হে পুত্র আমার- তোমাকে আজন্ম আশীর্বাদ!
এ বাংলার নদী-মাঠ-পাহাড়-সবুজ-সমতল
উর্বরা সুফলা হোক তোমার কর্ষণে, ধ্যানে-জ্ঞানে
কার্তিকের ভোরে দীঘল প্রান্তরে, স্বপ্নের উঠোনে
ভ'রে উঠুক সোনালী ধান দু'হাতে তোমার।
শীতের শীর্ণতা পূর্ণতা পাক ঐ বসন্ত উৎসবে
ফাগুনের কোকিলেরা ডাকুক সবার আঙিনায়
ফুটুক প্রাণের শত ফুল সব জীবনের গুলবাগে ।
হে পুত্র তোমাকে দিলাম কবিতা- স্বপ্নাবিষ্ট গ্রন্থাগার
ক্ষুরধার কবির কলম, আদিগন্ত শব্দের নীলিমা
তোমার অন্তরে ফুটুক গোলাপ- মানবিক হৃদয়ের
অমল অক্ষরে লিখো তুমি জীবনের জয়গান।
তোমাকে দিলাম শৈশরেব ফুল, ফেলে আসা স্মৃতি
কৈশোরে ঘুড়ি ও লাটাইয়ে গোত্তা খাওয়া দুরন্ত দিন
লিকলিকে দেহে দুর্ভিক্ষের করাঘাত, জীবন সংগ্রাম
যৌবনে নিশ্চুপ না-পাওয়ার প্রহর, বিরহের ভার।
তোমাকে দিলাম কর্মজীবনের ক্লান্তি, বিষন্ন বিকেল
অধুনা জীবনে খাপ না খাইয়ে চলা, পথের পাথর
থরে থরে সাজানো দুঃখের অমিতাভ পদাবলী
আমৃত্যু হৃদয়ে আঁকো তুমি কবিতার ক্যানভাস।
হে পুত্র তোমাকে দিলাম আমার শ্যামল নিবাস
প্রাণেতে বাঁধন গড়ো, করো আমৃত্যু স্বপ্নের চাষ।
22.05.2006
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




