somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

সে বয়ে যাক আপন মনে

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রকৃতি নিয়ে আর পারি না। এখন সময় এমন হয়েছে, আমাদের ব্যাস্ততার শেষ নাই। আমরা সারাক্ষণ ইঁদুর দৌড় দৌড়াচ্ছি সময়ের পিছে। আর যে টুকু সময় আছে ধরে রাখি দৃষ্টি আধুনিক যন্ত্রের মুখে। আমরা আবেগে আপ্লুত হই। আমরা ভালোলাগায় এবং রাগে দুঃখে ভেসে যাই। সব কিছুই জড়িয়ে থাকে যন্ত্রের সীমানায়।
এত ব্যাস্ততার মাঝে সময় কই শীত গ্রীষ্ম, বসন্ত বা শরতের মান অভিমান, কষ্ট ভালোলাগা দেখার। এ ছাড়া আছে সকাল দুপুর বিকাল রাত। অন্ধকার ও আলোর খেলা।আমাদের ঘরগুলো শীততাপ নিয়ন্ত্রিত নিয়ন আলোর বন্যায় হাসে। রাত দিনের পার্থক্য বুঝা ভার আমরা কখন দেখব আকাশে রঙধনু না কি মেঘের ঘনঘটা।



এই চঞ্চলতার ভিতর আমি থমকে যাই পথ চলতে, রান্না করতে। আমার দেরী হয়ে যায় পথে যেতে। আমার রান্না পুড়ে যায় আকাশে রঙের খেলা দেখতে গিয়ে। এত বৈচিত্র আমার মন কাড়ে। আমার হারিয়ে যোতে ইচ্ছে করে একটি ঘাসের শিশির বিন্দুর মাঝে।
খুব মনে পরে, মাঝে মাঝে ঘরে আবদ্ধ থেকে আমি হাপিয়ে উঠতাম। ইচ্ছেে হতো বেরিয়ে পরি রাস্তায়। হাঁটতে থাকি, যে দিকে দুচোখ যায় সে দিকে। কিন্তু একটি মাত্র খোলা হাওয়ার র্পাক ছিল বাড়ির কাছে। রমনা থেকে সোরয়ার্দি উদ্যান। সেখানে গাছে গাছে যত বাদুর ঝুলে থাকত। ঠিক তত দেহ ব্যবসা চলত।নানা রকমের অচেনা অঙ্গভঙ্গীর মানুষ চলাফেরা করত, অথবা সব বসার আসন দখল করে বসে থাকত। তাই সেখানে যেতে মানা।
বেইলী বোড়ের রাস্তাটা ছিল মনোরম। আমার হাঁটতে ইচ্ছে করত দুপাশের গাছে ঢাকা পাতার সুরয্গ পথে। কিন্তু ফুটপাত ভর্তি র্বজ্য গা গুলিয়ে দিত । হাঁটার ইচ্ছেরা মনবন্দী হয়ে থাকত।
মাঝে মাঝে সংসদ ভবনের বানানো হ্রদের পাশে অনেক মানুষের মাঝে জড়োসর হয়ে বসে থাকার চেষ্টা । তাও প্রতি সেকেন্ডে বাঁধা পেতো খাবার বিক্রেতার ব্যবসার তাড়নায়। আমিতো ঝালমুড়ি, বাদাম,শশা, চা খেতে যাইনি সেখানে। গিয়েছি বাতাস খেতে। সবুজ খেতে। আকাশের নীল খেতে কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি। কান ঝালাপালা করে বেজে যেতো বা.দদা.ম ভাআ..জাআ.....এমন আরো অনেক শব্দ। ইচ্ছে করে বয়রা হয়ে থাকলেও নিস্তার নেই। গায়ে টোকা দিয়ে ডাকাডাকি চলত।
ফুল কেনার জন্য। আহারে প্রকৃতি! মাঠ থেকে ফসলের ক্ষেত থেকে হকারের ঝুড়িতে উঠে আমার নিরিবিলি হারিয়ে যাবার আকাঙ্খার বারটা বাজিয়ে দিত।
কখনো হারিয়ে যেতে চাইতাম। দূরে অনেক দূরে ঢাকার ঘেরা টোপ ছিড়ে দূরে াারো দূরে সবুজের সীমানায়। লং ড্রাউভে চলে যেতাম সাভার, আরিচা বা মধুপুরের দিকে। সেখানে কোন সিনিক বিউটি দেখার জন্য জায়গা নেই। শুধুই অবারিত রাস্তা। অথবা মানুষের ঘর বাড়ি।যেখানে ঢুকা সমীচীন নয় কোন ভাবেই। রাস্তার পাশে গাড়ি থামি সূর্য়ের ডুবে যাওয়ার সময় টুকু উপভোগ করতে চাইতাম। অস্তরাগের রঙিন আলোয় অজানা রহস্য খুঁজে পাবার আগেই একজন দুজন করে লোক জড়ো হতে শুরু করত। তারা আমাকে পেয়ে যেতো।
আপা, কি অসুবিধা ? গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে? টায়ার পাংচার। আমার ইচ্ছেগুলো পাংচার করার জন্য যথেষ্ট ছিল এমন অহেতুক মানুষের আগ্রহ। সূর্যর দিকে, আকাশের দিকে তাকানোর ফূরসত ছিল না। জানালার কাঁচ উঠিয়ে যত তাড়াতড়ি সম্ভব স্টিয়ারিংয়ে হাত। গাড়ি চালু করে রাস্তায় উঠার চেষ্টা। আকাশ বদল হতে থাকুক নিজের মতন। আমাকে জায়গা বদল করে নিরাপদে ফিরে যেতে হবে।


আজ যখন ছুটছিলাম, হঠাৎ নামল তুমুল বৃষ্টি যেন মনসুন আচানক। ভিজে পায়রা হয়ে কাজে মন দিলাম। কিন্তু খানিক পরে ঝলমলিয়ে এমন রোদ উঠল, কিছুতেই আমাকে রইতে দিল না ঘরে। সব কাজ ফেলে রেখে আমি বৃষ্টি ভেজা ঘাসের বুকে হীরের ঝলক দেখতে লাগলাম। মেঘেদের উড়াউড়ি কত ভঙ্গিমা নৃত্যের কোন পটিয়সি মন কাড়া ক্যানভাসের অবতারনা করছে দৃষ্টি সীমানায়। আমি দেখে দেখে অস্থির হয়ে যাই। কোন পাশ রেখে কোন দিকে তাকাই। কোন ক্যানভাস নিজের কাছে রাখি। ভাবতে ভাবতে বদলে যায় দৃশ্যপট। ঘনমেঘের পালা বদল হয়ে পাঠভাঙ্গা সূর্যের রঙিন আলো গাছে, মাঠে দালান কোঠায় আগুন ধরিয়ে দেয় নিমিশে। আমি তার পিছে পিছে দৌড়াই। উজ্জ্বলতা ম্লান হয় সন্ধ্যা নামে। কমলা রঙ গোলাপী হয়ে হারিয়ে যায় ঘন নীলের মাঝে। জাগে তারার মেলা।
প্রতিক্ষণে কতযে বদল চোখ মেলে না দিলে, ধরা যায় না তারে কিন্তু এত প্রতি মূহুর্তের বদল দেখার সময় কই আমাদের।এখন মানুষ নেই আমাকে বিরক্ত করে। আমি ঘন্টার পর ঘন্টা নিরিবিলি বসে কাটিয়ে দিলেও কেউ বলবে না তুমি এখানে বসে আছো কেনাে। সুযোগ পেলেই তাই আমি ছুটে যাই দেখে নেই যতটুকু পারা যায়। তবে এখন সময় দেয় না ইঁদুর দৌড়ের কারণে।
এতো বিড়ম্বনার মাঝে তবু পোড়ামুখি আমাকে তার কাছে ডাকে। আর আমি বেহায়ার মতন তার কাছে ছুটে যাই ওর ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে বারেবারে।




সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১২:৩৮
১০টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×