somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শেখ এম উদ্‌দীন
আমার ব্লগ আমার বাসার ড্রয়িং রুমের মত, আমি এখানে যেকোনো কিছু দিয়ে সাজাতে পারি আপনার পছন্দ না হলে বলতে পারেন আমার কোন আসবাবটির অবস্থান বা ডিজাইন আপনার পছন্দ হয় নি এবং কেন হয় নি। তবে তা অবশ্যই ভদ্র ভাষাতে। ভাষার ব্যবহার করতে জানা অনেক বড় একটি গুন

সত্য কথা বললে কি সর্বদাই বিপদ হয়?

০৯ ই মে, ২০১৫ বিকাল ৩:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উম্মে কুলসুমের মন খুব আজ উৎফুল্ল কারন আজ তাঁর ষষ্ঠ শ্রেণীর প্রথম ক্লাস।

স্কুলে ক্লাসে তাদের ক্লাস টিচার বলল সপ্তাহে একদিন (বৃহস্পতি বার) তারা ড্রেস বাদে অর্থাৎ অন্য জামা কাপড় পরে স্কুলে আসতে পারবে। এতে সকলেই খুব খুশি হল। কুলসুমদের ক্লাসে ফাতেমা নামে একটি মেয়ে পরে। ও অনেক অহংকারী ওর বাবা অনেক বড় চাকুরি করে তাই ক্লাসের তেমন কেউ ওর সাথে মিশে না। ফাতেমা দাড়িয়ে মিস কে বলল মিস আমি বুধবারেও সাধারণ কাপড় পড়তে চাই। মিস কিছুক্ষন চিন্তা করে বললেন ঠিক আছে তবে এটা শুধু ফাতেমার জন্য প্রযোজ্য।

এমনি ভাবে ক্লাসে সবাই বৃহস্পতি বারে স্কুল ড্রেস বাদে অন্য ড্রেস পরে আসতে থাকল। দেখা গেল ফাতেমা দুইদিন অন্য ড্রেস পরলেও কোন সপ্তাহেই এমন কি কোন দিনেও একই ড্রেস পরে না। অন্যদিকে ক্লাসের অন্য মেয়েরা এক বা দুই সেঁটের বেশি ড্রেস নাথাকাতে দুই এক সপ্তাহ পর পরই একই ড্রেস পরেই স্কুলে আসছে। এতে অবশ্য তাদের কোন মাথা ব্যাথা নাই তারা স্কুল ড্রেসের পরিবর্তে অন্য ড্রেস পড়তে পারছে এতেই খুব খুশি।

ফাতেমা ব্যাপারটা প্রথম সকলের নজরে আনল। সে কুলসুম সহ অন্যান্যদের ডেকে বলল আমার বাবা অনেক বড় চাকুরি করে এবং আমাকে অনেক আদর করে। বাবা প্রায় প্রতিদিনই বেতন পায় এবং আমার জন্য নতুন জামা কিনে দেয়। দেখনা তোমরা একই জামা কিছুদিন পরপর পরে আসো কিন্তু আমি এক জামা এক দিনের বেশি পরি না। কুলসুম জিজ্ঞেস করল তোমার বাবা কিসে চাকুরি করে? ফাতেমা বলল আমার আব্বু টি এন ও। অনেক বড় চাকুরি। তোমার বাবা কি করে? কুলসুম বলল বাবা ব্যাংক মানেজার। ফাতেমা বলল তাহলে তো তোমার বাবা ও তোমাকে অনেক জামা কিনে দিতে পারে। তোমার বাবা আসলে তোমাকে আমার বাবা আমাকে যেমন ভালোবাসে তেমন ভালো বাসে না। কুলসুম কিছু না বলে আলচনা স্থল ত্যাগ করল।

কিছুটা মনখারাপ করেই আজ সে বাড়ি ফিরল। রাতে বাবা ফিরার পরে জিজ্ঞেস করল আচ্ছা বাবা টি এন ও রা কি দৈনিক বেতন পায়? আর তুমি কেন টি এন ও হলে না? বাবা হেসে বলল নারে পাগলী টি এন ও আর আমি প্রায় সমান বেতনই পাই। আর টি এন ও হতে হলে আরেকটা পরীক্ষা দেয়া লাগে এবং একটা নিদ্রিস্ট বয়স এর মধ্যেই তা দিতে হয়। আর যে যেই চাকুরি ই করুক না কেন মাসে এক বাড়েই বেতন পায়। তবে কেউ যদি ঘুষ খায় তা অন্য কথা। আমি তো মা এই হারাম ঘুষ খাই না তাই মাসে একবারেই বেতন পাই। বলেই তিনি জিজ্ঞেস করলেন হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন। কুলসুম বলল এমনি বাবা।

পরদিন ফাতেমা টিফিন এর সময় আবার একই ভাবে তাদের বৃত্ত বৈভব নিয়ে আলাপ করতেছিল। তাঁর মায়ের শাড়ি গহনা, নিজের জুতা জামা এগুলো নিয়ে অনেক অহংকার করে কথা বলতেছিল। এমন সময় কুলসুম বলল আর অহংকার করিস না, তোর আর আমার বাবা প্রায় সমান বেতন ই পায়। আর তোর বাবা আমার বাবার মতই মাসে একবার বেতন পায়। আর যে বললি প্রতিদিন বেতন পায় ওইটা আসলে ঘুষ। তুই ঘুষ খোরের মেয়ে। ঘুষের টাকাতে কেনা জামা নিয়ে বড়াই করতে তোর লজ্জা করে না!! এই কথা শুনে ফাতেমা কান্না কাটি শুরু করল। পরে মিস এসে ফাতেমা কে রিক্সা করে বাড়ি পাঠীয়ে দিল।

কুলসুমের বাবা অফিসে এসে বসতে বসতেই তাঁর টেলিফোন বেজে উঠলো। ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে একজন বলল ম্যানেজার সাহেব?

(সালাম বিনিমএর পর)

কুলসুমের বাবাঃ হ্যা বলুন।

অপর প্রান্তঃ আমি টি এন ও "ক" বলছিলাম।

কুলসুমের বাবাঃ ওহ কেমন আছেন টি এন ও সাহেব?

টি এন ওঃ আছি ভালই। ভাই আপনাকে একটা দাওয়াত দিতে ফোন করেছি। আর তা হল আজ রাতে আমার বাসাতে আপনার মেয়ে কুলসুম কে নিয়ে খাওয়া দাওয়া করবেন।

কুলসুমের বাবাঃ কি ব্যাপারে হঠাৎ দাওয়াত দিচ্ছেন যে।

টি এন ওঃ আরে আসেন বাসাতে আগে আপনার ভাবি সহ একটু আলাপ ছিল। ও ভাবিকেও নিয়ে আসলে ভালো হয়।

কুলসুমের বাবাঃ আচ্ছা আমি কুলসুম কে নিয়ে আসব। আপনার ভাবি আবার অপরিচিত কারো বাসা অর্থাৎ অনাত্মীয় কারো বাসাতে যান না।

এর পর বিদায় নিয়ে দু জনেই নিজেদের কাজে মন দিল।

বাসাতে ফিরার পথে কুলসুমের বাবার মনে হল দুদিন আগে কুলসুম টি এন ও দের বেতন নিয়ে কি যেন বলছিল আজ আবার উনি কুলসুম কে নিয়ে ওনার বাসাতে খেতে বললেন। কোন সমস্যা করল না তো মেয়েটা?

টি এন ও সাহেবের বাসাতে ঢুকতেই ফাতেমা কুলসুম কে দেখে ড্রয়িং রুম থেকে চলে গেল। তেমন কিছুই না বলে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে করতে ম্যানেজার সাহেব এবং টি এন ও সাহেব তাদের খাওয়া দাওয়া সারলেন। এর পর টি এন ও সাহেব কুলসুমকে কোলে নিয়ে ম্যানেজার সাহেব কে নিয়ে ফাতেমার রুমে গেলেন। ফাতেমা সেখানে মুখ হাড়ি বানিয়ে চিন্তা করতেছিল এই মেয়ে বাবাকে কত খারাপ একটা গালি দিয়েছে বাবা আবার ওর বাবাকে সহ দাওয়াত করেছে। এখন আবার এই মেয়ে কে কোলে ও নিচ্ছে। টি এন ও সাহেব কুলসুম কে কোলে নিয়েই ফাতেমার আম্মাকেও ডাকল। উনি আসার পরে টি এন ও সাহেব বলল মা তুই যে আমাকে ঘুষখোর বলেছিলি না আমি আসলেই ঘুষখোর। আর আমি কি জন্য ঘুষ খাই জানিস মা, আমি ঘুষ খাই আমার মেয়ের একেক সপ্তাহে একেক রকম জামার আবদার মিটাতে, আমি ঘুষ খাই তোর কাকির প্রতি মাসে নতুন শাড়ি কিনতে, আমি ঘুষ খাই তোর কাকির আর তোর বান্ধবির প্রতি দু মাস অন্তর নতুন নতুন ডিজাইনের গহনা গড়ে দিতে।

তোর বাবা বড়ই ভাগ্যবান যে তোর মত মেয়ে আর তোর মায়ের মত বউ পেয়েছে। যেই মেয়ে দু সেট কাপড়েই সন্তুষ্ট। যেই কারনে তোর বাবার ঘুষ খাওয়া লাগে না। তবে আজ তোকে আমি কথা দিচ্ছি এদের আর কোন চাহিদা পুরনের জন্য আমি ঘুষ খাব না।

ম্যানেজার সাহেব কি বলবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না, তিনি বলে উঠলেন ভাই বাচ্চা মেয়ে হয়ত খেলারছলে বলেছিল আপনারা কিছু মনে করবেন না। টি এন ও সাহেব ম্যানেজার সাহেব কে থামিয়ে দিয়ে বললেন "নাহ ম্যানেজার সাহেব আমি কিছু মনে করি নি, এমন একটা কথা যে আমার শুনার বড়ই দরকার ছিল। আপনার মেয়ে আমার মায়ের মত আমাকে শুধরে দিল।'



এর পর অন্যান্য কথার পরে ম্যানেজার সাহেব কন্যা কুলসুমকে নিয়ে বিদায় নিয়ে চলে এলেন নিজের বাসাতে।


যারা তাদের বাবা/ স্বামী কে এমন দৈনিক বেতন তুলতে বাধ্য করছেন তারা একটু ভেবে দেখুন না আপনাদের একটু হিসেব করে চলাই হয়ত একজন ব্যাক্তিকে দুর্নীতি মুক্ত রাখতে পারে। তবে কেউ যদি নিজে ইচ্ছা থেকেই দুর্নীতি করে তাঁর জন্য এই সুত্র প্রযোজ্য নহে।


বিদ্রঃ এটা সম্পূর্ণ সত্যি ঘটনা এবং উম্মে কুলসুম আমার বড় বোন।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১৫ ভোর ৬:৫৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×