পরিযায়ী পাখিদের দীঘি
১৬ ই মার্চ, ২০০৬ ভোর ৬:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
এর আগের লেখায় আমি পুঠিয়ার পচামাড়িয়া গ্রামের পাখিদের কথা লিখেছি। এবার আপনাদের জানাবো আরেকটি ঐতিহাসিক দীঘিকে ঘিরে গড়ে ওঠা পাখিদের অভয়ারণ্যের কথা। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ঐতিহাসিক মসজিদ সংলগ্ন দীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অতিথি পাখিদের অবাধ বিচরণকেন্দ্র। হেমন্তের শেষ লগ্ন থেকে আসতে থাকা এইসব অতিথি পাখির কলকাকলিতে এখন মুখরিত পুরো বাঘা এলাকা। প্রতিদিনই পাখি দেখতে সৌন্দযর্্য পিপাসু মানুষের ভীড় লেগে থাকে পরিযায়ী পাখিদের এই দীঘিকে ঘিরে। এলাকার মানুষ জানালেন, প্রতি বছরই শীত মৌসুমে অতিথি পাখির দল ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসে বাঘায়। তারা আসর জমায় মসজিদ সংলগ্ন দীঘির জলে। এলাকার মানুষের তী্ন দৃষ্টি যাতে পাখি শিকারীরা শিকারে আসতে না পারে। এ কারণে পাখিদের সঙ্গে এলাকার মানুষের গড়ে উঠেছে এক চমৎকার মিতালী। বার্ড কাবের পাখি পর্যবেক দলের মতে, বিরল প্রজাতির এইসব পরীযায়ী পাখি সুদূর সাইবেরিয়ার বরফাঘেরা অঞ্চল থেকে প্রতিবছর শীতের শুরুতে আসে। বাঘা দীঘিতে গিয়ে দেখা গেলো, প্রষ্ফুটিত শাপলার ফাঁকে রোদ ঝলমল দীঘির জলে ভেসে বেড়াচ্ছে অতিথিরা। সবুজ বৃ শোভিত বাঘার ঐতিহাসিক মসজিদ সংলগ্ন দিঘীতে শ্বেত ও কৃষ্ণ বর্ণের অতিথীরা ভাসমান শাপলার চারিদিকে বসে এক বর্ণিল আবহ তৈরী করেছে। শ্বেত বর্ণের অতিথীরা যেন শীতের সাদা কুয়াশার চাদরে ঢেকে রেখেছে মসজিদ সংলগ্ন দিঘীটি। লাল শাপলা সবুজ শ্যাওলার আত্মীয়তা ণিকের জন্য বিচ্ছিন্ন করে ঝাকে ঝাকে উড়াল দেয় তারা। বৃ শোভিত দিঘীর নীলাভ আকাশ নিমিষেই পরিনত হয় কালো রঙে। উড়ন্ত হাজারো অতিথী পাখির ছড়িয়ে দেওয়া পাখার আড়ালে লুকিয়ে পড়ে সূযর্্য। শীতের আকাশ যেনো হয়ে উঠে বর্ষার মেঘের আকাশ। যেন মাথার উপর ঝুলতে থাকে মেঘমালা। কিচির মিচির শব্দে সজাগ করে তোলে দিঘীর আশে পাশের গ্রামবাসীকে। আকাশে উড়লেও দিঘীর ক্যাম্পাসের আকাশ সীমানা লংঘন করে না তারা। কয়েকবার চক্কর দিয়ে আবার দিঘীর জলেই ঝাপিয়ে পড়ে। এলাকাবাসী জানান, 1523 খৃস্টাব্দে মুঘল সম্রাটদের আমলে নির্মিত হয় বাঘার ঐতিহাসিক মসজিদটি। সেই সময় থেকেই মসজিদ সংলগ্ন দীঘিতে ছিলো পাখিদের আনাগোনা। কিন্তু গত কয়েক দশকে পাখি শিকারীদের কারণে ক্রমেই কমে আসছিলো অতিথি পাখির সংখ্যা। 1998 সালে এক পাখি শিকারী অতিথি পাখি শিকার করতে আসেন। তিনি দীঘির পাড় থেকে গুলি করে ঘায়েল করেন একটি পাখি। আহত পাখিটি মাঝ দীঘির জলে ভাসতে থাকে। শিকারী সাঁতার কেটে সেই পাখিটি আনতে গিয়ে জলে ডুবে যাবার উপক্রম হন। মসজিদ থেকে নামাজ শেষে মুসলি্লরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে তালগাছের ডিঙি নিয়ে সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর থেকেই মসজিদ কমিটি ও এলাকার মানুষের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে পরিযায়ী পাখি মারতে কোনো শিকারী এখানে আসেন না। সেই সময় থেকে প্রতি বছরই নির্ভয়ে পাখিরা আসে। ধীরে ধীরে বাড়ছে তাদের সংখ্যা। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল হান্নান জানান, তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিজেরা অতিথি পাখি মারবেন না। কাউকে মারতে কিংবা ধরতেও দেবেন না। তার মতে, অতিথি পাখিরা বাঘার পরিবেশই বদলে দিয়েছে। প্রায় 60 বিঘার এই দিঘীতে আসা অতিথী পাখিদের মধ্যে বিরল প্রজাতির সরল হাঁস, পাতারি হাঁসসহ আরো অনেক প্রজাতির পাখি রয়েছে। বাঘায় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে পর্যটকরা কেবল বাঘা ঐতিহাসিক মসজিদ, মাজারের দৃশ্য নিয়েই ঘরে ফিরবেন না, সুন্দর ও বিচিত্র পাখীদের স্মৃতিও তাদের সঙ্গে যাবে।
বাঘা যেতে হলে প্রথমে নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের বানেশ্বরে নামতে হবে। সেখান থেকে বাসে অথবা মিশুকে করে যেতে পারবেন বাঘায়। আশেপাশে আরো দেখতে পারবেন সারদা পুলিশ একাডেমি ও রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।
অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।
কী...
...বাকিটুকু পড়ুন
সূর্যমুখীঅন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা...
...বাকিটুকু পড়ুনলিখেছেন
আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১
গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।
রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।
ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।
ওসবে আমার...
...বাকিটুকু পড়ুনলিখেছেন
মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০

মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !...
...বাকিটুকু পড়ুন