somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডুম'স ডে

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

- তুমি কে?
- মরা লাশ। পৃথিবীতে থাকতে মারা গিয়েছিলাম। কিন্তু এইটা কুন জায়গা?
- এইটা হইল হাশরের ময়দান। আজকে বিচার দিবস।
- ও আচ্ছা! তা আমি কি আসামি নাকি সাক্ষী?
- আসামি। বলতো দেখি, তোমার প্রভুর নাম কি?
- কঠিন প্রশ্ন করলেন! পৃথিবীতে থাকতে অনেক বইতে পড়েছিলাম, প্রায় চল্লিশ হাজার ধর্মের আশি হাজারেরও বেশী প্রভু ছিল। কিন্তু অনেক খুঁজেও তাদের কারই দেখা পাই নাই। কোন প্রমাণও পাই নাই। তা আপনি কে?
- আমিই তোমার আসল প্রভু।
- হুম! আপনি তো আমারে চিন্তায় ফেলে দিলেন। আপনি যে আসল প্রভু, তার প্রমান কি? দুনিয়ায় এতো খুইজ্যাও পাই নাই, এখন মরা লাশের উপর ওস্তাদি মারাইতে আসছেন!
- তোমাকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। বিচার হবে।
- বিচার করবে কে?
- আমি, তোমার প্রভু।
- কিসের বিচার করবেন, মহাশয়?
- মহাশয় বলবে না। খবরদার! বল, প্রভু।
- "প্রভু" এখনি বলতে চাচ্ছি না। পরে আরেকজন এসে আবার বলবে, সে না, আমিই তোমার "প্রভু"। তখন আমি পড়ে যাবো বিপদে। "মহাশয়" বলেছি, এইটাই অনেক বেশী।
- আচ্ছা, ঠিক আছে। এখন তাইলে তোমার বিচার শুরু করতেছি। বল দেখি পৃথিবীতে কি কি ভালো কাজ করেছো?
- মনে নাই। অনেক আগের কথা। আপনার ফিরিশতাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন।
- তাদের রিপোর্ট আমি পাইছি। রিপোর্ট ভালো না। অনেক বেয়াদপি করেছ, রিপোর্টে দেখলাম। ভাবলাম, বিষয়গুলা একটু ক্রস চেক করি।
- ক্রস চেক করার দরকার নাই। রিপোর্ট সম্ভবত ঠিকই আছে। কিছু জিনিষ বাদও পড়তে পারে, আপনার ফিরিশতারা কাজে ফাকি দিয়ে পরীদের সাথে ফষ্টি নষ্টি করতে গিয়ে কিছু কিছু জিনিশ হয়তো খেয়াল করতে পারে নাই।
- খামোশ! ফিরিশতাদের সম্পর্কে এই ধরনের মন্তব্য করাটাও একটা বেয়াদপি, এইটা জানো?
- জানি। একটা খুনের শাস্তি ফাঁশি, দশটা খুনের শাস্তিও একবার কাশি, তারপর ফাঁশি। রায় যা দেওয়ার দিয়ে দেন। শুধু শুধু টাইম নষ্ট করতেছেন।
- তুমি তাইলে আমার বিচার মেনে নিচ্ছ?
- না নিয়া উপায় কি! পাগলার পাল্লায় পড়সি! যা কইবেন মাইন্যা না নিয়া উপায় আছে?
- কি! আমারে তুমি পাগল বলতেছ!
- পাগল না তো কি? আপনারে বিচারক কে বানাইসে? জানেন না, পাগল কাউরে বিচারক বানানো ঠিক না? আর, আপনার যে মাথা খারাপ, এইটা কি বুঝায়ে বলবো? আপনার যে রাগ, শুনছি! আপনারে তো দুনিয়াতে একটা "এঙ্গার ম্যানেজমেন্ট"এর কোর্স করানোর দরকার ছিল। আর এখন তো পুরাই পাগল হয়ে গেছেন। মাল্টিপল পারসোনালিটি ডিসওরডার, হেলুসিনেশন, এটাকিং মেন্টালিটি, আরো অনেক কিছু। কাউন্সেলিং এ কাজ হবেনা। ইমিডিয়েটলী হাসপাতালে ভর্তি করানো দরকার। আন্ডার লক এন্ড কী।
- কেন?
- মানুষ কে বানাইছে?
- আমি।
- ভুলভাল কইরা মানুষ কে বানাইসে তাইলে? যেই মানুষ জেনেটিক ডিসঅর্ডারের কারনে ভুলভাল করসে, তাদেরকে কে বানাইসে?
- হুম... তোমার কথায় লজিক আছে। কিন্তু দুনিয়া তো লজিকে চলে না। দুনিয়া চলে বিশ্বাসে। ভুল তোমরা করসো। শাস্তি তোমাদেরকে পাইতেই হবে।
- তার আগে ভুল ভাল করা মানুষগুলারে বানানোর জন্যে আগে আপনার শাস্তি হওয়া দরকার। তারপর, দেখা যাবে, আমার কোন অপরাধ আছে কি না। আর আপনার তো আরো অনেক ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে।
- বল কি? আমি আবার কি ক্রাইম করলাম?
- রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, অন্যায় যে করে, আর অন্যায় যে সহে......
- আমিও শুনেছি কথাটা। ঐ ব্যাটা হিন্দু হইলেও এই কথাটা খারাপ বলে নাই।
- ঐ হিন্দু ব্যাটা একটাও খারাপ কথা বলে নাই। বরং, আপনি অনেক খারাপ খারাপ কথা বলেছেন, খারাপ কাজও করেছেন। আপনি ভুলভাবে মানুষ বানিয়ে একটা সমস্যা তইরি করেছেন। তারপর তাদের কেউ কেউ অন্যায় করলেও চুপচাপ দেখে গেছেন, সহ্য করে গেছেন। আপনাকেও সেইজন্যে আমি অন্যায়কারীর চেয়েও বেশী ঘৃণা করতাম। আপনি সর্বশক্তিমান হয়েও এতদিন কিচ্ছু করেন নাই। ঘুমাইসেন, কাজে ফাকি দিছেন, আবার আরো বেশী বেশী ভুল ভাল করা মানুষ বানিয়ে পৃথিবীতে ছেড়ে দিসেন। সমস্যা না কমিয়ে দিনে দিনে আরো জটিল করে তুলেছেন। আর আপনার তো নাকি কোন অভাব নাই। কিন্তু পৃথিবীতে সবাইরে ঠিকঠাক মত খাওয়া দাওয়ার ব্যাবস্থাও করতে পারেন নাই, যারা বেশী খাইসে, তাদেরে কিচ্ছু করেন নাই, নাইনটি পারসেন্ট লোক ছিল অভাবের মইধ্যে, আর আপনি এইদিকে সব কিছু স্টক কইরা রাখসেন বেহেস্তে। একটা কৃত্রিম সংকট তৈরী করসেন, এইটাও তো একটা সিরিয়াস অফেন্স, আপনি জানেন না? আবার মানুষরে বলে দিসেন, তারা যেন উঠতে বসতে, শয়নে সপনে শুধু আপনারে সমানে তেলবাজী করতে থাকে। তাছাড়া আপনি প্রচুর নেপোটিসম করেছেন। আপনার পেয়ারের লোকদেরকে অনুমতি দিলেন, যত খুশী বিয়া সাদি করতে, আর আমাদেরকে বললেন চারটার বেশী না। মাত্র চারটা বউ দিয়ে কি হয়? কে সংসার চালাবে, কে বাচ্চাদেরকে স্কুলে নিয়ে যাবে, কে আমার হাত পা টিপে দিবে, কে মশারী টাংগাবে, এই নিয়ে সংসারে অশান্তি। আর আমি জুয়ান রয়ে গেলাম, বউগুলা বুড়ি হয়ে গেল, কিন্তু কেউ মরলোনা। আপনি মেরে ফেললেন আমাকে। সেইটাও যদি হারট এটাক বা ক্যান্সারে হত, সবাই সুন্দর করে বলতে পারতো। মারা গেলাম পাইলস হয়ে। কাউকে বলতেও সরম লাগে। এই সব কিছুর জন্যে আপনার তো কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার। আর শুধু আপনার না, আপনাকে কে নিয়োগ দিয়েছে, তারে খবর দেন। এইরকম একটা অকর্মা লোককে যে বিশ্বজগৎ চালাতে দিয়েছে, সেও একটা মারাত্মক ক্রাইম করেছে। তারও শাস্তি হওয়া দরকার।

অতঃপর, সামনে দেখি আর কেউ নাই। আমি উপস্থিত বিচার প্রার্থী এবং শাস্তির অপেক্ষায় থাকা এবং জাহান্নাম নিবাসী সকল কে সাথে নিয়ে বেহেস্তের দরজা কোন দিকে, খুঁজতে শুরু করলাম। শুনলাম, কিছু টুপি-দাড়িওয়ালা লোক ওইদিকেই গেছে। বিচারে সাজা হওয়া লোকেরা আমাকে তাদের নেতা বানিয়ে ফেললো। সবার সাথে আলোচনা করে, পৃথিবীতে যারা সত্তুরটা হুরের লোভে নিজেরাও সবাইকে উলটা পালটা জ্ঞান দিয়ে গেছে, আর সেই লোভে লোভে যারা তাদের কথা মত চলেছে, তাদেরকে একটা স্পেশাল বেহেস্তে পাঠানর ব্যাবস্থা করলাম। সেইখানে প্রত্যেকের জন্যে শত্তুরটা না, দুইশ দশ টা করে সানী লীয়নের ক্লোন কপি পাঠানোর ব্যাবস্থা করলাম।।

(আরো অনেক ঘটনা আছে। শুনলে অনেকের মাথা আউলা হয়ে যেতে পারে। সেইজন্যে লিখলাম না। সকালের এক পোষ্ট পড়ে এক বন্ধু তার মনের আশা প্রকাশ করেছিলেন, তিনি বিচার দিবসে আমার বিচার প্রত্যক্ষ করার জন্যে স্রষ্টার কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছিলেনঃ Mamun Rashid: I pray to Almighty Allah to make me present there and witness your trial on Doomsday ! Ameen ! আমি তার আশা আংশিক পুরন করলাম। দেখি, ডুম'স ডে তে কোন শালা আমার বিচার করার জন্যে সামনে আসে!

যারা এখনো ডুম'স ডে'র ভয় পান, তাদের সুবিধার্থে আমার এই পোষ্ট বা যে কোন পোষ্ট আমার বিনা অনুমতিতে নিজের নামে, বেনামে, যখন যতবার খুশি কপি, পেস্ট যা যা খুশি, নিজ দায়িত্বে করবেন। আপনার কোন প্রকার সমস্যার দায় বা ক্রেডিট আমি নিতে যাবনা। লেখালেখি করে পয়সা কামানোর ধান্দা আমার নাই। আমার অন্য বৈধ আয়ের ব্যাবস্থা আছে। আমি লেখক না। টাইপিস্ট। আমার যা বলার ছিল, আছে, থাকবে, আমি টাইপ করতেই থাকব। সেইটা পড়ে কেউ আহত নিহত হলে তার দায়িত্ব আমার না। টাইপ করে মানুষ মারার কোনপ্রকার আইনগত ভিত্তি নাই। ধন্যবাদ।)

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১১:৩৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্তর্দহনের ওপারে প্রশান্তি

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



প্রিয় আকাশ,
মাঝে মাঝে তোমার দিকে তাকিয়ে মনে হয়, তুমিই সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে নিঃশব্দ প্রাঙ্গণ। তাই আমার সমস্ত অভিযোগ, অনুযোগ, ক্ষোভ, দীর্ঘশ্বাস আর অব্যক্ত আর্তনাদ তোমার দিকেই ছুড়ে দিই। তুমি নির্লিপ্ত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ কোরিয়ার 'নতুন গ্রাম আন্দোলন'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:২৭



বাংলাদেশের উন্নতি হতে হলে, গ্রামগুলোর উন্নয়ন ছাড়া উপায় নাই। গত ৫৬ বছরে আমাদের দেশের গ্রামবাসীদের উন্নয়ন খুবই কম হয়েছে। সেখানকার মানুষ অবহেলার সম্মুখীন হয়ে নিম্ন সেলারির জব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ইরানের নতুন শত্রু হতে চলেছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৬


মরুভূমির গরম বাতাস আর লোহিত সাগরের নোনা জলীয় বাষ্প যেখানে এসে মেশে, বাব এল মানদেব প্রণালীর সেই জায়গাটায় রাতের অন্ধকার নামলেই একটা অদ্ভুত নীরবতা ছেয়ে যায়। কিন্তু সেই নীরবতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কল্প-গল্প : প্রমিথিউসের শেষ রাত

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:১১



“স্যার, কিছু কয়েন দেন!” মোলায়েম স্বরে বলেই হাত কচলায়।

কয়েনটি যিনি চাইলেন, তিনি একজন ভিক্ষুক। ব্যস্ত শহরের এই চৌরাস্তায় বসে নিয়মিত কয়েন আবদার করাই তার একমাত্র কাজ। মালদার পার্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×