somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাফায়েল ভ্যান ডার ভার্ট!

১৫ ই জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৩:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লা-মাসিয়ার সাথে যদি কোনো ফুটবল এ্যাকাডেমির তুলনা কর হয় তবে সবার আগে যে নামটা আসবে তা হলো আয়াক্স ইউথ এ্যাকাডেমি। আজকের ওয়েসলি স্নাইডার, ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন, থমাস ভেরমালিনরা এই এ্যাকাডেমিরই তৈরি। আর একজন অসাধারণ খেলোয়ারকেও এই এ্যাকাডেমি তৈরি করেছে- রাফায়েল ভ্যান-ডার-ভার্ট।

এই ডাচ খেলোয়ার কতটা প্রতিভাবান ছিলেন তা বুঝতে আয়াক্স এ্যাকাডেমির একটুও সমস্যা হয়নি। তাই প্রথম ট্রায়ালেই ১০ বছর বয়সী ভিডিভিকে নিয়ে নেয় এই দল। তারপর ২০০০ সালে যখন ১৭ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আয়াক্সের হয়ে তার প্রথম মৌসুম খেলেন তখন দর্শকদের অবাক হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। বাম পায়ের যাদুতে সবাইকেই যেন নিজের বশ করে ফেলেছিলেন। নাহয় ১৭ বছরে ছেলেকে কেউ 'নতুন ক্রুইফ' বলে ডাকে? সাথে ডাচ ফুটবলের বর্ষসেরা প্রতিভা আর গোল্ডেন বয় অ্যায়ার্ডতো ছিলই।

সেটাতো ছিল শুধু শুরু। স্নাইডারের সাথে মিডফিল্ডে ভয়ংকর জুটি গড়ে তোলেন, সাথে ইব্রার মতো স্ট্রাইকার, এক কথা পুরা কম্প্লিট অ্যাটাকিং প্যাকেজ। আর এই প্যাকেজেই বিদ্ধস্ত হতো প্রতিপক্ষ। ২০০৪ এ ইব্রার সাথে সম্পর্ক শীতল হওয়া ও ইব্রার জুভেন্টাসে যাওয়ায় তাকে অ্যাটাকিং মিড থেকে সরাসরি স্ট্রাইকিং পজিশনে খেলানো হয়, সাথে দেওয়া হয়। তবে কোচের সাথে বড়াবড় খারাপ সম্পর্কের জন্য সে ক্লাব ছাড়ে। সম্পর্কটা কতটা খারাপ ছিল তা বোঝার জন্য একটা ছোট পরিসংখানই যথেষ্ঠ, গড়ে তিনি প্রতি মৌসুমে ২৩ টা লিগ ম্যাচ খেলতে পারতেন।

আয়াক্স ছেড়ে যখন হ্যামবুর্গে যোগ দিলেন, অনেকেই অবাক ও হতাশ হয়েছিলেন। যাদের দলে জোহান ক্রুইফও একজন। কারণ হ্যামবুর্গে যোগ দেওয়ার আগে বাতাসে খুব জোড়ালো গুন্জন ছিল তার মিলানে যাওয়ার বেপারে।

তবে ক্লাবকে সফলতা দিতে তার অবদান সবাইকে আবারও অবাক করে, প্রথম মৌসুমেই ক্লাবের টপ স্কোরার, দল লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে আর ট্রফি কেবিনেটে '২০০৫ উয়েফা ইন্টারটোটো কাপ'। পরের মৌসুমে ক্যাপ্টেন্সি পেলেও ইন্জুরির কারণে নিজের সেরাটা দিতে পারেন নি। তবে দল ঠিকই জেতে ইন্টারটোটো কাপ। রিয়াল মাদ্রিদের তুমুল আগ্রহ যখন তাকে বার্নাব্যুতে আনা সময়ের ব্যাপার মনে করায়, তখনই আরেক বছর থাকার ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি। হ্যামবুর্গে তার শেষ মৌসুমে ১২ গোল করেন, যদিও ইন্জুরি তাকে আবারও গ্রাস করে।

২০০৮-০৯ মৌসুমের শুরুতে চেলসি, অ্যাতলেটিকো আর জুভেন্টাসকে পেছনে ফেলে মাদ্রিদ সাইন করায় ভিডিভিকে। রাউলের পজিশনে দারুন খেললেও জুনাড ও পেলেগ্রিনির প্ল্যানে ছিলেন না তিনি। তাছাড়া স্নাইডার-রোবেনদেরকে অনিচ্ছা থাকা সত্তেও বিক্রি করা তার ভালো লাগে নি, যদিও তিনি চেয়েছিলেন মাদ্রিদে আরও কয়েক মৌসুম থাকতে। তবে ২০১০ এর ডেডলাইন ডের শেষ মুহুর্তে তাকে টটেনহ্যামে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

টটেনহ্যামে সেই চিরচেনা ভ্যান-ডার-ভার্টকে না পাওয়া গেলেও দলের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে তার অবদান চোখে পড়ার মতো। বেল-মদ্রিচ-ক্রাউচ-পার্কার-লেলোন-ভিডিভি, এই অ্যাটাক সামলাতে প্রায় প্রতিটা টিমকেই হিমশিম খেতে হয়েছে। সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসেবে তার খেলা ভয়ংকর বললেও কম হবে। ২০১২-২০১২ এর শেষে হ্যামবুর্গে ফিরে আসেন এই ৩১ বছর বয়সী ডাচ।

আন্তর্জাতিক লেভেলে তার পারফরমেন্স সর্বদাই আশানূরূপ ছিল। দেশের হয়ে মোট গোল সংখ্যা ২৫। ২০০৪ এর ইউরো আর ২০১০ এর বিশ্বকাপ তার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আসলে মাঝেমাঝে একটা প্রশ্ন আমার মাথায় বারবার ঘুরপাক খায়, ভ্যান-ডার-ভার্ট আসলে কোন পায়ে খেলেন। কারণ একদিকে বাম পায়ের লং রেন্জের শট, অন্যদিকে ডান পায়ের চোখ ধাঁধানো ফিনিশিং। দারুণ ও কার্যকরী থ্রু পাস বা ক্রস, অথবা গোল করার অভ্যাস। ক্লিনিকাল স্ট্রাইক বা দারুন ভিসন সম্বলিত কম্প্লিট প্যাকেজ এই ডাচ। এ্যাটাকিং মিডফিল্ড পজিশনটাকে 'সেকেন্ড স্ট্রাইকার'-এ বদলানোর পেছনে রাউলের পড়ে যদি কারো হাত থেকে থাকে তবে সে রাফায়েল ভ্যান-ডার-ভার্ট।

এতটা গিফটেড ফুটবলার হয়তো ফুটবল বিশ্ব আগামী ৩০-৪০ বছরেও পাবেনা।

রাফায়েল ভ্যান-ডার-ভার্ট
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রূপকথার সুপার-হিরোরা

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ৯:০৮



সব ধর্মেই সুপার-হিরো আছেন, এঁরা রূপকথার সুপার-হিরো। হিন্দু ধর্ম পুরোটাই রূপকথা নির্ভরশীল হওয়ায়, ওখানে হাজারের বেশী সুপার-হিরো আছে। হিন্দু সুপার-হিরো ও অবতার, লর্ড কৃষ্ণ কুরুক্ষত্রে যুদ্ধ করেছেন পান্ডবদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চোখের ভাষা

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ১১:২১


মানব সভ্যতা দুর্দমনীয় গতিতে এগিয়ে যাবার পেছনে চোখের গুরুত্ব অপরিসীম; এটা কে না জানে? চোখ না থাকলে আমদের সভ্যতা এতদুর এগিয়ে আসা-তো দুরের কথা আমরা অনেক আগেই পৃথিবী থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকার রাস্তায় গুরু রুমী ও শাইয়্যানের কয়েক টুকরো হাসি কেনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১২:৪৪



শ্রদ্ধেয় গুরু শামস তাবরীজী,
আপনার কাছ থেকে শিখে একবার বলেছিলাম - "এবার নিজেকে এক টুকরো হাসি দাও! হীরার কি দাম আছে যদি সে হাসি দিতেই না পারে!" আমি আমার বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রসঙ্গ ডক্টর ইউনুস।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ২:২৭

ডক্টর ইউনুসের বিরুদ্ধে সরকার কিছুই করে নি।
কর ফাঁকির মামলাও সরকার করে নি, উনি নিজেই আদালতে গিয়ে মামলায় হেরেছেন। আরেকটি মামলাও মামুলি একটি মামলা। কর্মচারীদের বেতন ভাতা কিছু বকেয়া মামলা। সেটাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

সভ্য হওয়া নয়কো সোজা...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৫:১৭



১. কয়েকদিন আগে মেট্রোরেলের এসকেলেটরে দুই পথশিশুর দুষ্টামি কেউ একজন ফেসবুকে পোস্ট করলেন। সেখানে অনেক মন্তব্য দেখলাম এই শিশুদের পক্ষে, আর পোস্টদাতার বিপক্ষে। কয়েকটি মন্তব্য এরকম -
* ওদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×