
#পর্ব_১
#নাসির খান
#রোদেলা প্রকাশনী
.
‘একদিন সূর্যের দিন’ উপন্যাসটা পড়া শুরু করেছিলাম ৩ মার্চ, ২০১৮ শনিবার রাতে । শেষ করেছি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসার পথে ট্রেনে – ১০ মার্চ । মাঝে মাঝে ভাবি, যখন যা পড়ি, তার তরতাজা অনুভূতি গুলো সাথে সাথে লিখা হয়ে গেলে তার আবেদনটা অতুলনীয় হতো । আজ আবার উপন্যাসটা নিয়ে বসেছি, হাতে কলম । হারানো পড়ার স্মৃতি গুলোকে কালির আঁচড়ে মূর্ত করে তুলতে একান্ত দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ।
.
উপন্যাসের প্রথম বাক্যেই লেখক নাসির খান আমাকে নাড়িয়ে দিয়েছেন—“অদ্ভুত এক উদ্দেশ্যে অপেক্ষা করছি আমরা । এমন অপেক্ষা যারা করেছে তারাই কেবল জানে এই অপেক্ষা আসলেই অদ্ভুত । অপেক্ষাটা মৃত্যুর ।“ উপন্যাসের মূল চরিত্র বাবু তার বন্ধু আসাদের সাথে অপেক্ষা করছে হাসপাতালে; আসাদের বাবার মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা । আসাদের বোন রুনাও আছে । এমনি মৃত্যুর জন্য অপেক্ষার করুন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে । তাই প্রথম দৃশ্যপটটা স্মৃতিতে থাকবে অনেকেরই ।
.
প্রতিটি মৃত্যুই করুণ । তবে মানবিকতার ছোঁয়ায় আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি না । গলার কাছে কী যেন একটা আটকে যায় । সেই মানবিকতার পরিচয় পাই যখন বাবু আসাদের মার মৃত্যুর পর নিজের বোনের থ্রিপিস কেনার টাকা আসাদের হাতে তুলে দেয় । এমনি অনেক মানবিকতার গল্প ছড়িয়ে আছে সমগ্র উপন্যাস জুড়ে । পড়তে পড়তে নিজেকে কখন যেন হারিয়ে ফেলি নিজেকে । বাবু হযে ঢুকে পড়ি মধ্যবিত্তের টানাপোড়নের এক সংসারে – যেখানে অসাধারণ মমতাময়ী একজন মা আছেন, সহজ-সরল আবেগী বাবা আছেন, মনিদার মতো অসম্ভব সুন্দর চোহারার মনিগন্ধময় একজন দাদা আছেন, পারুলে মতো লক্ষ্মী ছোট বোন আছে । আছেন রুবি আপার মতো বড় বোন; জটিল সংসারের আবর্তে হাবুডুবু খাওয়া বিবাহিত এক অসহায় নারীর গল্প । দাদী আছেন, মানসিক ভাবে অসুস্থ নূরী ফুফু আছেন । সবাইকে নিয়ে বাবুর কত ভাবনা । কিন্তু টিউশনির কটা টাকা দিয়ে কি-ই বা করতে পারে বাবু ।
.
এদিকে মনিদা বদলে যেতে থাকে । অন্ধকারের পথে পা বাড়ায় । বাবুর বড় কষ্ট হয় । একদিন লাশ হয়ে ফিরে মনিদা । সবাই বিকৃত, পঁচা লাশের গন্ধে নাক ধরে আছে । কিন্তু বাবু মনিদার লাশের মধ্যেও সেই মনিগন্ধটা খুঁজে পায় মনিদার সাথে রাতে ঘুমালে যে গন্ধটা পেতো । এযে ভালোবাসার গন্ধ । চির অবিনশ্বর ।
.
শীতের রাতে ফাঁকা রাস্তায় হাঁটতে থাকে ভাই হারা বাবু – তার সমস্ত অন্তর জুড়ে মনিদা । হতাশার অমানিশার শেষে নতুন আশায় ভরে উঠবে হয়তো জীবন । এমনি এক নতুন সূর্যের দিনের অপেক্ষায় বাবু হাঁটতে থাকে অনন্তের পথে ।
.
শুধু দু:খ গাঁথা নয়, মধ্যবিত্তের ছোট ছোট সুখ, খুশির কথাও আছে এই উপন্যাসে । আছে চমৎকার কিছু এপিগ্রাম । সেই নানা বর্ণে চিত্রিত নানা গল্প নিয়ে হাজির হতে চাই অন্য একদিন – আজ এখানেই শেষ করছি ।
(চলবে)
.
মো: শামছুল ইসলাম
রচনাকাল: ২৩ মার্চ ২০১৮
পরিমার্জন: ৩০ মার্চ ২০১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
