
কয়েক দিন হলো আষাঢ় এসেছে । অথচ থই থই জলে যেন ডুবে আছি আমরা কতদিন ! বৈশাখের প্রচন্ড খরায় যখন আমাদের মন পড়েছিল এক চিলতে মেঘের উপর, তখন এত বৃষ্টি হয়নি; তবু হাঁটুজল থেকে বুক অব্দি ডুবতে ডুবতে এখন যেন তলিয়ে যাবার জোগাড় !
কে আর চায় এত জল ! আষাঢ় এলে টিনের চালে বৃষ্টি তো পড়বেই; সারারাত বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে এক সময় ঘুমিয়ে যাব; সকাল হলে ঘুম ভেঙ্গে ময়ুরের পাখার মতো ডানা মেলে উড়াল দেব আকাশে । এই পথ, অবাধ হেঁটে চলা, গাড়ীর শব্দ, হর্ণ, ফেরিওয়ালার ডাক, কর্মক্ষেত্র সর্বপরি ব্যস্ত জীবনটাই যেন আমাদের আকাশ । আর প্রতিদিনের কাজটাই হলো ভ্রমণ কিংবা ভ্রমণের মধ্য দিয়েই আমাদের কাজ । তারপর দিন শেষে বাড়ি ফেরা ।
আষাঢ়, মেঘ, বৃষ্টি, জল এটা প্রকৃতিরই একটা খেয়াল । সে আসে, এসেছে এবং আসবে । কিন্তু আষাঢ়ের এই মেঘ, বৃষ্টি, জলের সাথে যদি আমাদের চোখের জলও মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, তাহলে এই ঝর ঝর বৃষ্টির নান্দনিক যে ছন্দ, তা আর আমাদের মনে বাড়তি কোন দোলা দেয় না । সে ছন্দ তখন বিরক্তির কারণ হয়ে মনকে আরো বিষিয়ে তোলে ।
তবু এই বিষন্ন মনে একরাশ ভয়, আতংক আর জীবনের মায়া ত্যাগ করে আকাশভরা মেঘ আর রিমঝিম বৃষ্টির মধ্যেই আমাদের বেরিয়ে পড়তে হয় নগরে । যে নগরে এখন নিয়ম মানা আর নিয়ম ভাংগার খেলা চলছে । জানিনা এই নিয়ম মানা আর নিয়ম ভাংগার খেলায় আমি, আপনি কিংবা আমরা কতটুকু জয়ি হচ্ছি । নাকি নবাগত এই আষাঢ়ের বৃষ্টির জলে আমরা প্রতিদিন একটু একটু করে তলিয়ে যাচ্ছি !
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০২০ রাত ৯:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


