গুটিগুটি পায়ে বছরটা পার হয়ে গেলো প্রায়। আগামীর অনেক রকম প্রস্তুতি চলছে সবার মাঝে। নতুন বছরে নতুন কিছু করা। সাফল্যকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বা ব্যর্থতাকে দূরে ঠেলে নতুন যাত্রা শুরু করার চিন্তা প্রতিটি মানুষের মন জুড়ে।
বই প্রকাশ, বই মেলা লেখক, প্রকাশদের অনেকটা জায়গা দখল করে আছে এই সময়। বছরের শুরুর এই বিশাল আয়োজনে কিভাবে যোগ দেয়া যায় তার প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন সবাই নিজের মতন। শেষ মুহুর্তে লেখায় ব্যাস্ত অনেক। অনেকে মন খারাপ করে ইতি উতি দেখছেন। লেখার ভান্ডার হাতে নিয়ে। কেউ কী সুহৃদয় হয়ে এগিয়ে আসবে প্রকাশনার জন্য।
প্রকাশক, সার্থক প্রতিষ্ঠিত লেখক খুঁজছে। তাগদা দিয়ে আরেকটা বই যদি নামিয়ে আনা যায় হয়ত ভালো ব্যবসা হয়ে যাবে।
লেখক, কবি, শিল্পী কেউ কি কখনও নিজের সাবলীল সুকুমার শিল্প চর্চার কোন সম্মান পেয়েছেন প্রথম অবস্থায়। জীবনদশায় খুব কম জনই নিজের প্রতিষ্ঠা দেখে যেতে পেরেছেন্ বেশীর ভাগ ধুকে ধুকে নিজের অস্থিত্ব বিলীন করে সাধনা করে গেছেন অন্তরের ভালোবাসার।
অনেক নামী লেখক প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন নিজের লেখা নিয়ে। আর পেয়েছেন অবহেলা চুড়ান্ত রকম।
বর্তমানের লেখকরা অনেক ভালো অবস্থানে আছেন। আগের মতন হতো দরিদ্র অবস্থা নেই। অনেক লেখকের কাছে লেখা যেমন আসে টাকাও আসে। নিজের লেখা বই আকার দিতে, প্রকাশককে টাকা দিয়ে প্রকাশ করতে অনেকেরই তাই খুব খারাপ লাগে না। বরং বেশ উৎসাহ পান। বই হয়ে যাওয়ার।
কতটা সংকির্ন যন্ত্রনা ভাবতে পারিনা। নিজের লেখা নিজের টাকায় প্রকাশ করে কি আনন্দ পাওয়া যায়।
আজকাল শুনেছি প্রকাশকরা দুশ বা তিনশ বই লেখককে কিনে নেওয়ার ওফার দেন। হাজার কপি হলে ঐ দুতিন শ বইয়ের টাকায় বই প্রকাশ হয়ে যায়। বাকি ছয় সাতশ বই প্রকাশক কি করেন? কোন পাঠক আর কিনে বই পড়েন না। কোন বই বিক্রি হয় না। তাই প্রকাশকের ব্যবসা অলাভজনক সব সময়। অথচ প্রকাশকরা থাকেন সব সময় বছরের পর বছর অসফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কোন লাভ ছাড়া।
দু চার জন সফল লেখক যারা প্রথম জীবনে প্রকাশকের অবহেলার শিকার হয়েও লেখা পৌঁছে দিয়েছেন পাঠকের কাছে তারা ছাড়া। অসংখ্য প্রথম প্রেমের মতন ভালোলাগার লেখক মন, মধ্যসত্ব ভোগের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হচ্ছে অনবরত।
দিন রাত এক করে যে লেখাটি হৃদয়ের সুকোমল পদ্মাসনে রাখেন লেখক। প্রকাশক বই করে সে লেখা গুমটি ঘরে জমিয়ে রাখেন।
কখনও কোন বই বিক্রি হয় না, কখনও লেখক কোন টাকা পয়সা পান না। বরং নিজের লেখা বই নিজে কিনে প্রকাশকের হাতে তুলে দেন টাকা। অনাবিল এক অভিমান বুকে ভাবতে থাকেন নতুন লেখার প্লট। কারণ লেখক তার লেখা ছাড়তে পারেন না।
বিদেশে থাকা কিছু লেখক নিজের বই প্রকাশ করে, শ দুই বই বিদেশের পরিচিত বন্ধুদের কাছে বিক্রি করে, নিজের টাকাটা উঠিয়ে নেন। ব্যস আবার নতুন বই লিখতে বসেন পরবর্তি মেলার প্রস্তুতি নিয়ে।
একটা বইয়ের লেখা কী শুধুই নিজের পরিচিত বৃত্তের মধ্যে ঘুরে বেরাবে। এতে কী লেখকের তৃপ্তি হয়? পৌঁছাবে না অসংখ্য অগনিত অচেনা পাঠকের কাছে। এতে কেমন সার্থকতা।
অহেতুক এই লেখালেখি আর প্রকাশের সাজ সাজ রব কেন তবে আমার বোধের অযোগ্য
আজকাল আবার দেখি, একটি বই প্রকাশের সাথে সাথে পুরস্কার পেয়ে যায়। বছর না যেতে বছর জুড়ে প্রকাশিত সব বই না পড়ে কি ভাবে একটা বইকে পুরস্কারের জন্য মূল্যায়ন করা হয়, পুরস্কার দেয়া হয়। আমার বোধের মধ্যে আসে না।
সব জায়গাতেই নিজেকে প্রচার করার বিশাল এক প্রতিযোগীতা চলছে। সেখানে যে যত পালক গুজতে পারবে ততই সম্মানিত জনতার কাছে। সে পালক যে ভাবেই গুজা হোক সেটা ব্যাপার না।
সত্যিকারের লেখক, কবি, শিল্পী, গায়ক, অভিনেতা সবাই মধ্যস্বত্ব ভোগীর যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে অবিরত। কবে যে এই সুকোমল হৃদয়ের সঠিক মূল্যায়ন হবে। তাদেরও মনে হয় নিজেদের সম্পদ নিজে বিক্রি করতে না পারলে আকড়ে ধরে বসে থাকা উচিৎ যক্ষের ধন করে। অথবা সামর্থ থাকলে নিজে প্রকাশ করে বিলিয়ে দেন অগনিত কোমলমতি কিশোরদের কাছে।
চোখের সামনে অনেককে দেখলাম এই সুকোমল শিণ্পীদের মূলধন পুজি করে তরতর করে উঠে গেছেন অট্টালিকার উপরে। অথচ শিল্পীরা রয়ে গেছেন সেই একই অবস্থানে।
এই অনৈতিক নিয়মের পরিবর্তন দরকার। সচেতন হতে হবে সবারই। মধ্য স্বত্তভোগীর ভোগ না হওয়ার জন্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


