গনতান্ত্রিক দেশে সকলেরই জবাবদিহিতা থাকা উচিৎ। আমাদের ডিজিএফআই চীফ কি সকল জবাবদিহিতার উর্দ্ধে?
পিলখানার ঘটনার কোন জবাব তো তিনি দিলেন না। এমন কি পাবলিক কোন স্টেটমেন্ট ও আমরা দেখলাম না।
পিলখানার ঘটনার আগে আর্মীর গত দুই বছর এর দূর্নিতির কথা জাতীয় সংসদ এ উঠেছিল। তাদের দূর্নিতির একটা প্রোব হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। আর্মীর লাভবান অফিসাররা কখনই তা চায়নি।
পিলখানার ঘটনার সময় শেখ হাসিনার বাড়ির সামনে প্রস্তুত ছিল ট্যান্ক বিদ্ধংসী কামান। প্রশ্ন হল ট্যান্ক বিদ্ধংসী কামান এর প্রয়োজনীয়তাটা কি ছিল? ট্যান্ক আছে কার কাছে? বিডিআর এর বিদ্রোহী সিপাহীদের কাছে নিশ্চয় ট্যন্ক নেই।
খালেদা জিয়া নাকি ঘটনার সময় কালো গাড়িতে চড়ে নিখোজ হয়ে গিয়েছিল। ক্যান্টনম্যানট এ বসে তাঁর কি বিপদ এর আশঙ্কা তিনি করেছিলেন যে সেখান থেকে বেড়িয়ে এসে অজ্ঞাত স্থান এ যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা পড়ল?
ঘটনা পরবর্তি অবস্থাটা কি? সেনাকুন্জে আর্মীর এক লে: কর্নেল (সম্ভাবত কামরুজ্জামান) শেখ হাসিনা কে জিজ্ঞাসাবাদ এর নামে, প্রাসংগিক, অপ্রাসংগিক সকল বিষয়ের অবতারনা করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করল। আবার সেখানে উপস্থিত একজন আর্মি অফিসার ই সেটা রেকর্ড করে নেট এ ছেড়ে দিল। আমাদের মনে রাখা উচিৎ যে সেই সময়ে সেনাকুন্জে আর্মীর লোক আর শেখ হাসিনা আর মতিয়া চৌধুরী ছাড়া আর কেউ ছিল না।
লে: কর্নেল সাহেব অনেক কথাই বলেছেন যার সাথে ঘটনার কোন সম্পর্ক নাই। যেমন কোন অফিসার কে কোথায় পোষ্টিং দেয়া হবে বা কোন অফিসার এর কত প্রমশন হবে তা নিয়ে প্রচলিত পন্থার কঠোর সমালচনা তিনি করেছেন। অথচ যেই সত্যের সাথে পিলখানার ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক আছে, তার কথা তিনি বলেন নি। যেমন, বি ডি আর জওয়ান দের উপর নির্যাতন নিপিরন, বর্ডার এ আর্মি অফিসারদের সীমাহীন সেচ্ছাচারিতা ও বিডিআর চিফ এর সীমাহীন দূর্নিতী।
লে: কর্নেল সাহেব এর কথা বার্তা যতটা না পিলখানার ঘটনা কেন্দ্রিক ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল শেখ হাসিনা কে বেকায়দায় ফেলা এবং আর্মীর পক্ষে জনমত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে। প্রশ্ন আসে লে: কর্নেল সাহেব কি জানতেন কিনা যে তার কথা ইনটারনেট এ লীক হবে?
কে এই অডিও ফাইল লীক করল তা বের করা খুবই সহজ। কোন আই পি থেকে কবে কয়টার সময় কো ফাইল আপলোড করা হয় তা বের করার মত ক্যাপাবিলিটি সরকার এর আছে। ফাইল আপলোড করা হয়েছে ফেসবুক এর একটি গ্রুপ এ। গ্রুপ কে বানালো, তা বের করা খুব সহজ।
সেই ফোরাম এ আর্মী চিফ উপস্থিত ছিল। তার মাধ্যমেই কথা বলাই কি স্বাভাবিক আচরন হত না? লে: কর্নেল সাহেব এর স্পর্দ্ধা হল ঘোড়া ডিঙায়ে ঘাস খাওয়ার। এই ঘটনা আর্মির চেইন অফ কমান্ড এর কী চিত্র দেয়?
এই সব আর্মির "সোনার ছেলে" দের মৃত্যু তে কিন্তু আসল ইস্যু ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা আর্মির ভয়ে এত টাই টটস্থ যে আর্মীর দুর্নীতির হিসাব বা ডিজিএফআই চিফ এর এনকোয়ারি করার সাহস তাঁর অবশিস্ঠ নেই। কপ্টার দুর্ঘটনায় আর্মির লোক মারা গেলে এখন আর্মি এভিয়েশনের কম্পিট্যান্স নিয়ে প্রশ্ন না করে তিনি এখন ন্যাশনাল মোরনিং ডে ঘোষনা করা হয়।
২৬ শে মার্চ এর প্যারেড বাতিল করা হয়েছে। এটা কি জংগির ভয়ে নাকি আর্মির ভয়ে সেটাই প্রশ্ন। দেশের অবস্থা সম্পর্কে এই প্যারেড বাতিল এর ঘটনাই অনেক কিছু বলে।
আমরা পাকিস্তান হতে চাই না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



