বেশ কদিন যাবৎ লক্ষ করলাম এ বিষয় নিয়ে আমাদের চায়ের টেবিল হতে পত্রিকার পাতা সব কিছু উত্তপ্ত। এই বিষয় তিন শ্রেণীর মানুষের জন্ম দিয়েছে-
প্রথম দলঃ এরা নিজেদের একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বলে দাবী করে। ১৯৫৫-৬১ সালে জন্ম হলে যুদ্ধ করত কিনা আল্লাহই ভালো জানেন। যাই হোক এদের দাবী ত্রিশ লক্ষ ব্যক্তিই নিহত হয়েছেন কিছু কম বা বেশি না।
দ্বিতীয় দলঃ এরা বিভিন্ন যুক্তি তর্কের মাধ্যমে বুঝাতে চাচ্ছেন প্রথমোক্ত ব্যক্তিবর্গ মিথ্যাবাদী। এরা সমীকরণ দেখাচ্ছেন নয় মাসে এত সংখ্যক লোক মারা যাওয়া সম্ভব নয়। প্রথম দলের মতে এদের মধ্যে যদি কোন মুক্তিযোদ্ধা কিংবা তাঁদের সন্তান বা বীরাঙ্গনা ও থেকে থাকে তাহলে ওনারাও রাজাকার। কারন মুক্তিযুদ্ধের নতুন কাণ্ডারিদের মতামতের বিরোধিতা এরা করেছে।
তৃতীয় দলঃ এরা কোন কথা না বলে চুপচাপ কাদের পাল্লা ভারী তা অবলোকন করছে।
দুঃখের বিষয় হল এরা সকলেই নিজেদের সম্পূর্ণ সঠিক বলে মনে করছে। বিষয়টি নিয়ে আমিও ভেবেছি এবং নিজের জ্ঞানের স্বল্পতার জন্য কোন সিদ্ধান্তে আজও পৌছাইতে পারি নাই। তবে কিছু ব্যাপার আমার মনে হয়েছে এই তিন দলের ব্যক্তিরাই ভুলে যাচ্ছেন। আর তা হল-
১। প্রথম দল কি একবারও ভেবে দেখেছেন আজ স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরেও কেন এই তিরিশ লক্ষ শহীদের পরিবারকে কিংবা তাঁদের জীবিত আত্মীয়কে রাষ্ট্র একটি সম্মাননা জানাতে পারল না?
২। আপনাদের কি কখনো মনে হয়েছে আগামি ২০০ বছর পরের প্রজন্ম যখন জানতে চাইবে আমার ইউনিয়নে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে কতজন মারা গিয়েছে বা এরা কারা তখন আপনাদের মত এত বড় বড় মনীষীগণ কি জবাব দিবেন? ১০০% না হলেও ৮০% ভাগ লোকের নামও যদি আমরা জানতে পারি বা তাঁদের সম্মাননা দিতে পারি তা কি আমাদের জন্য কোন ভালো অর্জন হবে না?
৩। দ্বিতীয় দলের লোকজন কি একবার ভেবে দেখেছেন, ১০০ নারীকে ধর্ষণ করা আর ১০০০০০০ নারীকে ধর্ষণ করার বীভৎসতা, পশুবৃত্তি, অপরাধ এর জ্বালা কিংবা দুঃসহতার মধ্যে কোন কমতি নেই। এ এক জঘন্য অপরাধ যা কখনো ক্ষমার যোগ্য নয়। "ব্যাতিক্রম আপনি যদি সেঞ্চুরিয়ান মানিক হন তাহলে প্রথম কিংবা দ্বিতীয় কেউ এটাকে মানবতা বিরোধী অপরাধ মনে করবে না। দুই দলই বলবে এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা"।
৪। আপনারা কি মনে করেন যুদ্ধ ক্ষেত্রে বেসামরিক জনগনের এমনকি কারো ভাই বা ছেলে যুদ্ধে গেছে শুনে পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে মানুষ মেরে ফেলার অপরাধের তীব্রতা শুধু সংখ্যা নির্ভর? নাকি এই জঘন্য অপরাধের সংখ্যা কম হলে তা ক্ষমার যোগ্য??!!!
৫। তৃতীয় দলের লোক বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময় হতে আজও আছে, এরা সর্বদা খাটের নিচে লুকিয়ে যুদ্ধ অবলোকন করবে এবং যুদ্ধ শেষে নিজেদের বীর কিংবা নিজেদের মন মত কিছু তৈরি করে একেই ঐ পরিস্থিতির সবচেয়ে নির্ভর যোগ্য দলিল বলে দাবী করবে। এদের দাবীর বাস্তবায়নের জন্য ভেড়ার পালের অভাব বাংলাতে মুক্তি যুদ্ধের পরে কখনো কম হয় নাই।
যে বীভৎসতা বাঙ্গালী দেখেছে তা যেমন সংখ্যার মারপ্যাঁচে ফেলে বাঙ্গালীর হৃদয় হতে মুছে দেয়া যাবে না তেমনি তাঁদের স্বীকৃতি না দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের যতই স্বপক্ষের শক্তি দাবী করেন না কেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রশ্ন বাণ হতে নিজেদের মুক্ত করতে পারবেন না।
শহীদের যথাযথ সম্মান জানানো হোক এটাই একমাত্র প্রত্যাশা। আমার গ্রামের এক বাড়ির এক দুপুরে ৬ জন মানুষকে মেরে ফেলল পাকিরা কিন্তু আজও তাঁদের কবর টুকুন পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চিনে কিনা সন্দেহ। মুক্তি যুদ্ধের ৪৩ বছর পড় ভোলার এক বীর যার বীরত্ব তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ দের কাতারে নিয়ে যেতে পারে সেই শহীদ মুস্তাফিযের কবরের সন্ধান লাভ কি আপনাদের লজ্জিত করে না? লজ্জা তো আপনাদের নেই আপনারা ভেড়ার মত শুধু নিজেদের কিংবা প্রভুদের প্রোপাগান্ডা বাস্তবায়ন করতে ভ্যা ভ্যা করে যাচ্ছেন।
আল্লাহ্ আমাদের দেশকে আপনাদের মত বুদ্ধিমানদের হাত হতে হেফাজত করুন। আমীন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





