
ছোট বেলায় দেখতাম, আমাদের গ্রামের হাটে প্রায়'ই এক লোক প্রাইভেট কারে চড়ে ওষুধ বিক্রি করতে আসত । নাম ছিল তার মেহদি হাসান । দেখতে লম্বা, স্মার্ট এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী । বক্তৃতার মাঝে মাঝে সে প্রায়'ই বলত, তৎকালীন নায়িকা শাবানার বিপরীতে সে নাকি বেশ কয়েকটা চলচিত্রে অভিনয়ও করেছে । যদিও এটা ছিল উপস্থিত মানুষদেরকে তার ফাঁপড় মারার একটা কথা । তবে দেখতে সে অনেকটা বাংলা সিনেমার নায়কের মতো ছিল - এটা ঠিক । যাইহোক, সেই ছোট বয়সেও তার বক্তৃতার শেষ কথাটি আমার খুব মনে ধরত । আর এ জন্যেই মূলতঃ রেফারেন্স হিসেবে তাকে এখানে নিয়ে আসা ।
মেহেদি হাসান যে ওষুধটি বিক্রি করত, তার নাম ছিল শান্তিরস সালসা । তার ভাষায় ওষুধটি তৈরী হত বিভিন্ন প্রকার গাছ-গাছড়া এবং নানা জাতিয় ফলমূলের রস দিয়ে । এবং সেটি প্রমাণ করার জন্য সে প্রায়'ই একটা বোতলের মুখ খুলে উপস্থিত লোকজনের মধ্য থেকে কাউকে কাউকে খাওতো এবং তাদের মুখ থেকে এক এক ফলের ঘ্রাণের নাম শুনত । গ্রামের সহজ-সরল মানুষ সালসা খেয়ে মেহেদি হাসান যেভাবে চাইত তারা সেভাবেই বিভিন্ন ফলের নাম বলত । এতে করে তার প্রমাণ করতে সহজ হত যে, ওষুধটি বিভিন্ন ফলের রস দিয়ে তৈরী । আর অসুখের কথা বলতে গেলে বাত, গ্যাস্ট্রিক থেকে শুরু করে প্রায় সব অসুখ'ই ভাল হয়ে যাবার কথা বলত । লোকজন তখন দেদারসে ওষুধ কিনত । এর মাঝে মাঝে চলত গান, কারন তার সাথে একজন শিল্পী এবং বাদ্যকারও থাকত । সেই সময়ও তার হাতে থাকত তারবিহীন মাইক্রোফোন এবং একটি বড় ক্যাসেট প্লেয়ার থাকত প্রাইভেট কারের উপর ।
এভাবে বেচা-বিক্রি, সালসার গুণ-মান প্রমাণ শেষে ঠিক চলে যাবার আগ মুহূর্তে উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ্য করে খুব ছোট করে তার একটা বক্তৃতা থাকত, তা হলো - "আমার এই সালসায় শেষ পর্যন্ত যদি কোন কাজ নাই'ই হয়, তাহলে এই যে বোতলটা দেখছেন না, (দু'হাত বোতলের সমান করে দেখিয়ে) এর ভেতর কমপক্ষে আড়াই কেজি কেরোসিন ধরবে । বোতলটা আপনাদের বাড়িতে কেরোসিন রাখার কাজে তো লাগবে ।"
বলা বাহুল্য, দেশে তখনো সহজলভ্য প্লাস্টিকের বোতলের প্রচলন হয়নি, তাই একটি বড় কাঁচের বোতলের যথেষ্ট চাহিদা ছিল ।
মাত্র কয়েকদিন আগে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শেষ হয়েছে । কেউ কেউ এটাকে পুরানো নাটকের'ই নতুন ভার্সন বলছে । মানে রাতের কলংক মুছার জন্য ডিজিটাল কায়দায় দিনকেই রাত বানানো হয়েছে । তাছাড়া সবাই তো জানেই, তালগাছ তার'ই হবে, মাঝ থেকে মামলা-মোকাদ্দমা করে টাকা নষ্ট করা আর কি । তবে ভোট শেষে কিছু স্বেচ্ছা-সেবকের উদ্যোগ অনেকেরই চোখে পড়েছে এবং ভালও লেগেছে । সালসা বিক্রয় শেষে অনেকটা ঐ শিক্ষিত হকার মেহদি হাসানের শেষ কথার মতো - "আমরা কেউ ভোট দিতে না পারলে কি, কোটি কোটি টাকা খরচ করে ছাপানো ভোটের পোষ্টার গুলো দেশের সুবিধা বঞ্চিত কিছু ছেলে-মেয়ের লেখার খাতার কাজে তো লাগবে ।"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






