সে আমার দেশ, আলগ্ন সুন্দর ভূমি,
বিমূর্ত অঙ্গনে প্রতিদিন প্রতিরাত জেগে ওঠে তার উদ্ভাসিত মুখ।
কিশোরী বাতাস জুড়ে তার ভাষা, মুগ্ধ করে
জলের শরীর জুড়ে তার ছব, মুগ্ধ করে
নিঝুম বনের বাঁকে তার গান, মুগ্ধ করে।
স্বপ্নীল দু'চোখ ভরে আদিগন্ত নীল, আমাকে মোহিত করে
ছুটন্ত ঝর্ণার থেকে জীবনের গাথা, আমাকে সাহসী করে
মাঠের দিগন্ত থেকে উচ্ছ্বল বাতাস, আমাকে উদ্যমী করে
শ্যামল অঙ্গন থেকে কিশোরীর হাসি, আমাকে আবিষ্ট করে।
আমার জন্ম-মৃত্যুর পাশাপাশি থাকে এক প্রেম-
সে আমার দেশ, উদ্দাম প্রাণের পলি।
বিস্তৃত সবুজ জুড়ে থৈ থৈ নদীর যৌবন, আমি ভালোবাসি
নদীর বাঁকের থেকে বালুকার ধূ ধূ, আমি ভালোবাসি
শিশুর হাসি থেকে জ্যোছনার চাঁদ, আমি ভালোবাসি
বৃদ্ধের দু'চোখ জুড়ে স্বধীন সুরুজ, আমি প্রাণে ঢাকি
সুনীল আকাশ জুড়ে শান্তির পতাকা, আমি ধরে রাখি
বুকের জমিন জুড়ে রক্তের প্রতিজ্ঞা, আমি চেপে রাখি।
আমার জন্ম-মৃত্যু, ভালোবাসার পাশাপাশি থাকে এক নাম-
সে আমার দেশ, বিমুগ্ধ শৈশব মাতা।
এই বুক উচ্ছ্বল প্রাণের কলকল
এই বুক আমগ্ন শান্তির সরোবর।
ঘৃণার ভাগাড় থেকে শোনো যুদ্ধ, শোনো অপঘাত
এ মাটির বুক জুড়ে আছে স্বাধীন গোলাপ।
ঘাতক সন্ত্রাস থেকে শোনো মৃত্যুর আফিম
এ বুকের অতল গহীনে আছে রক্তের প্রতিজ্ঞা।
শোনো সন্ত্রাস- এই বুক তোমার নয়
শোনো মৃত্যু- এই মাটি নিঃস্ব নয়
শোনো অপঘাত- এই বাতাস ক্ষয়িত নয়্!
এই বুক জুড়ে আছে জীবন প্লাবন
এই বুক জুড়ে আছে রক্তের প্রতিজ্ঞা
ভালোবাসা ও মৃত্যুর পাশাপাশি সে আমার দেশ
সে আমার শোণিতে প্ল্লাবন!
সেপ্টেম্বর, 1988
ছবিটি পিএইচপিবিবি-এর সৌজন্যে
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




