somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শেখ এম উদ্‌দীন
আমার ব্লগ আমার বাসার ড্রয়িং রুমের মত, আমি এখানে যেকোনো কিছু দিয়ে সাজাতে পারি আপনার পছন্দ না হলে বলতে পারেন আমার কোন আসবাবটির অবস্থান বা ডিজাইন আপনার পছন্দ হয় নি এবং কেন হয় নি। তবে তা অবশ্যই ভদ্র ভাষাতে। ভাষার ব্যবহার করতে জানা অনেক বড় একটি গুন

দূরে যাবার গল্প

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৯:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০২৫ সাল

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব রুমনের কৃতিত্বে উপজেলার একমাত্র সরকারী বিদ্যালয় ভবনের বীম এবং পিলারে ৩০% মুলিবাঁশ ব্যাবহারের চক্রান্ত ভেস্তে গেছে!

চারদিকে রুমনের প্রশংসা! অপরদিকে এ কাজের ঠিকাদার ক্ষমতাশীন দলের চ্যালা মানিক এ রুমন কমবখতের এমন অপরিনামদর্শী আচরনে যার পর নাই বিরক্ত! অন্য ঠিকাদাররা যেখানে ৪০-৫০% বাঁশ ব্যাবহার করে সেখানে মানিক স্কুল ভবন বলে মাত্র ৩০% বাঁশ ব্যাবহারের মত মহত চিন্তা করল! মানিক এ বিষয়ে পার্টির হাই কমান্ডে একটি যথাবিহিত ব্যবস্থা নিতে জানিয়ে রেখেছে।

পরদিন সকালে রুমন সাহেব তাঁকে ও এস ডি করার কাগজ হাতে পেয়ে অবাক হয়ে গেলেন, এত ভালো একটি কাজের প্রতিদান কি এই? এ ঘটনা জানাজানি হলে উৎসুক জনতা রুমন সাহেবের উপর এ নির্দেশ প্রত্যাহারের জন্য আন্দোলন শুরু করল। এ আন্দোলন এতোটাই তীব্র ছিল যে স্থানীয় সাংসদকে রুমন সাহেবের ও এস ডি হওয়ার আদেশ বাতিলের মুচলেকা দিয়ে আন্দোলন প্রশমিত করতে বাধ্য হন।
৭ দিন পরে রুমন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে একটি চিঠি পান এই মর্মে যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে দেখা করতে বলেছেন। রুমন সাহেব তো মনে মনে বেজায় খুশি, এই বুঝি সততার জন্য বিশাল কিছু পুরুস্কার পেতে যাচ্ছেন!

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এসে উনাকে পেলেন না। উনি জরুরি কাজে বাইরে আছেন। রুমন সাহেব যে মুহূর্তে অপেক্ষা করে দেখা করে যাবেন সিদ্ধান্ত নিতে যাবেন ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রধানমন্ত্রীর এ পি এস জাবেদ সাহেব তাঁকে ওনার রুমে ডেকে পাঠালেন। রুমন সাহেব রুমে ঢুকে বসতে না বসতেই উনার হাতে একটা খাম ধরিয়ে দিয়ে বললেন পড়তে। রুমন সাহেব নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল! তার বিরুদ্ধে এলাকার শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং এর জন্য তাঁকে মনপুরার ইউ এন ও করা হয়েছে। সাথে এই বলে সাবধানও করা হয়েছে যে ওখানে এমন কিছু ঘটলে তাঁকে এর চেয়ে চরম মূল্য দিতে হবে!

অবাক রুমন হলের বড়ভাই জাবেদ সাহেব কে প্রশ্ন করলেন ভাই এ কেমন বিচার! উনি বললেন, হলের ছোট ভাই হওয়াতে এ যাত্রাতে বাঁচিয়ে দিলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তোমার উপর অনেক রাগান্বিত, তিনি বলেছেন, “বাঁশের ব্যবহার কি এই প্রথম হল? অতীতে আমাদের পূর্ববর্তী সরকারের আমলেও হয়েছে, সুতরাং এটা নতুন কিছু না। বাঁশ দেয়া হয়েছিল, হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে, এটা আমাদের এক চলমান ঐতিহ্যের মত!” সুতরাং ভালো চাওতো এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভালো ভাবে চাকুরি কর না হলে পরের বার আমিও কিছু করতে পারব না!

এসব শুনে রুমনের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। মারা যাবার উপক্রম হচ্ছিল, আতঙ্কে চিৎকার করে উঠে বসতেই রুমমেট জাবেদ ভাই “বলল কি হয়েছে রুমন? এত রাতে এভাবে চিৎকার করছ কেন? কাল সকালে আমার মধুর ক্যান্টিনে প্রোগ্রাম আছে একটু ঘুমাতে দেও ভাই”। রুমন শান্ত ছেলের মত উঠে টয়লেট থেকে ফ্রেস হয়ে এসে মোবাইলে দিন তারিখ দেখল যে এখন ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সাল। দেখেই তাঁর মনটা ভালো হয়ে গেল। টেবিলের উপর থেকে সকল বিসিএস এর প্রস্তুতির বই ফেলে ৬ মাস আগে কেনা অযত্নে পরে থাকা জি আর ই এবং টোফেল এর বই গুলো পরিস্কার করে সেখানে রাখল। মনে মনে সে প্রতিজ্ঞা করল যে করেই হোক এই দুঃস্বপ্নের ফলাফল থেকে নিজের পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচাতেই হবে!

বিদ্রঃ গল্প এবং এর চরিত্র সম্পূর্ণ কাল্পনিক এর কিয়দংশও যদি কাহারো জীবনের সাথে নুন্যতম ভাবে মিলে যায় তাহলে লেখক দায়ী নয়।

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৯:৪৯
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

never give up!!! চেষ্টাটা যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হয়....

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১০



অনেকেই নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। বলেন- ''ভাই, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আজ আমার এই অবস্থা।'' অনেককে এও বলতে শুনেছি- ''আজ ভাগ্য সহায় থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।''
.
এইসব মানুষদের আমি বলি- ''শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×