ছুটিতে যাওয়ার আগের দিন কয়েকটা কাজ নিয়ে বেড়িয়েছি ছুটতে হবে শহরের এ মাথা ও মাথা। তাও পাবলিক ট্রেনজিটে। প্রথমে একটা এ্যাপয়নমেন্ট ডাউনটাউনে । একটা শেষে আরও দুটো কাজ সারতে বেলা আড়াইটার বেশী বেজে গেলো । ইচ্ছে ছিল কিছু কেনাকাটা করার। কিন্তু সময়ে কুলাবে না বুঝতে পারলাম। একটা জরুরী জিনিস পিক আপ করতে হবে। সে জন্য যেতে হবে শহরের শেষ উত্তরে অন্য প্রান্তে । মাঝে আরো একটা কাজ করতে হবে মধ্য শহরে। সবই বন্ধ হয়ে যাবে পাঁচটায়। জরুরী জিনিসটা ওর্ডার করেছিলাম কয়েকদিন আগে। বাসায় ডেলিভারি দিতে বললাম কিন্তু বড়দিনের জন্য ডেলিভারি ম্যানরা খুব ব্যাস্ত তাই ওরা সময়ের কোন নিরাপত্তা দিতে পারল না। চারদিন সময়ের মধ্যে দুদিন চলে যাবে দোকানে জিনিসটা আসার জন্য। আর দুদিনে যদি ডেলিভারি না পাই তবে বেশ অসুবিধা হয়ে যাবে। তাই আমি পিকা আপ করব বলেছিলাম। ওরা জিনিসটা দোকানে এসেছে জানানোর পর দুদিন ধরে যাব যাব করে যেতে পারিনি। আজ না গেলেই নয়।
হঠাৎ মনে হলো । আজ উত্তরে না যাই।
শনিবার অনেক দোকান খোলা থাকে । কাল সকালে চট করে গিয়ে নিয়ে আসব মনে করলাম। আমার ফ্লাইট সন্ধ্যায় তাই সময় আছে। তবু দোকানে ফোন দিলাম কারণ আজ আমার যাবার কথা। যিনি ফোন ধরলেন তিনি জানালেন কাল শনিবার দোকান খোলা থাকবে না। আজ পাঁচটার মধ্যেই আমাকে যেতে হবে জিনিসটা পেতে হলে। কাল আমি চলে যাব। যাওয়ার আগে জিনিসট আমাকে নিতেই হবে।
আমি জানালাম আমি এখন ডাউনটাউনে আছি, এখনি রওনা হলে পাঁচটার আগে পৌছাতে পারি আপনাদের ঠিকানায়। যদি না পারি তবে তিনি যেন একটু অপেক্ষা করেন।
একটু ভেবে তিনি বললেন, সাবওয়ের একটা স্টেশনে ছয়টায় অপেক্ষা করতে পারব কিনা তা হলে তিনি জিনিসটা আমার জন্য নিয়ে আসতে পারেন। খুশি মনে আমি রাজী হয়ে গেলাম।
হাতে কিছু সময় পাওয়া গেল কেনাকাটা করার, ছুটাছুটি না করে।
ঘণ্টাখানেক দোকানপাটে ঘুরাফেরা দেখাশোনা করে কিছু জিনিস কিনলাম একটা দোকানে। বেশ ক্ষিদা লেগেছে। সামনে একটা টিমর্হটন দেখে ঢুকলাম কিছু খেয়ে স্টেশনে উনার অপেক্ষায় যাব বলে।
কিন্তু টেবিলে বসার আগেই ফোনটা বাজতে থাকল। তাড়াতাড়ি ফোনটা ধরলাম আননোন নাম্বার হওয়ার পরও। দোকানের ভদ্রলোক ফোন করেছেন। বললেন, আপনার পে মেন্টের কার্ড নাম্বারটা একটু বলুন। আমি সিস্টেমে আপনার পেমেন্টটা খুঁজে পাচ্ছি না।
আমি একটু সংকিত হলাম। পেমেন্ট একবার করা হয়েছে আবার কি র্চাজ করবে কিনা ভেবে।তিনি জানালেন ডাবল পেমেন্ট হবে না। মনে হয় আগের কর্মচারী ঠিক মতন প্রসেস করেননি। আর দুবার চার্জ হলে আমরা রিফাণ্ড করে দিব।
ঠিক আছে কার্ড নামবার দিচ্ছি বলে ব্যাগের ভিতর খুঁজে হন্যে হয়ে গেলাম। কার্ড পাচ্ছি না। একটু আগের দোকানে ঐ কার্ড দিয়েই কেনা কাটা করলাম। উনাকে দু মিনিটে আবার ফোন করছি বলে, আগের দোকানটায় ফিরত গেলাম। এই অল্প সময়ের ভিতর বাইরের চেহারা বেশ বদলে গেছে বাতাসে বরফের বল উড়তে শুরু করছে। একটু আগের ফুটপাতটা বরফে ঢেকে গেছে। যা হোক, কয়েক মিটার দূরে দোকানটায় পৌঁছাতেই ক্যাসিয়ার মেয়েটা বলল, তুমি কার্ড রেখে চলে গেছো। এবং সে ম্যানেজারের কাছে দিয়ে লকারে যত্ন, করে রেখে দিয়েছে। কার্ড নিয়ে উনার সাথে কথা শেষ করলাম।
উনি ফোন না করলে আর কিছু না কিনলে আমি জানতামই না কয়েকদিন পর্যন্ত আমি আমার কার্ড হারিয়েছি। এবং খুঁজে না পেয়ে লষ্ট কার্ডে ফোন দিয়ে নতুন কার্ডের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। অচেনা মানুষটি হঠাৎ করে যেমন আমার জিনিসটি অনেকটা পথ নিয়ে এসে আমার ছোটাছুটির সময় বাঁচিয়ে দিলেন ঠিক তেমনি যথা সময়ে ফোন দিয়ে কার্ডের কথা বলে বড় একটা টেনশন থেকেও রক্ষা করলেন। যদিও দোকানে কার্ডটি ওরা স্বযত্নে রেখেছিল। কিন্তু আমি হয় তো মনেই করতে পারতাম না কোথায় হারিয়েছি। এবং বেড়াতে যাওয়ার আগ মূহুর্তে একটা অস্থিরতা থাকত কে কার্ড নিয়ে খরছ করছে ভেবে। এঞ্জেল মানুষের জন্য সুবিধা ভোগ করলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




