somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

এঞ্জেল মানুষ

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছুটিতে যাওয়ার আগের দিন কয়েকটা কাজ নিয়ে বেড়িয়েছি ছুটতে হবে শহরের এ মাথা ও মাথা। তাও পাবলিক ট্রেনজিটে। প্রথমে একটা এ্যাপয়নমেন্ট ডাউনটাউনে । একটা শেষে আরও দুটো কাজ সারতে বেলা আড়াইটার বেশী বেজে গেলো । ইচ্ছে ছিল কিছু কেনাকাটা করার। কিন্তু সময়ে কুলাবে না বুঝতে পারলাম। একটা জরুরী জিনিস পিক আপ করতে হবে। সে জন্য যেতে হবে শহরের শেষ উত্তরে অন্য প্রান্তে । মাঝে আরো একটা কাজ করতে হবে মধ্য শহরে। সবই বন্ধ হয়ে যাবে পাঁচটায়। জরুরী জিনিসটা ওর্ডার করেছিলাম কয়েকদিন আগে। বাসায় ডেলিভারি দিতে বললাম কিন্তু বড়দিনের জন্য ডেলিভারি ম্যানরা খুব ব্যাস্ত তাই ওরা সময়ের কোন নিরাপত্তা দিতে পারল না। চারদিন সময়ের মধ্যে দুদিন চলে যাবে দোকানে জিনিসটা আসার জন্য। আর দুদিনে যদি ডেলিভারি না পাই তবে বেশ অসুবিধা হয়ে যাবে। তাই আমি পিকা আপ করব বলেছিলাম। ওরা জিনিসটা দোকানে এসেছে জানানোর পর দুদিন ধরে যাব যাব করে যেতে পারিনি। আজ না গেলেই নয়।
হঠাৎ মনে হলো । আজ উত্তরে না যাই।
শনিবার অনেক দোকান খোলা থাকে । কাল সকালে চট করে গিয়ে নিয়ে আসব মনে করলাম। আমার ফ্লাইট সন্ধ্যায় তাই সময় আছে। তবু দোকানে ফোন দিলাম কারণ আজ আমার যাবার কথা। যিনি ফোন ধরলেন তিনি জানালেন কাল শনিবার দোকান খোলা থাকবে না। আজ পাঁচটার মধ্যেই আমাকে যেতে হবে জিনিসটা পেতে হলে। কাল আমি চলে যাব। যাওয়ার আগে জিনিসট আমাকে নিতেই হবে।
আমি জানালাম আমি এখন ডাউনটাউনে আছি, এখনি রওনা হলে পাঁচটার আগে পৌছাতে পারি আপনাদের ঠিকানায়। যদি না পারি তবে তিনি যেন একটু অপেক্ষা করেন।
একটু ভেবে তিনি বললেন, সাবওয়ের একটা স্টেশনে ছয়টায় অপেক্ষা করতে পারব কিনা তা হলে তিনি জিনিসটা আমার জন্য নিয়ে আসতে পারেন। খুশি মনে আমি রাজী হয়ে গেলাম।
হাতে কিছু সময় পাওয়া গেল কেনাকাটা করার, ছুটাছুটি না করে।
ঘণ্টাখানেক দোকানপাটে ঘুরাফেরা দেখাশোনা করে কিছু জিনিস কিনলাম একটা দোকানে। বেশ ক্ষিদা লেগেছে। সামনে একটা টিমর্হটন দেখে ঢুকলাম কিছু খেয়ে স্টেশনে উনার অপেক্ষায় যাব বলে।
কিন্তু টেবিলে বসার আগেই ফোনটা বাজতে থাকল। তাড়াতাড়ি ফোনটা ধরলাম আননোন নাম্বার হওয়ার পরও। দোকানের ভদ্রলোক ফোন করেছেন। বললেন, আপনার পে মেন্টের কার্ড নাম্বারটা একটু বলুন। আমি সিস্টেমে আপনার পেমেন্টটা খুঁজে পাচ্ছি না।
আমি একটু সংকিত হলাম। পেমেন্ট একবার করা হয়েছে আবার কি র্চাজ করবে কিনা ভেবে।তিনি জানালেন ডাবল পেমেন্ট হবে না। মনে হয় আগের কর্মচারী ঠিক মতন প্রসেস করেননি। আর দুবার চার্জ হলে আমরা রিফাণ্ড করে দিব।
ঠিক আছে কার্ড নামবার দিচ্ছি বলে ব্যাগের ভিতর খুঁজে হন্যে হয়ে গেলাম। কার্ড পাচ্ছি না। একটু আগের দোকানে ঐ কার্ড দিয়েই কেনা কাটা করলাম। উনাকে দু মিনিটে আবার ফোন করছি বলে, আগের দোকানটায় ফিরত গেলাম। এই অল্প সময়ের ভিতর বাইরের চেহারা বেশ বদলে গেছে বাতাসে বরফের বল উড়তে শুরু করছে। একটু আগের ফুটপাতটা বরফে ঢেকে গেছে। যা হোক, কয়েক মিটার দূরে দোকানটায় পৌঁছাতেই ক্যাসিয়ার মেয়েটা বলল, তুমি কার্ড রেখে চলে গেছো। এবং সে ম্যানেজারের কাছে দিয়ে লকারে যত্ন, করে রেখে দিয়েছে। কার্ড নিয়ে উনার সাথে কথা শেষ করলাম।
উনি ফোন না করলে আর কিছু না কিনলে আমি জানতামই না কয়েকদিন পর্যন্ত আমি আমার কার্ড হারিয়েছি। এবং খুঁজে না পেয়ে লষ্ট কার্ডে ফোন দিয়ে নতুন কার্ডের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। অচেনা মানুষটি হঠাৎ করে যেমন আমার জিনিসটি অনেকটা পথ নিয়ে এসে আমার ছোটাছুটির সময় বাঁচিয়ে দিলেন ঠিক তেমনি যথা সময়ে ফোন দিয়ে কার্ডের কথা বলে বড় একটা টেনশন থেকেও রক্ষা করলেন। যদিও দোকানে কার্ডটি ওরা স্বযত্নে রেখেছিল। কিন্তু আমি হয় তো মনেই করতে পারতাম না কোথায় হারিয়েছি। এবং বেড়াতে যাওয়ার আগ মূহুর্তে একটা অস্থিরতা থাকত কে কার্ড নিয়ে খরছ করছে ভেবে। এঞ্জেল মানুষের জন্য সুবিধা ভোগ করলাম।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৫৬
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ চোখে কোন বাতিঘর... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×