আমি একজন ক্ষুদ্র শিক্ষক ছিলাম তাই অনেক কিছুতেই শিক্ষকতার উদাহরণ টেনে আনতে হয়।
আমার শিক্ষকতা জীবনের প্রথম ক্লাস ছিল সেন্ট জোসেফ স্কুলের ক্লাস এইট এম সেকশনে। ইতিপূর্বে ১০০ জন ছাত্র নিয়েও পার্টটাইম ক্লাস করিয়ে এসেছি আর কোচিং এ যে কত ক্লাস নিয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। তাই অনেকটা ওভার কনফিডেন্ট ছিলাম এই ৫০ জনের ক্লাস নিয়ে। কিন্তু ক্লাসে শিক্ষার্থীগণ আমার আশঙ্কার চেয়ে আশংকা জনক ভাবে দুষ্ট ছিল। ক্লাস পুরোপুরি কন্ট্রোলে আনতে পারলাম না। পরদিন ব্রাদার লিও কে বললাম ব্রাদার আপনি যদি আমার ক্লাস চলাকালিন একটু আমার ক্লাসের কাছাকাছি থাকতেন তাহলে আমি ক্লাস হয়ত ভালভাবে কন্ট্রোল করা যেত। ব্রাদার উত্তরে বললেন “মাহাতাব স্যার এই প্রতিষ্ঠানে আপনাকে অনেক দিন শিক্ষকতা করতে হবে তাই প্রথমেই আমার ক্ষমতা ব্যাবহার করে ক্লাস কন্ট্রোল করার চেয়ে নিজে কিছু করে দেখেন”। কথাটা খুব ছোট কিন্তু এর তাৎপর্য যে ব্যাপক তা আমি বুঝে গেলাম এবং সেন্ট জোসেফ স্কুলের সদস্য হিসেবে এই একটি কথার শিক্ষা সারাজীবন আমি মেনে চলব বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। এর পরে আলহাদুলিল্লাহ ঐ প্রতিষ্ঠানেই ১০০-১২০ জন ছাত্রের ক্লাসেও আমাকে বেগ পেতে হয় নি কখনো।
একজন শিক্ষক যত ভালো শিক্ষকই হন না কেন তিনি যদি ক্লাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তাহলে তার জ্ঞান আর উলুবনে মুক্ত এই দুটি কথার কোন পার্থক্য থাকে না। আর যে শিক্ষক একটি ক্লাস সুচারু রুপে পরিচালনা করতে পারে সে রাষ্ট্রের সকল দায়িত্ব পালনে সক্ষম বলে আমি মনে করি। উদাহরণ ভারতের সর্বকালের সেরা রাষ্ট্রপতি জনাব এ পি যে আবুল কালাম (দলীয় লেজুরবিত্তি হীন শিক্ষক)। কারন একটি ক্লাসে ফাকিবাজ, ধুরন্ধর, পড়া চোর, অমনোযোগী, উদাসী, ভালো, আগ্রহী, ইত্যাদি সকল গুনের অধিকারী ছাত্রছাত্রী থাকে। তাই একটি দেশের সকল প্রকারের মানুষের সমন্বয়ে ই একটি ক্লাস গঠিত।
সম্প্রতি সালাউদ্দিন আহমেদ এর ফিরে আসা নিয়ে আমাদের দলকানা ব্যাক্তি বর্গ একেকজন একেক ররকম মন্তব্য করছেন। আপনি যদি দলকানা হন তাহলে এই লেখা পড়ে আপনার কাজ নাই কারন আপনার বিবেক এক মুখি হয়ে গেছে। এই ব্যাপারে আওয়ামীলীগ পন্থী গন হাস্যরস করে কথা বলছেন, কেউ আবার বলছেন বি এন পি এর চাল ভেস্তে গেল। আর বি এন পি পন্থীগণ এটাকে সরকার দলীয় ষড়যন্ত্র বলেই খালাস পেল। আর সুবিধাবাদিগন উভয় পক্ষ হইতে সুবিধা নিতে ব্যাস্ত।
২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতের সামনে থেকে একই ভাবে সুখরঞ্জন বালিকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হইল। ছয়-সাত সপ্তাহ পরে তাকে ভারতে পাওয়া গেল এখন তিনি ভারতের কারাগারে। সালাউদ্দিন সাহেব ও একই ভাবে নিখোঁজ থেকে এখন ভারতের মানসিক হাসপাতালে। গত কাল তিনি উদয় হলেন আবার গতকালই একজন ব্লগার কে হত্যাকরা হল।
ঘটনাগুলো কি একটি একটির সাথে সম্পর্ক যুক্ত নয়? একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের এমন গ্রেফতারের পরে অন্য একটি দেশে পাওয়া কি সঠিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার স্বল্পতার দিকে আঙ্গুল তুলে না? একের পর এক ব্লগার হত্যা, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা ও একটি ঘটনাতে প্রকৃত দোষী খুঁজে না পাওয়া কি কোন অশুভ ইঙ্গিত বহন করে না?
পহেলা বৈশাখে দুষ্ট ছেলেরা দুষ্টামি করল, দুষ্ট কিছু আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য গন নারায়ণগঞ্জে ৭ জনকে মার্ডার করল, একই রকম দুষ্ট গন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটাল, আরও কিছু দুষ্ট ছেলে পেট্রোল বোমাগুলো মেরে নিরাপদে মায়ের কোলে ফিরে গেল, দুষ্ট ছেলের দল ব্লগারদের হত্যা করল সবই মানলাম কিন্তু আপনার এই দেশ রুপি ক্লাসে যে অনেক ভালো ছেলেও আছে এই দুষ্ট ছেলের দলের এই দুষ্টমির দরুন তারা যদি তাঁদের শিক্ষার আগ্রহ হারিয়ে দুষ্ট হয়ে যায় কিংবা তাঁদের স্বাভাবিক জীবন এর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে তাহলে এর দায় কি ক্লাস টিচার হিসেবে আপনি এড়িয়ে যেতে পারবেন?
তাই একটি ক্লাস এ যখন অন্যের সাহায্য লাগে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য তখন বুঝে নিতে হবে এই শিক্ষক অযোগ্য তেমনি একটি স্বাধীন দেশের যদি এমন পরিস্থিতি হয় তাহলে আমরা যদি বলি এই পরিচালনা পর্ষদ অযোগ্য তাহলে খুব বেশী বলা হয়ে যাবে।
সালাউদ্দিন এবং সুখরঞ্জন অন্তত এই হিসেবে ভাগ্যবান যে চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলী সহ অন্যান্যদের মত তারা মরিয়া প্রমাণ করতে হয় নাই যে তারা অপহৃত হয়েছিলেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


