somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকারের পক্ষ থেকে সকল শপিংমল, দোকানপাট খুলে দেওয়ার ঘোষণার পরও বসুন্ধরা সিটি এবং যমুনা ফিউচার পার্ক ঈদের আগে না খোলার সিদ্ধান্ত কি কারণে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে ?

০৮ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এক কথায় বলা যায় সব শ্রেণী পেশার মানুষই কম-বেশি বিপদে আছে । এর মধ্যে দেশের ব্যবসায়ী শ্রেণীও তার বাইরে নয় । বিশেষ করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আছে সব চেয়ে বেশি বিপদে । কারণ এই দূর্যোগাকালিন সময়ে ব্যবসা বন্ধ থাকায় তাদের স্বল্প পুঁজি থেকেই ভেংগে খেতে হচ্ছে । এর মধ্যে অনেকেই আছে, যাদের হাতে নগদ কোন ক্যাশ কিংবা ব্যাংকে জমানো কোন টাকাও নাই, যা আছে তার সবটাই ব্যবসায় বিনিয়োগ করা আছে। কিন্তু বেচা-বিক্রি বন্ধ থাকাতে সেখান থেকে কোন টাকা-পয়সা তারা বের করে আনতে পারছে না, যা দিয়ে নুন্যতম সংসার চালানো যায় ।

বলা যায় এই শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের জন্যই মূলতঃ শপিংমলসহ দোকানপাট খুলে দেওয়া খুব জরূরী ছিল । সরকার হয়ত সে বিবেচনা থেকেই এরকম ঘোষণা দিয়ে থাকতে পারে । কিন্তু কথা হলো, সরকার ঘোষণা দেওয়ার পরও দেশের সব চেয়ে বড় দুটি মার্কেট প্লেস কেন তাদের শপিংমল ঈদের আগে না খোলার সিদ্ধান্ত নিল ? সাধারন দৃষ্টিকোণ থেকে হয়ত মনে হতে পারে করোনার মত একটা ছোঁয়াচে রোগ, যেখানে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিই সব চেয়ে বেশি, সেখানে তারা মার্কেট খোলা রেখে এ ধরণের ঝুঁকি নিতে চায়নি । তা ছাড়া এটা সবাই জানে যে, মার্কেট মানেই মানুষের গ্যাদারিং, তার উপর আবার ঈদের কেনাকাটা, যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোন চিন্তাই করা যায় না ।

কিন্তু এই সাধারন চিন্তার পাশাপাশি আমার মনে হয় বসুন্ধরা সিটি এবং যমুনা ফিউচার পার্ক ঈদের আগে না খোলার সিদ্ধান্তে আরো একটি উল্লেখযোগ্য কারণ আছে । আর তা হলো, আমরা জানি এই দুটি শমিংমল-এ দেশের সব চেয়ে অভিজাত একটা শ্রেণীই যায় শুধু কেনাকাটার উদ্দেশ্যে, বাকী অসংখ্য মানুষ যায় শুধু দর্শনার্থী হিসেবে কিংবা ঘুরে ঘুরে আড্ডা মারতে, যারা বলতে গেলে তেমন একটা কেনাকাটাই করেনা । এসব মানুষ শুধুই ঘোরাঘুরি আর আড্ডা মেরে গ্যাদারিং করে । এ অবস্থায় এ দুটি মার্কেট কর্তৃপক্ষ খুব ভাল করেই জানে যে, মার্কেট খোলা রাখলেও শুধু কেনাকাটার উদ্দেশ্যে ঐসব অভিজাত শ্রেণীর কাস্টমাররা এই সময় ঝুঁকি নিয়ে মার্কেটে আসবে না ।

এখন প্রশ্ন হলো, অন্য সবাই যখন যেখানে-সেখানে ইচ্ছেমত ঘোরাঘুরি করছে, কেনাকাটা করতে যাচ্ছে, সেখানে এই অভিজাত শ্রেণী কেন মার্কেটে আসবে না ? উত্তরটা খুব সোজা, মানুষ আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ভোগ-বিলাশে যখন সে তৃপ্তির সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছায় তখন তার মৃত্যুভয় অনেক বেড়ে যায়, এত অর্জণকে রেখে মৃত্যুর মতাে একটা নিকষ অন্ধাকারে পাড়ি দেওয়া অন্য সাধারনের চেয়ে তার ভয়টা অনেক বেশি । তাই তুচ্ছ অসুখের জন্যেও সে চিকিৎসা নিতে যায় সিংগাপুর, ইউরোপ, এ্যামেরিকায় । আর করোনার মত এমন ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে তারা কেনাকাটার মত তুচ্ছ কাজে মার্কেটে যাবে - এটা ভাবাই যায় না ।

তাই, বসুন্ধরা সিটি এবং যমুনা ফিউচার পার্ক কর্তৃপক্ষ ঈদের আগে যে মার্কেট না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা যতখানি না সামাজিক বিবেচনায়, তার চেয়েও বেশি ব্যবসায়িক বিবেচনায় । এ ছাড়া মার্কেট খোলা রাখার বিশাল একটা ইউটিলিটি কস্ট তো আছেই, সেটাকেও এড়ানো গেল ।


সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:৩৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×