somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শেখ এম উদ্‌দীন
আমার ব্লগ আমার বাসার ড্রয়িং রুমের মত, আমি এখানে যেকোনো কিছু দিয়ে সাজাতে পারি আপনার পছন্দ না হলে বলতে পারেন আমার কোন আসবাবটির অবস্থান বা ডিজাইন আপনার পছন্দ হয় নি এবং কেন হয় নি। তবে তা অবশ্যই ভদ্র ভাষাতে। ভাষার ব্যবহার করতে জানা অনেক বড় একটি গুন

পার্টি যদি অপচয়ের জন্য হয় সেই পার্টি না করে একজন ছিন্নমূল মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটানো অনেক প্রশান্তির

০৬ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ৭:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০১০ এর দিকে মোহাম্মদপুরে থাকি বাসার অদুরে টাউন হল। একদিকে ময়লার ভাগার অন্যদিকে জান্নাত রেস্টুরেন্ট এর মৌ মৌ গন্ধের ইফতারির পশরা। আমার উদ্দেশ্য এক বাটি হালিম কিনব। ইফতারি সাধারণত কাছের রেস্তরা হতেই কিনি। রাস্তার উল্টো পাশ হতে জান্নাতের পাশে যাওয়ার সময় ময়লার ডিপোতে কেন যেন চোখ গেলো। দেখলাম দুটি বাচ্চা কি যেন খুজছে ওখানে। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই ভয় পেয়ে বলল "স্যার আমরা ময়লা ফালাইতেছি না পরলেও উডাইয়া রাইখা জাইমু"। ভোলার আঞ্চলিক ভাষা শুনে জিজ্ঞেস করলাম বাড়ি কোথায় বলল স্যার "ভোলা আছিল নদী ভাইঙ্গা লাইছে এহন বেরিবাধের বস্তিত থাহি"। আরও কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কি করছ এখানে।

উত্তর যা এলো তা মোটামুটি এমন- ওদের মা বাসাতে কাজ করে বাবা নেই। গত দুই দিন যাবত মা কাজে যেতে পারছেন না অসুস্থতার জন্য। ঘরে যা ছিল তা এই দুই দিনে খাওয়া শেষ। ওরা দুই ভাই বোন টোকাই এর কাজ করে কিন্তু আজ তেমন ভালো কিছু পেলো না তাই এখানে কালকের না উচ্ছিষ্ট ইফতারি আছে কিনা তাই খুঁজছে। সেন্ট জোসেফে চাকুরির সুবাদে এবং সেই ২০০৩ সাল হতে মোহাম্মদপুর আশা যাওয়াতে ওখানে কি পরিমাণ ইফতারির অপচয় হয় তার সাম্যক ধারনা ছিল। নিজের অবস্থানের জন্য আল্লাহ্‌কে অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে ওদের বললাম আমার সাথে এসো, নিয়ে ওদের কিছু ইফতারি এবং বিরয়ানী কিনে দিলাম। বিশ্বাস করবেন না ওদের মুখ দেখে মনে হচ্ছিল ওরা হয়ত চাঁদ টাকে হাতে পেয়েছিল।

দেশ নাকি মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছে। শুনতে ভালই লাগে। এর প্রমান সরুপ ইফতার পার্টি নামক অপচয়ের (গুটিকতক বাদে) সাথে সেহেরি পার্টিও নাকি যোগ হয়েছে। একটি দেশের মানুষ কত অপচয় করে তা হতেই বুঝা যায় সেই দেশ ধনী না গরীব এটা মধ্যপ্রাচ্যের বিত্তশালী মানুষগুলোর (কিছু ব্যাতিক্রম বাদে) ধ্যান ধারনা। বাঙ্গালী আমেরিকা কিংবা ভারত পন্থী হলেও অপচয়ে কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য পন্থী তা না হলে নিজের বাসা রেখে এই ভোর রাত্রে এমন পার্টিতে যাওয়ার কোন কারন আমি খুজে পাই না যদিও প্রথম আলো মনে হয় এই প্রথম কোন মধ্যপ্রাচ্য ঢঙের আনুষ্ঠানিকতাকে সমর্থন দিল। এক বোনের পোষ্টে দেখলাম এই পার্টিতে ডিজে এবং মদ ছাড়া সব হয়। রমজান পবিত্রতার মাস সেই মাসে এই ভোররাতের পার্টি কেমন যেন আমাদের বক ধার্মিকতাকেই মনে করিয়ে দেয়। মধ্যম আয়ের দেশেও ছবির দুই বোন খাবারে ডিপো ডাস্টবিনে হানা দিয়েছে। একটু ভালো থাকার জন্য এই মধ্যম আয়ের দেশের মানুষ সর্বশ বিক্রয় করে সুখপাখি হাতে পেতে ট্রলারে সাগর পারি দেয়।

আপনার স্টারের খাবার খানা ঘরে তৈরি করে খেলে যত টাকা বাচবে তা দিয়ে সাড়া রমজানে ১০ জনকে ইফতার করানো যাবে। কারন সরবরের হিসাবে ওরা ১৫০ টাকা দিয়ে একজন রোজাদারকে সাড়া মাস ইফতার কিভাবে করানো যায় তার হিসাব দিয়েছিল। আসুন এই সকল প্রাচ্য পশ্চিমের আগ্রাসন মুক্ত সত্যিকারের বাংলা গড়ি। কাল তো একজন বললেন "বললেন যতদিন উনাদের মনে ভাষা, বঙ্গবন্ধু এবং রবীন্দ্রনাথ থাকবেন ততদিন তালেবানেরা এই বাংলা দখল করতে পারবে না"। উনার পূর্বের বক্তব্যের আলোকে এই তালেবান মানে আফগান তালেবান নয় এই তালেবান মানে সত্যিকারের মুসলিম গন এটা বুঝতে বিজ্ঞ হবার দরকার নাই। আফসোস বঙ্গবন্ধুর অনুসারীগণ ওনার প্রতি এমন মিথ্যাচারের কোনই জবাব দিল না। আর শহীদ ভাষা সৈনিক সবাই ছিলেন মুসলমান অর্থাৎ যতদিন এই রবীন্দ্রনাথ আছেন তত দিন বাংলা তালেবান না হলেও এই পশ্চিমা বা মধ্যপ্রাচ্য হবেই। নজরুল জাতীয় কবি হলেও তাঁকে মনে রাখা যাবে না কারন তিনি এই ভোগ বাদের বিরোধী এবং বাংলার সবচেয়ে শক্তিশালী ধর্ম নিরপেক্ষ কবি ছিলেন যার প্রমান তাঁর সাহিত্য। তাই আসুন নিজেদের ঐতিহ্য ধারন করি বাঙ্গালী হই পশ্চিমা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের ঢঙে নয় বাঙ্গালীর ঢঙে। যে বাঙ্গালীরা সকল ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে পাশাপাশি শান্তির সাথে বসবাস করতেন। যে বাংলাতে এদের মত মুক্তমনাদের অপপ্রচার থাকবে না, যে অপপ্রচার শুধু ধর্মীয় সম্প্রতি নষ্ট করেছে দিতে পারে নি কিছুই।

পরিশেষে বলব অপচয় না করলেও জীবন কে উপভোগ করা যায়। অপচয় মানেই জীবনকে উপভোগ এটা অন্ধ মধ্যপ্রাচ্য বাসীদের ধারনা। এই ধারনা হতে বের হয়ে আসুন এবং এমন ডাস্টবিনে খাবার খোঁজা মানুষদের একটু খুশি করুন।


সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ৮:১৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

never give up!!! চেষ্টাটা যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হয়....

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১০



অনেকেই নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। বলেন- ''ভাই, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আজ আমার এই অবস্থা।'' অনেককে এও বলতে শুনেছি- ''আজ ভাগ্য সহায় থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।''
.
এইসব মানুষদের আমি বলি- ''শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×