
.
মিরপুর রোডটা কলাবাগান হয়ে ধানমন্ডি আট নম্বর মাঠের পাশ দিয়ে দক্ষিণে চলে গেছে – নিউমার্কেটের দিকে । মাঠের বিপরীতে পুবে, হলুদ রংয়ের বিল্ডিংটা দাঁড়িয়ে আছে – সবাই তাকে চেনে কলাবাগান ষ্টাফ কোয়ার্টার নামে । সেই কলোনীর এক বালক মিরপুর রোড পেরিয়ে চলে আসে ধানমন্ডি মাঠে । এই মিরপুর রোডে পেরোতে যেয়েই সে একদিন দুর্ঘটনায় পড়ে আহত হয় । তবু বিকেল হলেই সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে বড় মাঠে (ধানমন্ডি মাঠকে এই নামেই ডাকা হতো) তার যাওয়া চাই-ই চাই । তার কী যে ভালো লাগে ফুটবল খেলা দেখতে । উত্তর-দক্ষিণে দুটা গোলপোস্ট – দু’পাশে দু’দল । বল নিয়ে ছুটছে খেলোয়াড়রা । ও মুগ্ধ হয়ে দেখে; আর ভাবে, কবে ও ছুটবে এমনি ভাবে । ফুটবল যেন ওর রক্তে বাসা বেঁধেছে ।
.
সেদিনও বালক খেলা দেখছে তন্ময় হয়ে । ইকবাল স্পোর্টিংয়ের গোলকিপারটাকে দেখে সে অবাক । কেউ তাকে পরাস্ত করতে পারছে না । সন্ধ্যা হয় হয়, খেলা শেষের দিকে । একটা বল ইকবাল স্পোর্টিংয়ের গোলমুখে, ফাঁকায় । গোলকিপার দ্রুত দৌঁড়ে এসে ঝাপ দিয়ে শুয়ে পড়ে বল বুকের কাছে নিয়ে গেছে । প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় দৌঁড়ে এসেছে বল জালে প্রবেশ করাতে । গোলকিপারের নিরাপদ আশ্রয়ে বল দেখে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়টার যেন মাথায় রক্ত চড়ে গেল । শুয়ে থাকা গোলকিপারের মুখে সে সজোরে বুটের লাথি মারলো । কিন্তু গোলকিপার বল জড়িয়ে ধরে সেই ভাবেই শুয়ে আছে । কিছুক্ষণ পর রেফারী ফাউলের বাঁশি বাজালো । গোলকিপার বল ছেড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো । সবাই তার দিকে দৌঁড়ে গেল । রক্তাক্ত মুখ, দাঁত দিয়ে রক্ত ধরছে । গোল বাঁচানোর জন্য কী অসম্ভব দৃঢ়তা একজন গোলরক্ষকের ।
.
সেদিনের সেই বালক দুহাজার আটারোতে এসে অবাক হয়ে ভাবে, ধানমন্ডি মাঠের ইকবাল স্পোর্টিংয়ের সেই গোলকিপার আর মরুদেশে এশিয়া কাপ খেলতে নামা তামিমের মাঝে কী ভীষণ মিল । কব্জি ভেঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেল তামিম । দলের অবস্থা তখন নড়বড়ে । কিন্তু বাংলাদেশের লিটল মাস্টার মুশফিকুর রহিম তখনো ক্রিজে । তাঁর হার না মানা মনোভাবের সামনে শ্রীলঙ্কা তখন খাবি খাচ্ছে । সবাই আউট । কিন্তু হাসপাতাল থেকে কব্জিতে ব্যান্ডেজ নিয়ে মাঠে হাজির অকুতোভয় তামিম । একহাতে ব্যাট ধরে সে নেমে পড়ে মাঠে, মুশফিকের যে একজন সঙ্গীর বড় দরকার ।
.
সত্তরের সেই লড়াকু গোলকিপার আর আজকের লড়াকু ক্রিকেটার তামিম কিন্তু একই সূত্রে গাঁথা ।
সেই গোলকিপারের নাম ইকবাল খান, যিনি তামিম ইকবালের বাবা । অনেক দিন হয় তিনি গত হয়েছেন, কিন্তু তামিম এখনো বয়ে বেরাচ্ছেন তাঁর বাবার রক্তে মেশা লড়াকু মনোভাব ।
যোদ্ধারা বংশ পরস্পরায় এমনি করেই বহমান – যুগে যুগে ।
.
.
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মো: শামছুল ইসলাম
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



