শ্রোতা হয়ে যাই । এমদাদ ভাই উনার ব্রুনাইয়ের বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা বলে চলেছেন । আমি ও সাদিক সারোয়ার ভাই শ্রোতা । আমি অন্যমনস্ক হয়ে তাকিয়ে দেখি পুরো আকাশ জুড়ে তারার মেলা । চাঁদ নেই । কালো নিকষ আকাশের বুকে সাদা-সাদা তারার বুটি । সমুদ্রও তার কালো জলের বিশাল ভান্ডার নিয়ে ছুটে চলেছে – মাঝে সাদা-সাদা ফেনার ভেলা । আমার মনে হলো, একটা বিশাল কালো বোতলের মধ্যে আমরা । কোন এক দৈত্য এই কালো বোতলে আমাদের ভরে রেখেছে ।
.
রাতের খাবারের সময় ঘনিয়ে আসে । আমরা দৈত্যের কালো বোতল থেকে বেরিয়ে মেরিন ড্রাইভের রাস্তা পার হয়ে হোটেলে ফিরি । পিছনে ফেলে আসি শো-শো আওয়াজ, তারায় তারায় খচিত নীলিমা ।
.
.
মো: শামছুল ইসলাম
তারিখ: ২২/০২/২০১৮ ইং
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



