![]()
শান্ত! ছিপছিপে গড়ন , দেখতে ফর্সা, আর হাসিটা ভীষণ মিষ্টি।
শান্ত যখন হাসে তখন আমি চুপি চুপি দেখি, আর সেই হাসির দিকে তাকিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলি কোথায় যেন!
ওর দুষ্টু চাহনিতে আমার শরীরে অদ্ভুত শিহরন হয়। শিরা-উপশিরায় অদ্ভুত ঢেউ খেলে যায়, মনে হয় সেই চাহনির মাঝে নিজেকে বিসর্জন দেই, বিলিয়ে দেই নিজেকে।
আজ ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে শান্ত আইস্ক্রিম খাওয়াল আমাকে, রিংকি আর প্রিয়া কে। আর আমার দিকে শান্ত চেয়ে চেয়ে মিটি মিটি হাসছিল। আমার ভীষণ লজ্জা লাগছিল। ও সামনে আসলে কেন যেন আমি ওর দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারিনা। লজ্জায় লাল হয়ে যায় আমার গাল। আচ্ছা শান্ত কি বুঝতে পারে আমার এই পরিবর্তন? আমার ওর প্রতি অনুভুতিগুলি কি বুঝতে পারে শান্ত? কি জানি হয়ত বুঝে হয়ত বুঝে না।
আমি প্রেম পরেছি এটা নিশ্চিত বুঝতে পারছি। বার বার আয়নায় নিজেকে দেখি। কোন ড্রেস আমাকে বেশি মানাবে তা দেখি বার বার । নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে কেমন যেন লজ্জা অনুভব করি। লাজুক লাজুক ভাব ফুটে থাকে মুখে সবসময়।
আজ রাতে অনেক বৃষ্টি হল। আর আমি বৃষ্টিতে ভিজলাম, কতক্ষন ভিজেছি মনে নেই। তবে কয়েক ঘন্টা যে ভিজলাম তা বুঝতে পারছি। কারন আমাকে অনেক্ষন খুজে না পেয়ে আম্মু ছাদে চলে এসেছিল, আর সেকি বকা দিল। পারলে আমাকে মাইর দিত আম্মু। এতো পাগলামি আমি কেন করি? ড্রেস পাল্টে দেখি শান্তর ফোন এসেছিল ১০ বার। আমিতো দেখে খুবই অবাক। কারন শান্ত আমাকে ফোন দেয় না সহজে। অনেক রাত হয়ে গেছে, এখন কল ব্যাক করাটা কি ঠিক হবে? থাক কালই নাহয় ফোন দিব। সারারাত আর আমার ঘুম হলনা। কেন জানি বুকের ভেতরটা আনচান করছিল।
এয়ারপোর্টে বসে আছি রিংকি, প্রিয়ার সাথে। কাল শান্ত অনেক বার ফোন দিয়েছিল কারন শান্ত কানাডা যাচ্ছে ওর বাবার কাছে। ওর মায়ের মৃত্যুর পর ও নানার বাড়িতেই ছিল এতদিন। পরাশুনা নানার বাড়িতে থেকেই করেছে। এখন ওর কাগজপত্র ঠিকঠাক হয়ে যাওয়াতে কানাডা যাচ্ছে একেবারে। এতকিছু হল আমি কিছুই জানতে পারলাম না।
শান্তর বিমানটি চলে গেল। খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে বিমান চলে যাওয়ার পথের দিকে আমি চেয়ে রইলাম। নয়ন দুটি কষ্ট সইতে না পেরেই হয়ত অঝর ধারায় বয়ে চলল...............।।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ৯:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



