somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বাবা বলতেন.....

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি প্রসূত হলাম চরম দুঃসময়ে
জড়াগ্রস্থ পৃথিবীর ক্রান্তিলগ্নে।
আমার বাবা বলতেন,
'তোর পৃথিবীতে আসা জরুরী
এই ক্রান্তিলগ্নে তুই আলোর মেঘ নিয়ে হাজির হবি
সূর্যের আলোক রশ্মির মত আগুন জ্বালাবি
এই মুহুর্তে তোকে খুব প্রয়োজন রে! '

বাবার কথা গুলো কানে গিয়েছে শুধু
আমি তখন ভ্রুণ থেকে একটু বড় হচ্ছি
সেক্স অর্গান বিকশিত হচ্ছে তাড়াতাড়ি
আলট্রাসাউন্ড নির্ণয় করছে আমি নাকি বাবার মতই একজন!
বাবার অবশ্য এইসব নিয়ে মাথা ব্যথা নেই ।
আমার বাবা বলতেন,
' বুঝলিরে! এই পৃথিবীতে তোকে খুব প্রয়োজন।
তুই সময়মত আসলেই আমি খুশী।
এই পৃথিবীতে তীব্র মাতমে বৃষ্টি নামাবি তুই! '

আমি তখন খুব ছোট তবে মায়ের পেটটা বিশাল আকার ধারণ করেছে ততোদিনে।
বাবাও প্রতিনিয়ত উৎফুল্ল হন খুব। অফিস থেকে দ্রুত বাড়ি ফেরেন। মার পেটে হাত রাখেন।
আমার বাবা বলতেন,
'দ্যাখ! পেটের ভেতর যে আলোড়ন তুলিস সেটা
এই পৃথিবীর জন্য খুব প্রয়োজন এই মুহুর্তে ।
অনেকে তো নড়তেই জানে না।'

আমি বাবার কথা শুনি আর ধীরে ধীরে বড় হই।

অবশেষে আমি জন্ম নিলাম জড়াগ্রস্থ পৃথিবীর ক্রান্তিলগ্নে
বাবার কোলে উঠে চিৎকার দিলাম সশব্দে ফেটে পড়া চিলের চিৎকারের মত!
আমার বাবা বলতেন,
'চিৎকার দিবি! তীব্র চিৎকারে চিড় ধরাবি আকাশের বুকে।
এখন তো কেউ শব্দ করতেই ভুলে গেছে।'

জড়ার তীব্রতা তীব্র থেকে তীব্রতর হলো।
ইদানীং বাবা তেমন কিছুই বলেন না
হিসাবরক্ষণ যন্ত্রে কিসের জানি হিসাব মেলান শুধু
বোতাম গুলো টিপতে থাকেন
যোগ ভাগ গুণ
কিন্তু কি যেন ঠিক মিলতে চায়না আর।

আমার বাবা বলতেন,
না! বাবা অনেক কিছুই বলতেন।
বাবা আর কিছুই বলেন না।
একদম চুপ হয়ে গেছেন।
একদম চুপ!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ৯:১৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেল পাকলে কাকের কী?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২৫ শে মে, ২০২২ সকাল ১১:১৫

বন্ধু বান্ধব বিয়ে করছে। কিন্তু তাদের মনে অনেক দুঃখ। কত আশা ছিল সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করবে অথচ জুটছে মোটা, কালো সব মেয়ে। বর্ণবৈষম্য হয়ে যাচ্ছে মনে হয়। তবে এটা কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্র রাজনিতি বন্ধ করতে হবে। বিশ্বের সভ্য কোন দেশেই ছাত্রদের লাঠিয়াল বাহিনি হিসেবে ব্যবহার করেনা।

লিখেছেন নতুন, ২৫ শে মে, ২০২২ সকাল ১১:২৭



দেশের ভবিষ্যত নেতা তৌরির কারখানা হিসেবে অনেকেই ছাত্ররাজনিতির দরকার আছে বলে ধারনা করে। কিন্তু বর্তমানে ছাত্ররাজনিতিকদের কাজে বোঝা যায় সময় এসেছে বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার। ছাত্ররা বর্তমানে রাজনিতিক দলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সত্যিকারের দেশপ্রেম কী?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে মে, ২০২২ দুপুর ১:২৬


বাংলাদেশে দেশপ্রেম বলতে আওয়ামীলীগের ক্ষেত্রে ভিন্ন মতের বিষোদগার করা, মাইকে গলা ফেটে বঙ্গবন্ধু গুনকীর্তন গাওয়া, বঙ্গবন্ধু কন্যার গুনকীর্তন করা, জাতীয় দিবসগুলোত ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা করা এবং ভিন্নমতকে রাজাকার, দেশবিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতিচারণঃ নজরুল

লিখেছেন জাদিদ, ২৫ শে মে, ২০২২ দুপুর ২:১৮


ছবি সুত্রঃ shadow.com

নজরুলের মাহযাবঃ
আমি সাধারনত পাগল, ছাগল এবং আঁতেল এই তিন শ্রেনীর মানুষ দেখলেই সাথে সাথে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু অনেক সময় তা সম্ভব হয় না, নুন্যতম ফরমালিটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

এত বড় কবি কেন দারিদ্রতা থেকে মুক্তি পেলেন না?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৫ শে মে, ২০২২ রাত ১০:৪০



বাংগালীরা পড়তে ও লিখতে জানতেন না, যারা সামান্য লেখাপড়া জানতেন, তাঁদের বড় অংশ ছিলেন দরিদ্র, যাদের সামর্থ ছিলো, তারা বই কিনতো না; এই কারণে, কবির তেমন আয় ছিলো না। তখনকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×