somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সিয়াম মেহরাফ
আমি খুবই সাধারন একজন মানুষ।লিখালিখি ভাললাগে।লিখালিখির মাঝে আমি আমাকে খুঁজে পাই তাই লিখি।

মনে পড়ে সেই জিয়াদের কথা?যে মারা গিয়েছিল পাইপের ভিতরে পড়ে গিয়ে।এবারে আসুন কিছু বাস্তব জেনে নিন ঐদিনকার ঘটনার!

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনে পড়ে সেই জিয়াদের কথা যে পাইপের ভিতর পড়ে মারা গিয়েছিল? আজকে আবারো সেইম রকমের একটা ঘটনা ঘটেছে ছেলেটির নাম নীরব।যাই হোক সেদিনকার জিয়াদের কিছু কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি দেখে নিন।একটু মনযোগ দিয়ে নিচের অংশটা পরুন।

জিয়াদ পাইপের মধ্যে পড়েছিল দুপুর ৩টার দিকে।উদ্ধার বাহিনি কাজ শুরু করেছিল বিকেল ৫টার দিকে।সেই ৬০০ ফুট গভীরে দড়ি ফেলা হয়েছিল রাত ৮টায়।সাড়ে আটটায় ফায়ার সার্ভিসের বাহিনীরা বলেছিল যে জিয়াদ সারা দিচ্ছে।রশি ধরেও উঠার চেস্টা করছে।কিন্তু পারছে না।শিশুটির জন্য জুস ও পানি পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।শিশুটি জুস এবং পানি খেয়েছিল বলেও জানাল তারা।জুস আর পানি খেয়েছে বিধায় অতিরিক্ত জুস,পানি আর অক্সিজেন পাঠানো হয়েছিল রাত ৯টার দিকে।রাত পৌনে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের এক উদ্ধারকর্মী মনির হোসেন জানান যে শিশুটির সাথে তার বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে।বাচ্চাটা নাকি তাকে বলেছিল সে একটুখানি জুস খেয়েছে।রশি পাঠানোর পর বাচ্চাটা বলেছিল সে নাকি ধরতে পারছে না এটাও জানায় উক্ত কর্মকর্তা।আবার রাত ১টার দিকে উক্ত কর্মী মনির হোসেনই জানান যে পাইপটির ভিতর থেকে সে অস্বাভাবিক কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়েছে।রাত ২টা ৩০ মিনিটে ৬০০ ফুট গভীরে ক্যামেরা নামিয়ে কোন কিছুরই সন্ধান পাওয়া যায়নি।রাত ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকতা জনগনকে জানান সে পাইপে বাচ্চা ছেলেটা পরে যাওয়ার বিষয়টি গুজব। ঠিক তখনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টাকে গুজব বলে উড়িয়ে দেন।পরেরদিন শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়।

এবারে কিছু কথাঃ-পাইপে পড়ার ২ঘন্টার মধ্যেই মারা গিয়েছিল জিয়াদ।অতএব,বেলা ৫টা অথবা ৫টা ৩০ এর দিকে মারা গিয়েছিল জিয়াদ।পাইপের নিচে থাকা পানিতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিল সে।৬০০ ফুট নয় জিয়াদকে উদ্ধার করা হয়েছিল মাত্র ২৪০ ফুট গভীর থেকে।জিয়াদ মারা গিয়েছিল ২৪০ ফুট নিচে কিন্তু উক্ত ক্যামেরা ৬০০ ফিট গভীরে যাওয়ার পথেও কোন সন্ধান পায়নি জিয়াদের।

আপনাদের কাছে কিছু প্রশ্ন।যদি জিয়াদ উক্ত ২ ঘন্টার মধ্যেই মারা গিয়ে থাকে তাহলে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কেন বলা হয়েছিল যে জিয়াদ সারা দিচ্ছে?রশি ধরে উঠার চেস্টা করছে?কিন্তু পারছে না।বাচ্চাটি নাকি জুস খেয়েছিল,কিন্তু কিভাবে সম্ভব?আবার রাত পৌনে ১২টায় মনির হোসেন কেন বলেছিলেন যে জিয়াদের সাথে তার কথা হয়েছে অনেকবার।জিয়াদ নাকি তাকে জানিয়েছে যে সে একটুখানি জুস খেয়েছে?দড়ি ধরেও নাকি উপরে উঠার চেস্টা করছে।আচ্ছা মেনেই নিলাম শিশুটি সারা দিচ্ছে,জুস খাওয়ার কথা তাকে জানিয়েছে,কিন্তু আমার প্রশ্ন এখানেই যে শিশু জিয়াদের উদ্ধারকাজ শুরুর সময়েই পাইপের আশেপাশে হাজার মানুষের ভিড় ছিল সবাই জিয়াদকে তাড়াতাড়ী পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করছিল।সেই মানুষগুলোর তৈরি করা শব্দগুলো কি এতই নিচু গলার ছিল যে ৬০০ ফুট গভীরের নিচে পাইপে কি হচ্ছে বা জিয়াদ কথা বলছে এটা শোনা উপর থেকে সম্ভব হয়েছে? আসলেই কি এত সহজ ছিল ব্যাপারটা?আচ্ছা এটাও মেনে নিলাম যে সে শব্দটা শুনেছে।মনির হোসেন সেখান থেকে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ আর কথা বলা,তাছাড়া সে যে জুস খেয়েছে এটা শুনেছিল।তবে কিভাবে রাত ৩টায় এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেটাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেন?এর উত্তর আপনারাই দিন।তারপরেও আমি কিছু বলি ঐদিন হয়ত জিয়াদকে মৃত অবস্থায় পেয়েও জনগনকে জানানো হয়নি কিছু কেননা তাহলে জনগন তাদের দায়িত্বহীনটার উপর প্রশ্ন তুলবে আর সেই মৃত লাশ উদ্ধার করলে একদিক থেকে তাদেরও বদনাম হবে,ঐ একই কারনে দায়িত্বহীনতা।বেশ ভালো,তারা পরেরদিন গুজব বলে সব উড়িয়ে দিয়ে দুপুরে তা স্থগিত করল।যাতে এখন কেউ শিশুটাকে মৃত অবস্থায় পেলেও ফায়ার সার্ভিসকর্মীদেরকে বা গোয়েন্দা সংস্থা বাহিনীর লোকদেরকে বা সরকার পক্ষকে বুড়ো আঙুল দেখাতে না পারে।দায়িত্বহীনতার প্রশ্ন না তুলে পারে।

ব্যাপারটা বুঝাটা কোন কঠিন কিছু নয়।এটা খুবই সহজ একটা ব্যাপার,সব কিছু পরিস্কার তবুও আপনাদের কাছে করা প্রশ্নগুলোর উত্তর পেলে হয়ত আরো ভালোভাবে জানতে পারব।


সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:৫০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×