-আপনি ছবি বদলালেন?
-----হ্যা । একটু বৃষ্টির ছোঁয়া দিলাম ।
-আমাকে?
------আমাকে ? আমাকে কি ? বৃষ্টির ছোয়া দিলেন?
----বৃষ্টি আমাকে ছুঁয়ে নিলো
-আমাকেও কি? আপনকে যে ছু'লো, তাকে দেখলাম।
------এ ছোঁয়ায় জাত যায় না । তাই ওকেই ছুঁতে দিলাম ।
-কোনো ছোয়াতেই জাত যায় না।মন থেকে ছুলে।
-------ও শুধু বলা কথা । বাস্তব ভিন্ন । খুব ভিন্ন । আপনিও জানেন । সবাই বলে কিন্তু মন থেকে সাত পুরুষের ধারণা সহজে মোছে না । কোথাও না কোথাও তার একটু দাগ থেকেই যায় । তবে সবার না । কেউ কেউ পারে ।
-কই গেলেন?
------আছি তো !
-বললেন না? জাত যায়? মন থেকে ছুলে?
------মন ? মন কি একটা সময়ের পর আর থাকে ? জীবন যখন জেনে যায়, এই তার বর্তমান, এই তার ভবিষ্যত, তখন দেহ হয়ে পড়ে নিতান্তই ওই কর্তব্যের । মন মারা যায় অথবা
-তা ঠিক। আবার ঠিক না।তার অস্তিত্ব আছে কিনা টের পাওয়া যায় না ।
দেহ আর মন আলাদা
কখনও কখনো দেহ শুধু দেহের টানেই চলে।
মন সেখানে হয়তো তত ক্রিয়াশীল থাকে না।
আর দেহের শুচিতা এসব এখন বেশ ধারণা হিসেবে খুব মান্য নেই।
--------একটা সময় দেহ দেহর দিকে ছোটে
একটা সময় মন মনের দিকে ছোটে
একটা সময মন ও দেহ একই সাথে ছোটে
একটা সময় মন দেহ কোনটাই চলে না
-হা, সবই সত্যি , কোনওটাই চলে না ঠিক না।
-------মন হয়তো তখনও চলে, যদি মনে তারুণ্য থাকে।
-তবে, দেহর যেমন দেহ দরকার, মনের তেমন মন
----------ও সব কেউ মানে না তবে মানার অভিনয়টা এখন আছে । খুব আছে । এখন অনেক অভিনয় দেখি ওই না মানা ব্যাপারটাকে ঢাকা দিতে ।
-হা, অভিনয় আছে। তবে, খুব শিগ্রি অভিনয় আরও কমে যাবে। তখন হয়তো সরাসরি মানুষ বলতে পারবে।তবে, দেহের খুব দেহ প্রয়োজন। কেননা, মানুষ প্রাণী আর, মন দরকার বেচে থাকার জন্যে
----------অভিনয় টা উঠে যাক । মানুষের এখনও সামাজিকতার ভয় । সামাজিকতা মানতে গিয়ে লুকোয় । তখন মিথ্যের জন্ম হয় । বেঁচে থাকার জন্য মন আর দেহর জন্য দেহ মিথ্যে অভিনয়টা তখন করতে হয় না ।
-হা
---------অভিনয় উঠে যাবে।
-আপনি উঠে যাওয়ার পক্ষে? দেহের শুচিতা-টুচিতা এই সব আছে আপনার?
---------আমি অভিনয় উঠে যাবার পক্ষে । তাতে দেহ ও মন দুটোই শুচি থাকে ।
-আপনার আছে এসব?
--------না নেই।
-যদিও ব্যক্তিগত প্রশ্ন, মাফ করবেন।
-----------দেহ ও মনের শুঁচিতা আছে ।
-সেটা তো থাকতেই হয়। কিন্তু, মন না চললে দেহের সম্পর্কে শুচিতায় বাধে কিনা তাই জানতে চাইছি।
----------মিথ্যে আর অভিনয় কে ঘৃণা করি । মন, তার অস্তিত্ব নিয়ে থাকুক, আশা করি । দেহ কে কর্তব্য সমাপন করার যন্ত্র হিসেবে দেখি ।
-আচ্ছা, বেশ ভালো কথা।সাহসি কথা।তবে, দেহ কিন্তু দেহকে আবিষ্কার করে। তবে, মন প্রফুল্ল হয়।
---------মন ছাড়া দেহ ! কিংবা দেহর ষ্পর্শ নেয়া !! অসম্ভব ।
-এই যে বললেন, দেহকে কর্তব্য সমর্পণ করার যন্ত্র হিসেবে দেখেন। কেন অসম্ভব কেন?
---------দেহ যন্ত্র, দেহ যন্ত্রের সাথে আলিঙ্গন করে । দেহ প্রফুল্ল হয়, মন নয় ।
-তাই নাকি। মন প্রফুল্ল হয় না! এটা কি অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন, না ধারনা? যাই হোক। শরীররের চাওয়াকে বাধা দিতে নেই। মনেরটাকেও না।
-----------ঠিক । যদি দুটো শরীরই পরস্পরকে চায় ।
-হা, দুটো চাইবেই। সেখানে মনের চাওয়া থাকবে। কিন্তু প্রেম নিশ্চিত নয়।
তাই বলেছি।
---------হা, প্রেম নিশ্চিত নয় । আমিও তাই বলছি ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



