somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

যন্ত্রনার যাঁতাকলে প্রেম

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গুটিগুটি পায়ে বছরটা পার হয়ে গেলো প্রায়। আগামীর অনেক রকম প্রস্তুতি চলছে সবার মাঝে। নতুন বছরে নতুন কিছু করা। সাফল্যকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বা ব্যর্থতাকে দূরে ঠেলে নতুন যাত্রা শুরু করার চিন্তা প্রতিটি মানুষের মন জুড়ে।
বই প্রকাশ, বই মেলা লেখক, প্রকাশদের অনেকটা জায়গা দখল করে আছে এই সময়। বছরের শুরুর এই বিশাল আয়োজনে কিভাবে যোগ দেয়া যায় তার প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন সবাই নিজের মতন। শেষ মুহুর্তে লেখায় ব্যাস্ত অনেক। অনেকে মন খারাপ করে ইতি উতি দেখছেন। লেখার ভান্ডার হাতে নিয়ে। কেউ কী সুহৃদয় হয়ে এগিয়ে আসবে প্রকাশনার জন্য।
প্রকাশক, সার্থক প্রতিষ্ঠিত লেখক খুঁজছে। তাগদা দিয়ে আরেকটা বই যদি নামিয়ে আনা যায় হয়ত ভালো ব্যবসা হয়ে যাবে।
লেখক, কবি, শিল্পী কেউ কি কখনও নিজের সাবলীল সুকুমার শিল্প চর্চার কোন সম্মান পেয়েছেন প্রথম অবস্থায়। জীবনদশায় খুব কম জনই নিজের প্রতিষ্ঠা দেখে যেতে পেরেছেন্ বেশীর ভাগ ধুকে ধুকে নিজের অস্থিত্ব বিলীন করে সাধনা করে গেছেন অন্তরের ভালোবাসার।
অনেক নামী লেখক প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন নিজের লেখা নিয়ে। আর পেয়েছেন অবহেলা চুড়ান্ত রকম।
বর্তমানের লেখকরা অনেক ভালো অবস্থানে আছেন। আগের মতন হতো দরিদ্র অবস্থা নেই। অনেক লেখকের কাছে লেখা যেমন আসে টাকাও আসে। নিজের লেখা বই আকার দিতে, প্রকাশককে টাকা দিয়ে প্রকাশ করতে অনেকেরই তাই খুব খারাপ লাগে না। বরং বেশ উৎসাহ পান। বই হয়ে যাওয়ার।
কতটা সংকির্ন যন্ত্রনা ভাবতে পারিনা। নিজের লেখা নিজের টাকায় প্রকাশ করে কি আনন্দ পাওয়া যায়।
আজকাল শুনেছি প্রকাশকরা দুশ বা তিনশ বই লেখককে কিনে নেওয়ার ওফার দেন। হাজার কপি হলে ঐ দুতিন শ বইয়ের টাকায় বই প্রকাশ হয়ে যায়। বাকি ছয় সাতশ বই প্রকাশক কি করেন? কোন পাঠক আর কিনে বই পড়েন না। কোন বই বিক্রি হয় না। তাই প্রকাশকের ব্যবসা অলাভজনক সব সময়। অথচ প্রকাশকরা থাকেন সব সময় বছরের পর বছর অসফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কোন লাভ ছাড়া।
দু চার জন সফল লেখক যারা প্রথম জীবনে প্রকাশকের অবহেলার শিকার হয়েও লেখা পৌঁছে দিয়েছেন পাঠকের কাছে তারা ছাড়া। অসংখ্য প্রথম প্রেমের মতন ভালোলাগার লেখক মন, মধ্যসত্ব ভোগের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হচ্ছে অনবরত।
দিন রাত এক করে যে লেখাটি হৃদয়ের সুকোমল পদ্মাসনে রাখেন লেখক। প্রকাশক বই করে সে লেখা গুমটি ঘরে জমিয়ে রাখেন।
কখনও কোন বই বিক্রি হয় না, কখনও লেখক কোন টাকা পয়সা পান না। বরং নিজের লেখা বই নিজে কিনে প্রকাশকের হাতে তুলে দেন টাকা। অনাবিল এক অভিমান বুকে ভাবতে থাকেন নতুন লেখার প্লট। কারণ লেখক তার লেখা ছাড়তে পারেন না।
বিদেশে থাকা কিছু লেখক নিজের বই প্রকাশ করে, শ দুই বই বিদেশের পরিচিত বন্ধুদের কাছে বিক্রি করে, নিজের টাকাটা উঠিয়ে নেন। ব্যস আবার নতুন বই লিখতে বসেন পরবর্তি মেলার প্রস্তুতি নিয়ে।
একটা বইয়ের লেখা কী শুধুই নিজের পরিচিত বৃত্তের মধ্যে ঘুরে বেরাবে। এতে কী লেখকের তৃপ্তি হয়? পৌঁছাবে না অসংখ্য অগনিত অচেনা পাঠকের কাছে। এতে কেমন সার্থকতা।
অহেতুক এই লেখালেখি আর প্রকাশের সাজ সাজ রব কেন তবে আমার বোধের অযোগ্য
আজকাল আবার দেখি, একটি বই প্রকাশের সাথে সাথে পুরস্কার পেয়ে যায়। বছর না যেতে বছর জুড়ে প্রকাশিত সব বই না পড়ে কি ভাবে একটা বইকে পুরস্কারের জন্য মূল্যায়ন করা হয়, পুরস্কার দেয়া হয়। আমার বোধের মধ্যে আসে না।
সব জায়গাতেই নিজেকে প্রচার করার বিশাল এক প্রতিযোগীতা চলছে। সেখানে যে যত পালক গুজতে পারবে ততই সম্মানিত জনতার কাছে। সে পালক যে ভাবেই গুজা হোক সেটা ব্যাপার না।
সত্যিকারের লেখক, কবি, শিল্পী, গায়ক, অভিনেতা সবাই মধ্যস্বত্ব ভোগীর যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে অবিরত। কবে যে এই সুকোমল হৃদয়ের সঠিক মূল্যায়ন হবে। তাদেরও মনে হয় নিজেদের সম্পদ নিজে বিক্রি করতে না পারলে আকড়ে ধরে বসে থাকা উচিৎ যক্ষের ধন করে। অথবা সামর্থ থাকলে নিজে প্রকাশ করে বিলিয়ে দেন অগনিত কোমলমতি কিশোরদের কাছে।
চোখের সামনে অনেককে দেখলাম এই সুকোমল শিণ্পীদের মূলধন পুজি করে তরতর করে উঠে গেছেন অট্টালিকার উপরে। অথচ শিল্পীরা রয়ে গেছেন সেই একই অবস্থানে।
এই অনৈতিক নিয়মের পরিবর্তন দরকার। সচেতন হতে হবে সবারই। মধ্য স্বত্তভোগীর ভোগ না হওয়ার জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:০১
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×