
আমি বলছিনা রাষ্ট্র সরাসরি সন্ত্রাসীর ভূমিকায় নেমেছে, তবে একজন সচেতন নাগরিক যখন কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারবেনা, কিংবা কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখালেই তাকে ভয়-ভীতি দেখানো সহ সন্ত্রাসী লেলিয়ে দেওয়া হবে, কোন কোন ক্ষেত্রে সরকারী বাহিনী কিংবা বেসামরিক লোক দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, তারপর উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া মানুষটির উপরে কি ধরণের নির্যাতন করা হয়, তা যখন লোক-চক্ষুর অন্তরালে থেকে যায় কিংবা কেউ ছাড়া পাওয়ার পরও জীবনের ভয়ে আর মুখ খুলতে রাজি হয়না, এসব তার'ই প্রমাণ।
দেশে এত বড় একটা শিক্ষার্থী-আন্দোলন হয়ে গেল, প্রথম কয়েক দিন তেমন কোন সংঘাতের সংবাদ না পাওয়া গেলেও শেষে এসে কেন সংঘাত তৈরী হলো ? স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে, এটা আসলে কারা করলো এবং কেন করলো ? যখন ছাত্র/ছাত্রী ছাড়া অন্য কেউ এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আগেই তাদেরকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তকমা লাগিয়ে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছিল। অথচ এর পরই পুলিশের সহযোগিতায় ছাত্র/ছাত্রীদেরকে লাঠি-সোটা দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হলো, এগুলো কারা করলো ? নিশ্চয় এরা অনুপ্রবেশকারী নয়, হলে পুলিশ তো এভাবে অবাধ ছাত্র পেটানোর সুযোগ দিতো না। তাহলে অন্যরা যেখানে প্রবেশ না করেই অনুপ্রবেশকারীর তকমা পাচ্ছে, সেখানে এদেরকে কেন সরকারী অনুপ্রবেশকারীর তকমা দেওয়া হবেনা ? এদেরকে কে বা কারা প্রবেশ করার অনুমতি দিলো ?
এসব নিয়ে খুব বেশী বিশ্লেষনের প্রয়োজন পড়েনা, শুধু খোলা চোখে একটু ভাবলেই সব কিছু পরিস্কার হয়ে যায়, কিন্তু তারপরও সত্য কথাটা কেউ বলতে সাহস পাবেনা; কারণ ঐ একটাই। আর এর প্রমাণ তো ইতোমধ্যে আমরা হাড়ে হাড়ে পেয়ে গেছি, প্রখ্যাত ফটোগ্রাফার শহীদুল আলমকে গ্রেফতার, রিমান্ড এবং হাসপাতালে ভর্তির মধ্য দিয়ে।
এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোন স্বাধীনতা আমাদের রইল কি ? ৩০ লাখ শহীদের কবরে আজ শুধুই হতাশা। ৫২, ৬৯, ৭১, ৯০ এগুলো এখন নিছক ইতিহাস । আর কিছুনা !
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



