
পান্তা ভাতের ছবি দেখতে দেখতে অস্থির হয়ে যাচ্ছি, ফেসবুক ভর্তি হয়ে যাচ্ছে পান্তা ইলিশে। জানতে ইচ্ছে করে যারা পান্তা ভাতের ছবি দিচ্ছেন তাদের কতটা প্রিয় পান্তা ভাত।
নববর্ষে আমরা কখনও পান্তা ভাত খেতাম না। কিন্তু মাছ মাংস মিষ্টি থাকত নতুন বর্ষের প্রথম দিনের খাওয়ার আয়োজনে, যেন প্রতিদিন ভালো খাবার ভাগ্যে জুটে এই ধারনা থেকেই বাঙালি নিজের সাধ্যের মধ্যে মাছ কিনে বাড়ি ফিরত বৈশাখের প্রথম দিন।
অথচ ব্যবসায়ীদের বানিজ্য বিপননের সুযোগে পান্তা ভাত আর ইলিশ মাছ এখন সাংঘাতিক এক অমোঘ বস্তুতে পারিণত হয়েছে।
যাদের সাধ্য নাই কেনার তারা হাহাকারে বিলাপ করছে। যাদের সাধ্য আছে তারা দিব্যি পরিতৃপ্তির ঢেকুর তুলছে। অথচ বিষয়টা জরুরী নয়। এই ধারনাটা সাধারন বুদ্ধিতে কুলিয়ে উঠে না।
বানিজ্য সর্বস্ব ভাবনার সাথে ছুটতে থাকে মানুষ, নিজের বৈশিষ্ট বিলীন করে, উজাড় করে বিলিয়ে দেয় বেনিয়ার কাছে নিজস্ব সত্তা আর আঁকড়ে ধরে তাদের ছড়ানো বিজ্ঞাপনের ঝলমল মতবাদ। বৈশাখি শাড়ি কেনা লাগে। এখন আবার পুরুষদের জন্যও আছে বৈশাখি পোষাক । ঝাঁক বেঁধে দলে দলে কিনতে বের হয় সবাই। না হলে বৈশাখ পালন হবে না। বানিজ্য বেশ হয়ে যায় এই সুযোগে।
রমনার বটমূলে সানজীদা খাতুন যখন বৈশাখের গান শুরু করেছিলেন।অত আয়োজন ছিল না। ভোরবেলা মানুষ গান শুনে কুশল বিনিময় করতে হাজির হতো নববর্ষের প্রাতে। সেখানে কিছু বেনিয়া পান্তাভাতের আয়োজন নিয়ে বসে পরে। যেমন ঝাল চানাচুর, মুড়ি মুড়কি,
আচার, কাঁচা আম, আইসক্রিম, হাওয়াইমিঠাই, চুড়ি, বাঁশি, নাগরদোলা আসে মেলায়।
তবে পান্তা ইলিশের ধারনাটা ক্রমাগত ছড়াতে থাকে। এখন যারা পালন করে তারা মনে করে এটাই নিয়ম এটা খেতেই হবে।
আসলে নববর্ষের দিন ভালো খাওয়াটা নিয়ম।
নববর্ষের দিন আমার খিচুরী রাধতে ভালোলাগে সাথে ভুনা গরুর মাংস। পান্তা ভাত কখনো খাইনি। তবে একটা সময় পান্তা ভাত আমার প্রিয় হয়ে উঠেছিল।
সে সময়টা ছিল যুদ্ধ সময়। বড় বড় টিনে জমানো বিস্কিট, খই, মুড়ি, আটা ময়দা সব শেষ হয়ে গেছে। কাজের লোক নাই যারা সব সময় পিঠাপুলি বানাত। মুড়ি মুড়কি, খই ভাজত। মায়ের শরীরটা ভালো না। মা ছিলেন গর্ভবতি। রান্না করতে কাজ করতে অনেক কষ্ট হতো। অতটা বুঝতে পারতাম না। শুধু এক নিরব জীবনে বসবাস ছিল।আমাদের কোন কাজ নাই। সারাদিন দরজা জানালা বন্ধ ঘরে বসে থাকা। চারপাশ নিরব নিথর। বন্ধুরা কেউ নেই। পাড়া প্রতিবেশীরা নেই। গল্প, আড্ডা, খেলা কিছু নেই। খাবারও নেই পর্যাপ্ত শুধু ছিল ক্ষুদা। অনেক ভাত রান্না করে পানি দিয়ে রাখতেন মা সহজ লভ্য খাওয়া। সকালে সেই ভাত খাওয়া হতো অনেক সময়। সেই সময় খুব মজা লাগত পান্তা ভাত প্রতিদিন খেতে। যেহেতু আর কিছু ছিল না তাই।
বৈশাখের পান্তা খেয়ে যদি বাঙালিরা আনন্দ পায় তবে পাক। ফূর্তি হোক প্রাণ খোলা। মেয়েরা ঘুরে বেড়াক স্বাধীন ভাবে।কিছু বাংলাদেশি-অবাঙালী বর্তমানে বাঙলিদের আনন্দ উপভোগে কষ্ট পায় মনোক্ষুন্ন হয় তারা এত উৎসব আনন্দ আয়োজন দেখে।। উৎসবের সাথে সামিল হতে পারে না। তারা নানা রকম ভাবে এই উৎসব দমন করার প্রচেষ্টা করে। বাঙালিকে ভিন্ন সংস্কৃতিতে আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা করে। কিন্তু আবহমান কালের আনন্দ, কৃষ্টি ঐতিহ্য বাঙালি স্বযত্নে লালন করে নিজের মাঝে। প্রাণ খুলে উপভোগ করে সবার সাথে। যত বাঁধা দিয়ে চেষ্টা করুক তারা বন্ধ করার। এই প্রাণের জোয়ার কখনো বন্ধ হবে না। বরং তাদেরই এ্ই দেশের আবোহাওয়ার সাথে সংস্কৃতির সাথে মিলে যাওয়া উচিত। যেতে হবে একদিন।
মেয়েরা যেন ঘরে বসে থাকে তার জন্য অনেক রকম ভাবে ওয়াজ নসিয়ত চলছে। মেয়েরা নিজের ইচ্ছে মতন চলো এবং ঠিক ভাবে প্রস্তুত হয়ে যাও বৈশাখি মেলায়। তোমার শরীর ছোঁয়ার চেষ্টা করলে তাকে পাল্টা আক্রমণ করো। একজনকে ধরতে চেষ্টা করলে পাশের সবাই দল বেঁধে তাদের মারটা দিন। এখন সময় শুধু সাজগোজের নয় প্রতিবাদেরও। তাই মুখ খুলো, হাত চালাও প্রয়োজনে। নিজেকে রক্ষা করার জন্য। সবাই আনন্দ করতে যাবে কিন্তু সেখানে কেউ এসে অকারণ ঝামেলা করতে চাইলে তার জন্য আপনারাও প্রস্তত হয়ে যান। প্রতিরোধ গড়ে তোলুন সাথে সাথে সবাই মিলে। ইট মারলে পাটকেল খেতে হবে।
যেন এবারই বুঝতে পারে তাদের দিন শেষ। প্রয়োজনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সাথে সাথে যথাযথ ব্যবস্থা নিবে। থানা, জায়গা, সময় বিবেচনা না করে। আশা করি কোন ঝামেলা ছাড়া শুভ সুন্দর ভাবে পালিত হবে নববর্ষের এই দিন।
শুভ নববর্ষ ১৪২৩। সবার জন্য সুন্দর হোক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

