মতি মিয়ার দিনকাল ভালো যাচ্ছে না...তাঁর গানের এখন আর আগের কদর নেই...গাঁয়ের লোকেরা এখন কি যেন একটা বাজায়...মতি মিয়ার ভাষায় তাঁর নাম “মিশিন”...গায়েন মতি মিয়ার খবরই বা কে নেয়...?
এক কুসুম শীতল সন্ধ্যায় মতি মিয়ার ডাক পরে সরদার বাড়িতে...পাটি বিছিয়ে দেয়া হয়েছে...মতি মিয়াকে ঘিরে বসেছে পনের বিশ জন মানুষ...সেদিন মেঘ করেছিলো কালো...ভীষণ কালো...!...লণ্ঠন জ্বলছে মিটমিট করে...
আজগর সরদার একবার আকাশের দিকে তাকায়...বাতাস ছেড়েছে...রেডিওতে বলেছে সাগরে নিম্নচাপ দেখা দিয়েছে...বৃষ্টি থাকবে আরও কয়দিন...সরদার সাহেবের মুখে হঠাৎ এক ঝিলিক হাসির জন্ম হয়...!...নীরবতা ভেঙে বললেনঃ মতি মিয়া...!...বাজাও...!...
মতি মিয়া গান ধরে...
কানা আমি হইতাম যদি...
হইতো না এই মরণ ব্যাধি...
কান্দিলাম এত সখি...
বন্ধু তুমি আইলা না...!!!
আসমানে তোমারে দেখি...
জমিনে তোমারে দেখি...
আন্ধার রাইতে স্বপন দেখি...
বন্ধু তুমি আইলা না...!!!
সরদার সাহেবের ছোট ছেলেটা বসে ছিলো এক কোণায়..ছয় সাত বছরের এই ছেলের হঠাৎ কি যেন হয়...!!!...হাত পা কাঁপছে তার...মুখ দিয়ে অদ্ভুত শব্দ করছে...!...পাশে বসে থাকা তার মায়ের আঁচলটা কামড়ে ধরছে বার বার...!!!
মতি মিয়া হতভম্ব...অন্য সবাইও চুপ...গান থেমে গেছে মাঝপথেই...
আজগর সরদার বললেনঃ পোলাডা আমার বোবা হইসে মতি মিয়া...গান হুনলেই এমন করে...!...বোবা মানুষ...কিছু কইতে তো পারে না...খালি ছটফট করে...!...করিমের মা...তুমি পোলারে নিয়া ঘরে যাও...
মতি মিয়া বাঁধা দেয়...বলেঃ ভাবি পোলারে আমার কোলে দেন...!...
আসর চলে মধ্যরাত পর্যন্ত...!...ক্ষনে ক্ষনে বদলায় বাতাসের গতি...!...আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়...!...সে আলোয় সরদার সাহেবের ছেলের মুখের রঙটা ঠিক বুঝা যায় না... দাঁতে দাঁত চেপে বার বার কি যেন বলতে চায় সে... মনে হয় মতি মিয়ার সাথে মেলাতে চায় সুর...ছেলেটা ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে...!...
[গান গাইতে পারা-টা সৃষ্টিকর্তার অনেক বড় একটা উপহার...পৃথিবীর সুরেলা মানুষ গুলোর প্রতি শ্রদ্ধা...ভালোবাসা...]
রক্ত কণারা থমকে দাঁড়ায়...
হৃদপিণ্ডটা চমকে তাকায়...
দুচোখ আমার দৃষ্টি হারায়...
মেঘনা পাঁড়ে কে গান গায়...!!!
কে গান গায়...?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



