somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দর্শনধারী গুণবিচারী

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা মেয়ে। টিশটাশ সুন্দরি, ছিমছাম গড়নের, চুপচাপ স্বভাবের, অসীম ধৈর্যের। হোস্টেলে থাকে, পড়াশুনা করে, সখীদের সাথে লুকিয়ে দূর্গাপূজা দেখতে যায়, চুটিয়ে প্রসাদ খায়। আর ক্লাস বন্ধ থাকলেই বাড়ির পথে দৌড়।

তো থার্ড ইয়ার ফাইনাল চলাকালে বাড়ি থেকে চিঠি আসে, সে যেন অতিসত্বর তল্পিতল্পা গুছিয়ে বাড়ি চলে আসে। তাহার বিবাহ ঠিক করা হইয়াছে। ঘটক মশায় হলেন মেয়ের বড় মামা। ছেলে তারই পরিচিত, অত্যন্ত সুপাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইকোনমিকসে পড়েন। বিয়ের পর বউ সমেত প্রবাসে চলে যাবার ইচ্ছাও আছে। বেশ, এ পাত্রের সাথে অনেক আগে থেকেই বিয়ের কথা চলে দুই পরিবারের মধ্যে। তার মাঝে আবার যেহেতু বড়মামা আছেন সুতরাং তিনি কাহিনী না ঘটিয়ে ছাড়বেন না। অগত্যা ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ির পথেই রওনা।

বিয়ের দিন তারিখ ঠিক, গোছগাছ প্রায় শেষের পথে। মাঝে হঠাৎ ছেলে জানালো বিয়ের পরে কিন্তু মেয়ে কোনো চাকরি বাকরি করতে পারবেনা। তার ঢাবি র এক রুমমেট নাকি বলেছে চাকরি করলে মেয়েরা হাতের বাইরে চলে যায়। এদিকে পাশ করে আর একবছর ইন্টার্র্নি করলে মেয়ের মোটামুটি সরকারি চাকরি কনফার্ম। কিন্তু বিয়ে করলে তো চাকরি দূরে থাক, পরীক্ষাই দিতে দিবেনা তারা। ওইদিকে বিয়ের দিনও ঘনিয়ে এসেছে।
কি আর করা, পরিবারের মান সম্মানের কথা ভেবে পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে বিয়ের পিড়িতে বসা??
উঁহু,, মেয়ে ওই এক কথার উপরে বিয়েই ভেঙ্গে দিয়েছে। তার এতো বছরের কষ্টের সার্টিফিকেট উচ্চ ডিগ্রিধারী কোনো পার্ভাটের কাছে বেচে সে বিয়ে করতে পারবে না। সেই সিদ্ধান্ত থেকে তাকে আর শেষ পর্যন্ত কোনো ভাবেই নড়ানো যায়নি।

এই মেয়েটি আমার মা। আমার জ্বলজ্যান্ত ইন্সপিরেশন। রমণীর সদা সহাস্যমুখ দেখে কোনোভাবে বুঝার উপায় নেই ভিতরে সে কি পরিমাণ আগুন নিয়ে বসবাস করেন।

যা হোক, পরে অবশ্য তিনি আড়াই বছর সফল ভাবে প্রেম করে আমার বাবাকে বিয়ে করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

#গল্প_হলেও_সত্যি
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ২:২৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামাত কি আদতেই বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে?

লিখেছেন এমএলজি, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

স্পষ্টতঃই, আসন্ন নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামাত। দুই পক্ষের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে যেমন সক্রিয়, একইভাবে ফেইসবুকেও সরব।

বিএনপি'র কিছু কর্মী বলছে, জামাত যেহেতু ১৯৭১-এ স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×