মুক্তিযোদ্ধাদের আমাদের দেশে অগাধ সম্মান। ৩০% চাকুরীর কোটা, চাকুরীর বয়স ২ বছর বেশি, ভাতা আর এই সব না পেলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদাতে সৎকার যে পাবে টা নিশ্চিত।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সদস্যসচিব আইয়ুব খান দেশের জন্য প্রানপন যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করে হয়ত মনে করেছিলেন দেশকে হায়েনা মুক্ত করতে পেরেছেন। কিন্তু হায়েনারা যে নির্মূল না করলে যেকোনো অর্জনকে ধুলিস্মাত করে দিতে পারে টা উনার ধারনার বাইরে ছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যে মন্ত্রণালয় এর সৃষ্টি সেই মন্ত্রণালয় এ নাকি জেলা ইউনিট কমান্ড ঘোষণা দেয়ার জন্য সচিব মহোদয়কে মাছ, শুঁটকি ও টাকা দেওয়া লাগে ঃও। শুধু তাই নয় এইসব দিয়েও সেই কমান্ড ঘোষণা যখন তিনি পেলেন না তখন ঐ টাকা ফেরত চাওয়াতে তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে এই সচিব মহোদয় বের করে দেন।
গতকাল কয়েকজন সচিবের কথা বলেছিলাম আজ আরেকজন সচিবের কথা বললাম যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার কাছথেকে ঘুষ নিতে পিছপা হন নি। "বাংলাদেশের সরবচ্চ অর্জন টিকে যে ওরা ব্যবসার বস্তুতে রূপান্তরিত করবে জানলে মুক্তিযুদ্ধ করতাম না" মুক্তিযোদ্ধা কাজী আফতাব উদ্দিন এবং সার্টিফিকেট বিহীন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুশ শহীদ হাওলাদার দুজনেই এই উক্তি আমার সাথে করেছিলেন একটি বড় দীর্ঘশ্বাসের সহিত।
আইয়ুব খান মরে গিয়ে যেই সম্মান টুকুন নিশ্চিত ছিল তা না হয় পেলেন কিন্তু যারা জীবিত সতিকারের মুক্তিযোদ্ধা তাঁদের কতটুকুন সম্মান আমরা দিচ্ছি? সাহেব আলী আজো অভুক্ত, কাজী আফতাব কাকা আজো একটি টুলের উপর ঘুমান কারন দেশের মানুষের কাছে যে অঙ্গিকার করে স্বাধীনতা এনেছিলেন তার সিংহ ভাগই অপূর্ণ। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে তার সন্তানের চাকুরীর জন্য ঘুষ দিতে হয় যেই দেশে সেই দেশেই আবার অনেক মুক্তিযুদ্ধের কথিত সংগঠক গণ গাড়িতে পতাকা ঝুলিয়ে ঘুরে। যারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারতে নিরাপদে থেকে তৃণমূলের নেতাদেরকেও ভারতে আশ্রয় নিতে বলতেন কারন তাঁদের ধারণা ছিল না যে আদম্য বাংলাদেশী চাষা, শ্রমিক, মজুর, তাতি, সিপাহী, ছাত্র জনতা এই দেশটিকে ৯ মাসে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে স্বাধীন করে ফেলবে। এই যে যারা শহীদ হয়েছেন এই স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁদের কি অবস্থা তাঁদের তো রাষ্ট্রীয় মর্যাদাতে দাফন টুকু ও ঠিক মত মিলে নাই।
আপনাদের কি ভয় হয় না? এই অকুতোভয় লরাকুদের স্বপ্নকে এই ভাবে পদদলিত করতে? কেন যেন মনে হয় মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস এবং সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের দেখা স্বপ্নগুলোর বাস্তবায়নের জন্য দেশে আরেকটি যুদ্ধ হবে। যেই যুদ্ধে ঐ সকল মেকী চেতনাজিবি, চেতনা ব্যবসায়ী এবং এমন সব অসৎ লোকগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা পাব সত্যিকারের স্বাধীন বাংলা যেখানে কোন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে আত্মহত্যা করতে হবে না, হবে না কোন মুক্তিযোদ্ধার অপমান। সাম্যের বাংলাদেশের অপেক্ষাতে থাকলাম জানি না কবে তার বাস্তবায়ন হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


