এটা আমার জন্য দারুণ একটা খুশির খবর। বাস্তবে সামনাসামনি বসে তাঁর সাথে একান্তে কথা বলার সৌভাগ্য হয়েছিলো আজ আমার। অফিসিয়াল মিটিং-এ বেলা 11.45 থেকে 2.45 পর্যন্ত আমরা অফিসের কলিগরা একসাথে বসে তাঁর সাথে কথা বলেছি। জেনেছি অনেক কিছু। এ যাবৎ চ্যানেল টিভি বা পত্রিকায় তাঁর সম্পর্কে যা জেনেছি তার বাইরেও অনেক কিছু জানলাম। জানলাম হয়দার হোসেন-এর ছোটোবেলার কথা। তাঁর প্রকৃত শিল্পী হয়ে ওঠার কথা- জীবনের নানান ঘাত-প্রতিঘাতের গল্প।
হায়দার হোসেন। অন্তরে এবং বাইরে এক, অভিন্ন মানুষ। কোনো মুখোশ তিনি পরেন না। তিনি যা বিশ্বাস করেন দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন। বললেন স্বাধীনতা এবং সরকারী আমলা গান দু'টো গাওয়ার পর বিরূপ পরিস্থিতি এবং আমাদের রাজনীতিবিদ ও আমলাদের থেকে নেতিবাচক মন্তব্যের কথা। বললেন- প্রথম অ্যালবাম কেন এতো দেরিতে বের হলো সেসব না জানা কথা। তাঁর গানের লিরিক-কে কে কীভাবে বিশ্ল্লেষণ করছেন- কে কতোটুকু বিরূপ হচ্ছেন সেসব কথা।
শিল্পী হায়দার হোসেন সত্যিই সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন। এর প্রমাণ তিনি দিয়েছেন তাঁর লেখা ও সুর করা প্রতিটি গানে। তাঁর প্রথম অ্যালবামের প্রতিটি গান তাই মন কাড়ে। এখনও তিনি লিখে চলেছেন গণমানুষের গান। তাঁর নতুন লেখা গানের বেশ ক'টি লাইন আমাদেরকে শোনালেন। তাঁর নতুন গান উঠে এসেছে মুক্তিযোদ্ধার কথা, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীগুলো বিদেশের লোক নিয়োগ দেয়াতে দেশের ছেলেরা কীভাবে বেকার হচ্ছে আর তারা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা এসব কথা।
তবে সবচেয়ে ভালো লাগলো তাঁর মানসিক দৃঢ়তা। কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও জনমনের কথা বলা যায়, তাদের জন্য কিছু একটা করা যায়- এসবের গল্প আমাকে বেশ উদ্দীপ্ত করেছে। শুনলাম তাঁর সামাজিক কর্মকান্ডের কথা, সাংসারিক জীবনের কথা। সোশ্যাল ওয়ার্কের ব্যাপারে তিনি অবশ্য খুব কম মুখ খোলেন। আসলেই তিনি বিশাল মানুষ, বিশাল ব্যাপার-স্যাপার তাঁর! পূর্ণ হোক তাঁর পথচলা- বেঁচে থাকুক তাঁর শিল্পী সত্ত্বা। আমার বিশ্বাস মা-ভক্ত শিল্পী হায়দার হোসেন তাঁর গান নিয়ে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন অনেকদিন ।
16.01.2007
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।







