somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ সময় গড়বড়

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরটার বিলটা মিটিয়ে দিয়ে আবার রাস্তায় নামলাম । আশে পাশে খুব বেশি লোক জন দেখছি না দেখে বুঝলাম রাত মোটামুটি খারাপ হয়নি ! নতুন একটা হাত ঘড়ি কিনেছি । দিনে কম করে হলেও এর দিকে পঞ্চাশ বার তাকাই । এখন বাজে ৩টা ১৯ ! বুঝলাম মাথাটা ধরে আসার বেশ জোরালো কারণ আছে । এবার বাড়ি যাওয়া দরকার । আজকে আর ঘুরাঘুরি না...

বৃষ্টি হবে বলে মনে হচ্ছে ! আমার সাথে কোন ছাতা টাতা প্রায় কখনোই থাকে না । রিক্সাও দেখছি না কোন । তো হাঁটা দিলাম বাড়ির দিকে । এখন টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে । তাই ব্যাংক কলোনীর চিপাচাপা গলিটা শর্টকাট হিসেবে বেছে নিলাম । আশা করি ১৫ মিনিটের মধ্যে বাসায় গিয়ে নিজেকে কম্বল চাপা দিতে পারবো !

কলোনির গলিটার দুই পাশে প্রচুর নারিকেল গাছ । ইলেকট্রিক লাইটের আলোতে গাছ গুলো কেমন জানি মানাচ্ছে না ! খুবই অস্বস্তি লাগছে দেখতে ! কেমন যেন বেশি ক্লান্ত বোধ করছি । ঘড়ির দিকে তাকালাম , ৩টা ২৯ ! দ্রুত পা চালানোর সিদ্ধান্ত নিলাম । আজকে এত ঘুম আসছে কেন ?

সামনে কিসের যেন শব্দ হচ্ছে ! নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ সামান্য শব্দও দারুণ ভয় পাইয়ে দেয় । চমকে দাঁড়িয়ে গেলাম ! একটা রিক্সা আসছে । যাক ভালোই হল...!

তবে কাছে আসার পর বুঝলাম আনন্দের কিছু নাই । এটা খালি রিক্সা না ! রিক্সার হুডি তোলা । সামনে প্লাস্টিকের পর্দা টেনে এক লোক বসে আছে । বুঝলাম লোকটা ঠিক আমার দিকে তাকিয়ে আছে ! মনে হয় অবাক হয়েছে । এত রাতে রাস্তায় কাউকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখলে অবাক হবারই কথা...

সামনে এগিয়ে যাচ্ছি । কলোনির একমাত্র ঔষধের ফার্মেসী আসাদ ভাইয়ের দোকান টার সামনে আসতেই এরকম আরেকটা রিক্সা পাশ দিয়ে চলে গেল । এটাও খালি না । এত রাতে খালি রিক্সা থাকার কথাও না যদিও...
খুবই ক্লান্ত লাগছে । রাস্তাটা শেষ হচ্ছে না কেন ? আরেকটা রিক্সা চলে গেল ! আমি আর একবিন্দু হাঁটতে পারছি না ! হঠাৎ কি যেন মনে করে মাথাটা গুলিয়ে উঠলো...!!!...

কি ব্যাপার ! এই রাস্তায় দিনের বেলায়ও তো এত ঘন ঘন রিক্সা চলে না ! আর এই শেষ রাতে হঠাৎ এত রিক্সা কোত্থেকে আসছে ! ঠিক তখনই দেখলাম আরেকটা রিক্সা আসছে...!!! আমি চুপ করে দাড়িয়ে পরলাম ! রিক্সাটা পাশ দিয়ে চলে যাবার পর ভীষণ ভয় পেয়ে গেলাম...!...কারণ ততক্ষণে একটা ভয়ংকর ব্যাপার খেয়াল করেছে আমার মস্তিষ্ক...!!!...

এই রিক্সাটায়ও একজন লোক বসা ! ঠিক প্রথম রিক্সাটার মত করে হুডি টেনে দেয়া এবং লোকটাকে আমি যেন চিনতে পারছি...!!!...হ্যাঁ...! তাইতো...!!!... লোকটা আর কেউ না ! প্রথম রিক্সায় যাকে দেখেছিলাম...!!!... হ্যাঁ ঠিক ...!... একেই তো দেখেছিলাম...!!!...ঠিক তখনই মনে পড়লো ! আগের প্রত্যেকটা রিক্সায়ই একে দেখেছিলাম...!!!

মাথাটা প্রচন্ড ভাবে ঘুরছে ! পা নাড়াতে পারছি না । নিজেকে ঠিক রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছি...পেরে উঠছি না ! নিজেকে বললাম ! রাহাত ভয় পেয়ো না ! এইতো চলে এসেছো । আর বেশিক্ষণ লাগবে না ! সাহস যোগাড় করতে ঘড়িটার দিকে তাকালাম , ৩টা ২৩ বাজে ! অনেক কষ্টে হাঁটার জন্যে পা বাড়াতে গিয়ে আরও বড় ধাক্কা খেলাম...!!!...আড়ষ্ট কন্ঠে নিজেই বলে উঠলাম...কয়টা বাজে...???

আবার তাকালাম ঘড়ির দিকে ! হ্যাঁ ঠিকই তো দেখেছি ! ৩টা ২৩ ! কেন...!!! ৩টা ২৩ বাজবে কেন...???...আমার মনে আছে , আমি বেশ কিছুক্ষণ আগে দেখেছি ৩টা ২৯ বাজে...!!! এটা কিভাবে সম্ভব !!! সময় কমে যাচ্ছে কেন...!!! ঘড়িটা কাজ করছে তো ???

ঠিক তখনই আমার হৃদস্পন্দন প্রায় বন্ধ করে দিলো একটা টুং টাং শব্দ...!!! একটা রিক্সা আসছে...!!! আমার পা দুইটা যেন মোমের মত গলে যেতে চাইছে...!!! দেখলাম ঐ একই রিক্সা...!...ঐ একই লোক...!!!...আমার ঠিক পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে...!...

কেমন যেন অবশ অনুভব করছি...!!! রিক্সাটা কেমন আস্তে আস্তে যাচ্ছে...! ধীরে ধীরে গতি যেন আরও কমে আসছে । আমি বুঝতে পারছি না তিন চাকার এই যানবাহনটা একজন যাত্রী নিয়ে আসলে সামনে যাচ্ছে...! নাকি পেছনে...!!!...মনে হচ্ছে দুটাই !!! একই সাথে সামনে এবং পেছনে...!!!...

লোকটা সোজা আমার দিকে তাকিয়ে আছে...!!!...আমি দেখতে পাচ্ছি তার মুখে একটা কদাকার হাসি ছড়াচ্ছে...!!!...সামনের পাটির ঝকঝকে সাদা দাত গুলো স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে...!!! আমার নতুন ঘড়িটা তখন রাত তিনটার অ্যালার্ম দিচ্ছে...!!!

রিক্সার পেছন দিকে অস্পষ্ট একটা সাইনবোর্ড দেখলাম...লিখাঃ আসাদ ড্রাগস...!!!...মানে কি এটার...!!! এই জায়গা তো বেশ অনেকক্ষণ আগে পেড়িয়ে এসেছি...!!! আমার চোখ গুলো যেন বন্ধ হয়ে আসছে...! মনে হয় জ্ঞান হারাচ্ছি...!...



হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি ! নার্সকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম , কয়টা বাজে ? সন্ধ্যা ৭টা ! এটা তাহলে পরের দিনের ঘটনা ? হ্যাঁ । তার কাছ থেকে শুনলাম সব কিছু । ঐ রাতের পরদিন সকালে রাস্তায় অচেতন অবস্থায় আমাকে খুঁজে পায় আমার চাচাতো ভাই রাতুল । নিয়ে আসে হাসপাতালে...!

এখন বাবা , মা আর বড় চাচা এসেছেন । কি হয়েছিলো জিজ্ঞেস করছে । তাঁদের চোখে মুখে বিচিত্র অনুভূতির ছাপ ! আমি কিছু বলতে পারছি না...!!!
শেষে বাবার চাপাচাপি তে বললাম...

কি ঘটেছিলো তা আমিও ঠিক ধরতে পারছি না...! গতকাল তোমরা যখন ঘুমিয়ে গিয়েছিলে , তখন কিছুক্ষণের জন্য মনেহয় সময়টা উল্টা পাল্টা হয়ে গিয়েছিলো...! সামনে পেছনে নানান রকম বাঁক নিচ্ছিলো ! অতীত আর বর্তমান সব ভবিষ্যতে মিলিয়ে যাচ্ছিলো ! আর সাথে সাথে খেলায় মেতেছিলো আমার মস্তিষ্ক ! দেখিয়েছে ঐ মুহূর্তের সাথে সবচেয়ে মানানসই দৃশ্য গুলো...!...কিন্তু আমার চোখ তো আর ঐসব দেখে অভ্যস্ত না ! তাই সময় মত ঘুম পারিয়ে দিয়েছে।
কথাটা বলে নিজেই জোরে জোরে হাসা শুরু করলাম ! এদিকে বাবা মা আর চাচাজী কি ভাবছেন তা সহজেই বোধগম্য...! হাহাহাহা...!!!



জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম । ঘুটঘুটে অন্ধকার ! মনে মনে ভাবলাম...পৃথিবীতে আমিই কি একমাত্র টাইম ট্রাভেলার ? নাকি পুরো জগতটাই ভৌতিক কিছু ?
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৩ কফি শপ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:০৬

আলোর-ছায়ার দোলাচলে এক কাপ কফি পান করার সুযোগ কি পাওয়া যেতে পারে?



ছবি ব্লগ - ২ টরন্টোর আকাশ
ছবি ব্লগ - ১ মেঘলা আকাশ
...বাকিটুকু পড়ুন

×