
এই ১৪৫০ জনকে বাংলাদেশের জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় বেতন দিতে হয়। চলতি ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এই ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২,৭৯৮ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় বা বেতন বাবদ ধরা হয়েছে ৬৯,২৪৮ হাজার কোটি টাকা। আর উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,৫৫০ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা কোথায় কিভাবে ব্যয় হয় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তা কোনো কালেই জানতে পারে না। বিদেশে যে সকল বাংলাদেশের মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য যায়, তারা এই সব বিলাসী মিশন থেকে নামমাত্র সেবাও পায় না। এই মিশনগুলোর প্রধান কাজ হল বাংলাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রী সেই দেশ সফরে গেলে তাদের আপ্যায়ন করা। বাকি সারা বছর এরা সেই দেশে ডিপলোমেসির ড-ও করে না। খায় দায় আর বিদেশী বড় বড় অনুষ্টানে যোগদান করাই তাদের সবচেয়ে বড় কাজ। বাংলাদেশের মতো একটি গরিব দেশের জন্য এতো বিশাল সাইজের বিলাসী মিশন লালন পালন করাই একটা বড় ধরনের বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই না।

বাংলাদেশের মিশনগুলোতে বিগত ৪২ বছরে কর্ম দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে সবচেয়ে বেশি। যে কারণে নিজেদের কর্ম সম্পর্কে এইসব কর্ম কর্তাদের অনেকের কোনো সুস্পষ্ট ধারণাই নেই। কি করতে তারা সেই মিশনে কাজ করছেন? ফাইলে সিগনেচার করা? দেশে একটু ফোন করা? বন্ধুরা কেউ বেড়াতে গেলে তাদের নিয়ে সরকারি গাড়িতে করে ঘোরাঘুরি করা? এসব খুব হচ্ছে সেখানে। ডিপলোমেসির ছিটেফোটাও কারো নজরে পড়ে না। কয়েক দিন আগে নিউ ইয়র্কে মাত্র ৩৫ লক্ষ মার্কিন ডলার খরচ করে বাংলাদেশ জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনের জন্য একটি বাড়ি কিনেছেন!!! সেই বাড়িতে আমাদের জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনের দূত বসবাস করবেন। সেই বাড়িতে হোয়াইট হাউজের সমান সুযোগ সুবিধা বর্তমান। তাতে নাকি ভাড়া বাসার চেয়ে বছরে ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার কম খরচ হবে!!!! তাহলে ভাবুন, বিদেশে আমাদের মিশনগুলোতে ডিপলোমেসির নামে কি পরিমাণ বিলাসিতা করা হচ্ছে। তারপর, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেই দেশ সফরে গেলে তার বিশাল সফরসঙ্গীরা থাকেন সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিলাসী হোটেলে। প্রধানমন্ত্রীর যারা সফরসঙ্গী থাকেন সেই দলে অন্তঃত ৮০ ভাগ থাকেন খামাখা। যাদের বেড়ানো ছাড়া আর কোনো কাজকাম থাকে না। কিন্তু খরচের টাকা মেটাতে হয় বাংলাদেশের মানুষের ট্যাক্সের পয়সায়। আর আপনারা বুলি ছোড়েন দেশপ্রেমের? আহারে আমার দেশপ্রেম?? দেশপ্রেম এতো সস্তা নয়।

একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী’র কি কি যোগ্যতা লাগে!? দেন দরবারে বিদেশীরা যা যা লুট করে নেবার চুক্তি করে চোখের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবেই নিয়ে যায়। আমরা কোনো পাটের ছড়াটাও আনতে পারি না তাদের থেকে। রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হলে আমাদের সারা জীবনের ঐতিহ্য সুন্দরবন আর বেঁচে থাকবে? নাকি তা ধ্বংস করার জন্য তা ভারতের হাতে চলে যাবে? টিফকা চুক্তি বাস্তবায়ন হলে আমাদের গ্যাস, কয়লা, জ্বালানী, সমুদ্র বন্দর, চট্টগ্রামের পাবর্ত্য এলাকা আর আমাদের থাকবে? নাকি তা আমেরিকার হাতে চলে যাবে? মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। ভূ-রাজনৈতিক কারণে বঙ্গোপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি তাদের দীর্ঘদিনের মিশন। এজন্য হিলারী এবং বারাক ওমাবা আমাদের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ মায়ানমার সফর করেন। ফিলিপাইনসে বা জাপানের সমুদ্র সীমায় মার্কিন নৌবাহিনী রেখেও চীনের সঙ্গে আর ভারতের সঙ্গে তারা টেক্কা দিতে পারছে না। তাই চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর তাদের প্রধান টার্গেট। গরিব দেশগুলোর প্রতি তাবেদারী করাও যাবে। আবার চীন ভারতের মতো উদয়মান পরাশক্তির সঙ্গে টেক্কা মারাও সহজ হবে। যে টিফকা চুক্তি গত ২২ বছর ধরে ঝুলে আছে, তা এই সরকারের বিদায় বেলায় তড়িঘড়ি করে সই করা হবে সবচেয়ে বিপদজনক একটা কাজ। ক্ষমতা আর টাকার গরম মানুষ চেপে রাখতে পারে না। এটা প্রকাশ পাবেই। এটা হাতের মুঠোয় এলে চেহারার জৌলুসও বাড়ে। মানুষকে তখন আর মানুষ মনে হয় না।


৪২ বছরেও যদি এটা ঠিক করা না যায়, তাহলে কে এটা ঠিক করবে? অন্য গ্রহ থেকে কোনো পয়গম্বর এসে তো আর আমাদের এতো অব্যবস্থাপনা ঠিক করে দেবে না। তাই সময় এসেছে আমাদের পররাষ্ট্র নীতি ও এর পরিধি নিয়ে নতুন করে কিছু ভাবার। নতুন করে কিছু করার। নইলে সব মিশন বন্ধ করাই উত্তম। কথার অর্থ না বুঝলে খামাখা কেউ আমার এই দুঃশ্চিন্তা নিয়ে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি করবেন না। এটাই সবার প্রতি অনুরোধ রইলো।
***আমার লেখা প্রবন্ধটি সামাজিক সচেতনতা মূল। এই বিষয়ে আপনার কোনো জিজ্ঞাসা, মতামত অথবা পরামর্শ থাকলে দয়া করে মন্তব্য করুণ***
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০১৪ সকাল ১১:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




