somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

স্বনামধন্য ব্লগার ডঃ এম এ আলীর মন্তব্যের উত্তরে লেখা নিজস্ব কিছু ভাবনা

১০ ই জুলাই, ২০২১ রাত ২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার লেখা, জোনাকি আর সূর্য গ্রহণ লেখাতে ডঃ এম এ আলী এই মন্তব্যটি দিয়েছেন।
"নিজের শহরে বিভিন্ন নিয়মের ঘেরাটোপে বন্দি থাকতে থাকতে মানুষের মন বড় আনচান করে উঠছে
প্রতিদিন। প্রত্যেকেই চাইছে একটু যদি কাছেপিঠে কোথাও ঘুরে বেড়িয়ে আসা যেতো, তবে মন্দ হতো
না।এমতাবস্থায় যদি পাওয়া যায় এমন একটা জায়গার খোঁজ যেখানে একটা গোটা দিন কাটিয়ে দিলেই
পাওয়া যাবে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা, গহীন অরণ্যে কৃষ্ণমৃগয়ার এক ঝলক, গা ছমছমে ভৌতিক পরিবেশ
এবং রাতের আঁধারে জোনাকির মেলা পরিদর্শন, তাহলে বিষযটি বেশ উভোগ্যই হবে । আজকে চন্দ্র
মাসের ২৯ তারিখ , আমাবশ্যা তিথী । রাতের ঘোর অন্ধকারে ডানা মেলা জোনাকির জমায়েত দেখতে
দেখতে মনে হবে যেন তারাদের দেহ থেকে খসে পড়ছে সবুজাভ দ্যুতি। নিভছে জ্বলছে। জ্বলছে নিভছে,
কি যে ভাল লাগবে। আপনার পোষ্টটি পাঠেও তেমনটিই মনে হয়েছে । তবে মশার জালা বড় জালা ।
জীবনের এক সময় সৈন্নাসি হয়ে ঘর ছেড় ভাওয়ালের গড়ের ভিতরে কিছু দিন কাটিয়েছিলাম ,
ভেবেছিলাম বাকি জীবনটা সন্নাস হয়েই কাটিয়ে দিব । কিন্তু শালা বেরসিক মশার জ্বালায় সন্নাসী
ছেড়ে ঘরে ফিরে লেখা পড়ায় মনযোগ দিয়েছিলাম । তাই বলি মশার জ্বালা বড় জ্বালা।"

সুন্দর এই মন্তব্যটির প্রতিউত্তর লিখতে লিখতে বেশ বড় হয়ে গেল উত্তর। সাথে বেশ কিছু প্রশ্ন দেখা দিল মনে। তাই সেই প্রশ্ন এবং ভাবনা গুলোসহ সবার সাথে আলোচনার ইচ্ছায় নতুন একটা পোষ্ট দেয়ার ইচ্ছা হলো। যাদের ইচ্ছা হবে কিছু আলোচনা করবেন। কেউ হয় তো পড়বেন কিছু বলবেন না। কেউ পড়বেনও না।
লেখাটা সাথে সাথেই লিখেছিলাম। কিন্তু ছবি প্রতিযোগীতার মধ্যে আর পোস্ট দেই নাই।
আজ অবসরে লেখাটা পোস্ট করলাম। নিচে আগের লেখার লিঙ্কটা দিয়ে দিলাম।
"জোনাকি আর সূর্য" গ্রহণ পোস্টটি যারা পরেননি এবং আমার সম্পর্কে খুব জানেন না যারা কখনো আমার লেখা পড়েননি। তাদের জন্য সংক্ষেপে বলি, আমি প্রকৃতির সাথে থাকতে পছন্দ করি। বেশ কিছু বছর আগে শহুরে জীবনের আবাস গুটিয়ে গ্রামে চলে এসেছি।
গ্রামে আসার পর থেকেই নতুন করে নতুন পরিবেশে প্রকৃতির সাথে জীবনযাপন করি। আর প্রকৃতির সাথে জীবনযাপনে বেশ সমস্যা আছে শহুরে জীবনে অভ্যস্থ মানুষের জন্য। শহরের অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে দূরে থাকা। চাইলেই অনেক কিছু পাওয়া যায় না। আবার শহুরে কিছু পেতে হলে বেশ কিছুটা দূরে ড্রাইভ করে যেতে হয়, সময় লাগে। এখানে পাবলিক বাস সুবিধা নেই। এত দূরে দূরে বাড়ি ঘর এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি হাঁটতে গেলেও অনেকটা সময় লাগে। অনেকটা আমাদের দেশে গ্রামে যারা থেকেছেন। থাকছেন এখনও মাঠের মাঝ দিয়ে আইলের উপর দিয়ে হেঁটেছেন। বর্ষা বাদলে পানি ভেঙ্গে পথ হেঁটেছেন। প্রচণ্ড গরমে তপ্ত হয়ে হাতপাখার বাতাস আর খোলা মাঠে বসে থেকে একটু শান্তি খুঁজেছেন তারা কিছুটা বুঝতে পারবেন। সাথে আছে নানা রকম কীট পতঙ্গ থেকে প্রাণী জন্তু জানোয়ার।
দেশের পরিবেশ এক রকম। বিদেশের পরিবেশ আবহাওয়ার কারণে ভিন্ন। দিনের এক একটা সময় এক এক দিন হয়ে যায় ভিন্ন রকম। আমি এই পরিবর্তন গুলো দারুণ উপভোগ করি।
কাছে পিঠে ঘুরতে যাওয়ার জন্য প্রতি সময় মনের ভিতর যে আকুতি ছিল একটু প্রকৃতির মাঝে হারানোর জন্য। মাইলের পর মাইল ড্রাইভ করতাম প্রকৃতির কাছে যাওয়ার জন্য। পার্ক, সৈকত প্রাকতিক পরিবেশের জায়গা গুলো যেখানে ছুটির দিনে যাওয়ার সুযোগ হতো। সব সময় ভীড় লেগে থাকত। মানুষের কোলাহলে ব্যাস্ত। পার্কিং পাওয়ার জন্য ঘুরতে হতো, অপেক্ষায় অনেকটা সময় কেটে যেত । বিদেশের পরিবেশে কিছু নিয়ম বাঁধা আছে তাই সেই নিয়ম মেনে অপেক্ষা করতে হয় যারা আগেএসেছেন তাদের পিছনে লাইন দিয়ে। সবুজ বেল্ট এরিয়ায় ঢুকে পরতে পারলে, নিজের মতন কিছুটা প্রাইভেসিতেও সময় কাটানো যেত। বা অনেক মানুষের সাথে লেইক বা সমুদ্র জলের পানিতে ডুবলে সাঁতার কাটলেও তেমন খারাপ লাগত না। কেউ কাউকে নিয়ে ব্যাস্ত না। সবাই নিজের মতন সময় কাটায়। নিজের পরিবারে মধ্যে ব্যাস্ত থাকে। অনেকে পিকনিক করে রান্না করে সাজানো বারবিকিউ চুলাগুলো জ্বালিয়ে তাতক্ষনিক রান্না করেও খায়। কেউ সাথে করে খাবার নিয়ে আসেন। বাচ্চা বয়স্ক সবাই মিলে মনের আনন্দে খেলাধুলায় সময় কাটান। যাবার সময় নিজের গার্বেজ পরিস্কার করে গার্বেজ বীনে ফেলে দিয়ে যায় সবাই। যদিও এখন কিছু আনসিভিলাইজ পার্সন, নিজের ময়লা ছড়িয়ে রেখে চলে যায়। নিয়ম না মেনে। এদের জন্য পরিবেশ নষ্ট হয়। আবার কিছু সুন্দর মনের মানুষ আছে নিজের মনে ভলায়ান্টিরি তারা পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করে।
এই করোনা সময়ে মাত্র এগারো বছরের একটি ছেলে এক টনের মতন প্লাস্টিক. টিন পরিস্কার করেছে পার্ক এবং সৈকত এলাকা সুন্দর বেড়ানোর জায়গাগুলো থেকে। ছেলের উৎসাহ দেখে ছেলের বাবা তাকে সাহায্য করেছে। দুমাসের মতন তারা এই কাজ করে একটন ময়লা পরিস্কার করেছে। যা নিজেরা তুলে নিলে এদের বা সিটি কতৃপক্ষের আলাদা ভাবে করতে হয় না, দেখতে হয়না অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। এমন অনেক আছে। অনেকে ইচ্ছা করে এই কাজ গুলো করে।
আমি এখন পার্কে না গিয়ে নিজের বাড়িতেই পার্কের পরিবেশ উপভোগ করতে পারি। বন্য প্রাণীরা নির্বিঘ্নে আসা যাওয়া করে । পাখির গান শুনি। এক এক সময় তাদের এক এক রকম আচরণ গুলো খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাই। আমার আগ্রহ আছে বলেই আমি এটা করি। এবং বেশ কিছু শহুরে সুবিধা বঞ্চিত হয়েও আমি এই পরিবেশে থাকতে চাই, আত্মিয় বন্ধুরা দূরে থাকি বলে অভিযোগ করে আবার আমার কাছে বেড়াতে এসে উপভোগ করে।

অমাবশ্যা পূর্ণিমা, শীত, বসন্ত, শরতের মায়া আমি খুব উপভোগ করি কাছে থেকে। সাথে অচেনা বিদেশী বন্য গাছপালার সাথে পরিচিত হয়ে উঠছি প্রতিদিন নিজের আগ্রহে। অনেক রকম পশু পাখি কীট পতঙ্গ দেখা দেয় চোখের সামনে। যাদের সাথে শহুরে জীবনে কখনোই দেখা হওয়ার সুযোগ হতো না। বুঝতে চেষ্টা করি তাদের জীবন পরিক্রমাগুলো নিজের মতন । অনেকের এসব বিষয়ে আগ্রহ নেই হয় তো কিন্তু আমার আছে ভীষণ রকম। বিনা মূল্যে প্রকৃতির এই সব সৌন্দর্য আমাকে দেয় অমূল্য সুখ। অনেক সময় আর কিছুর দরকার পরে না, প্রকৃতির ভালোবাসায়।
গত বছর সবাই যখন লকডাউনে নিজের ঘরের মধ্যে আটকে গেল। মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসতে লাগল ঘরে থাকতে থকতে। আমার কাছে কিছুই মনে হয়নি এই লকডাউন। আমি আগের মতনই একই রকম জীবন যাপন করতে লাগলাম। আমার প্রতিবেশি আগের মতনই আসা যাওয়া করত। আমরা ঘরে না বসে উঠানে গল্প করতাম। আমাদের উপর তেমন একটা প্রভাব পরেনি করোনার। খোলা হওয়া এবং রোদের আলোয়, করোনা বেশি সুবিধা করতে পারে না ।
আমার মনে হয় বাংলাদেশের গ্রামের মানুষরাও এই জন্য ভালো থেকেছেন বেশি আক্রান্ত হননি। আমি গত বছর দেশে গিয়েছিলাম তখন টাঙ্গুয়ার হাওড়ে বেড়াতে গিয়েছিলাম। ফাঁকা ফাঁকা মানুষের বাড়ি বেশি ভীড় ভাট্টা ছিল না। অনেক বছর পরে আমি গ্রামের হোটেলের খাবার খেয়ে ফেলেছিলাম, করোনার সময় কিন্তু আমার কোন সমস্যা হয়নি।
সবাই প্রকৃতি এ্কই রকম উপভোগ করবেন, এটা আশা করা যায় না। প্রকৃতি কাউকে আকৃষ্ট করে কেউ খেয়ালই করেন না। বৈচিত্র গুলো তাদের চোখে পরে না।
রবীন্দ্রনাথ একটি কবিতা লেখার ব্যাপারে বলেছেন, চাঁদের আলো, জোছনা নিয়ে লেখার জন্য কবি ভীষণ উতলা, সেদিন কিন্তু কিছুতেই চাঁদের আলোর সৌন্দর্য তিনি দেখতে পাচ্ছেন না লিখতে পারছেন না কিছু। কিন্তু যখন বিরক্ত হয়ে ঘরের আলো নিভিয়ে দিলেন জোছনার মাতাল আলোয় ঘর ভরে উঠল কবির মন আনন্দে ভরে উঠল তরতর করে লেখার ভাবনা এগিয়ে গেলো।
জোছনা ভাসা রাত দেখে কেউ হিসাব নিকাশে ব্যাস্ত থাকতে পারে কেউ মুগ্ধ হয়ে সারা রাত কাটিয়ে দিতে পারে চাঁদের আলো দেখে। এ সবই নির্ভর করে মানুষের প্রকৃতির উপর। প্রকৃতির কুলে বেড়াতে গিয়ে অনেকে অনলাইনে মগ্ন থাকে। চোখ থাকে মোবাইলে।
উনি বলেছেন, "নিজের শহরে বিভিন্ন নিয়মের ঘেরাটোপে বন্দি থাকতে থাকতে মানুষের মন বড় আনচান করে উঠছে
প্রতিদিন। প্রত্যেকেই চাইছে একটু যদি কাছেপিঠে কোথাও ঘুরে বেড়িয়ে আসা যেতো, তবে মন্দ হতো
না।"


বাঙালিরা আগে খুব একটা ঘুরতে বেড়াতে যেতেন না। বাঙালিরা ভ্রমণ প্রিয় জাতি নয় । বাঙালির মধ্যে ভ্রমনের জন্য বেড়িয়ে পরেছেন ইবনেবতুতার মতন তেমন কোন উদাহরণ নেই।
বিয়ে শাদী হতো কাছে পিঠে। এক মাঠ দূরে যেখানে পালকি তে বা নৌকায় যাওয়া যায় । ঘরে ঘরে বিয়েও ছিল প্রচলিত। সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে রাখার জন্য এমন বিয়ে বেশি প্রচলিত ছিল। বিজ্ঞান যাকে সন্তানের জন্য খুব খারাপ বলে উল্লেখ করে। আগে বাঙালির নিজের গ্রাম শহর খুব বেশি হলে জেলার মধ্যেই থাকতেন। অন্য জেলায় যেতে চাইতেন না। যারা সরকারি কাজ শুরু করলেন তারাও ঘুরে ফিরে নিজের জেলার মধ্যে যেন থাকতে পারেন সেই চেষ্টাই করতেন। বাঙালিরা কোন ভাবেই ভ্রমন বিলাশী বা এডভ্যাঞ্চারাস না। কিছ মানুষ খালাশি হয়ে জাহাজে করে বিলাতে চলে গেছেন। সেখানে গিয়েছেন জীবিকার সন্ধ্রানে। বেড়াতে নয়। বছর বছর বিদেশে থাকা এই মানুষরা ঘর আর কাজের জায়গা চিনতেন।
আশি সনের দিকে আমার খুব ইণ্ডিয়া যাওয়া হতে। পূজার ছুটিতে বা যে কোন ছুটি পেলেই দল বেঁধে পরিবার নিয়ে তারা বেড়াচ্ছে দেখতাম। অনেক পর্যটকের সাথে আমার বিভিন্ন প্রদেশে দেখা হয়েছে। এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে গিয়ে তারা দেশটাই দেখছে। প্রতি বছর অর্থ সঞ্চয় করে বেড়িয়ে পরার জন্য। ভ্রমণের জন্য।
তবে বর্তমান সময়ে বিয়ে শাদী যেমন দূরে দূরে হয় বাঙালীরা তেমন বেড়াতেও খুব পছন্দ করেন। কিন্তু এই বেড়াতে যাওয়ার আবার ক্যাটাগরি আছে। উঠতি পোলাপান দল বেঁধে যায় দেশের বিভিন্ন পর্যটনে। আর ধনীরা যান বিদেশে ঘুরতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার মধ্যে কক্সবাজার সবচেয়ে পছন্দের । বর্তমান সময়ে দেশে অনেক রির্সোট গড়ে উঠেছে সে সব জায়গায় যাওয়া হয় এখন দলবল পরিবার নিয়ে। সে সব জায়গায় আবার অনেকে বদ মতলবে যায়। নারী বন্ধু, পরকীয়া ইত্যাদি এই জন্য উচ্চ অবস্থানে। এই পরিধী আগে শুধু মধুপুর এলাকার কিছু বাংলোতে সীমাবদ্ধ ছিল এখন সারা দেশময়।
এ্যাডভেঞ্চার ঘুরে বেড়ানো খুব কম মানুষ পছন্দ করেন। ঠিক মতন খাওয়া ঘুমের সুযোগ না থাকলে অনেকের মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।
ঘোরা ফেরায় অনেকে দৈনন্দিন রুটিন ঠিক রেখে চলতে চান। সব যদি ঠিকঠাক বাড়ির মতন হলো তবে ঘুরতে গিয়ে কি লাভ হলো। বিদেশীরা ক্যাম্পিং এ যাওয়া খুব পছন্দ করেন। বিদেশের প্রতিটি বাচ্চা গ্রীষ্মকালিন দুমাসের ছুটিতে অভিভাবকের সাথে বা স্কুলের সাথে ক্যাম্পে কাটায়। এই সময় তারা সারভাইভাল জীবন কাটানো শিখে। প্রকৃতির সাথে আনন্দ করতে শিখে। নিজেরা রান্না খাওয়া মাটিতে পানিতে, গড়াগড়ি, পাহাড়ে চড়া । গাছে চড়া বন্য প্রাণী এবং গাছগাছালী কাছে থেকে চিনে।
সব কিছুই হয় শিক্ষক বা অভিভাবকের তত্বাবধানে। নিয়মের মধ্যে থেকেও পরিবেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রকৃতিকে চিনতে শিখে বাচ্চারা। বাঙালি ঠিক পরিবেশের সাথে একাত্মা হওয়ার জন্য কতটা ঘুরতে যান সে ব্যাপারে সংশয় হয়। প্রকৃতিকে চেনানোর জন্য স্কুল থেকে বাচ্চাদের কোথাও নেয়া হয় কি বা এমন কোন ক্যাম্প যেখানে অভিভাবকরা বাচ্চাদের পাঠাতে পারেন বা নিয়ে যেতে পারেন গাছপালা পাখি বনজ, খনিজ বিষয়ে জানার জন্য এবং গ্রামীন পরিবেশে জীবন কাটানোর অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য।
দেশের গ্রামগুলোও এখন শহুরে হয়ে গেছে। ঘরে ঘরে টিভি ইন্টারনেট চলে। বাচ্চারা হারিকেনের আলোয় অন্ধকারে তারার আলো, জোনাকি পোকার সাথে ভাব করার সুযোগ পায় কি।
মানুষ খুব বেশি যান্ত্রিক জীবনে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে। অনেকটাই প্রয়োজনে। দেশে অনেক মানুষ ঢাকায় থাকে । গ্রামের গরীব দুঃখিরাও ঢাকায় চলে আসে। প্রকৃতি দেখার সুযোগ ঢাকায় নাই। জীবন যাপনের স্টাইলও বদলে যাচ্ছে প্রতি নিয়ত। গ্রামীন জীবনকে পছন্দ করার চেয়ে অবহেলার চোখে দেখা হয় বেশি। নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসার চেয়ে দূরে সরিয়ে রাখার প্রবনতা। বাউল ভাটিয়ালী ফোক গান গুলোর প্রতি তেমন আগ্রহ মানুষের নাই। বাউলদের মেরে টেরেও গান করা বন্ধ করার চেষ্টা চলছে আবার কেউ ভয় পাচ্ছে নিজস্ব সংস্কৃতির ধারক হতে। অনেক রকম সংস্কৃতি নিজস্ব যাকে বলা যায় হারিয়ে গেছে। গ্রামীন মেলা বসে না আগের মতন। অবহেলা করা হয়, গ্রাম্য সংস্কৃতি। পরিবেশ বর্হিভূত বিদেশি পোষাক পরার চল হয়েছে।
গানবাজনার আসর, যাত্রা, পুতুল নাচ, ম্যাজিক ইত্যাদি খুব একটা হয় না। বিভিন্ন রকম শহুরে এবং ধর্মের প্রভাবে আমাদের ভাষা সংস্কৃতি খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আমরা এখনও ব্রিটিশের প্রচলিত নিয়ম পালন করি আমাদের দেশি পোষাক পরে অনেক জায়গায় চলাফেরা করা নিষিদ্ধ সাথে ক্ষেত, গ্রাম্য হিসাবেই তাদের চিহ্নিত করা হয়।
আমাদের দেশে পরিবেশ প্রকৃতির উপর গুরুত্ব দিয়ে মানুষের সাথে তাদের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয় না।
আমরা কিছুটা নিষ্টুরতা বরং বেশি দেখি। কৃষক গরুকে নিষ্ঠুর ভাবে চাবকাচ্ছে। গরুর গাড়ি বা ঘোড়া গাড়ির গরু ঘোড়াকে নিষ্টুর ভাবে মারা হয়। রাস্তার কুকুর বেড়ালকে আদর করার বদলে লাথি ঝাঁটা মারা। পাখির ডিম চুরি করা। এসব আমাদের সংস্কৃতির সাথে জড়িত। একটা ফড়িং প্রজাপতির জীবন চক্র জানার চেয়ে তাদের ধরে মারার পক্ষে আমরা বেশি। ফড়িংএর লেজে সুতা বেঁধে বা কাঠি ঢুকিয়ে ছেড়ে দেয়ার মতন খেলাকে সহজ মনে হয়। বাচ্চারা আপন আনন্দে এ সব করে। কেউ বলে না এটা ঠিক না। একটা সাপ দেখলে তাকে আমরা যেতে দেই না পিটিয়ে মেরে ফেলবই।
আমাদের যৌথ পরিবার গুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে বলে আমরা ভয়ানক দুঃখিত। কিন্তু যৌথ পরিবারের ভিতরে যে নোংরা কদর্য চেহারা একজন আরেকজনকে দেখতে না পারার খেলা সেটা আমরা অনুভব করি না। পিতা মাতা বৃদ্ধ হলে সন্তানের পরিবারে থাকবেন এই আশা করি কিন্তু নিজের জীবন নিজে চালানোর চিন্তা করি না।

প্রকৃতির সাথে যে ভাব করে বেড়ে উঠার আনন্দ এটা যেন বর্তমান সময়ে মানুষ ভুলে গেছে। অনেকে ঘুরতে যায় প্রকৃতির কাছে এটাও এক ধরনের দেখানোর জন্য প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়ার আনন্দ খুব কম। ঘুরতে গিয়েছিলাম, ছবি ফেসবুকে আডলোড করা হলো। প্রকৃতির পরিবেশ মাইক বাজিয়ে, গান বাজিয়ে কোলাহলে বিশৃঙ্খল করা হয়। নোংরা ফেলে নষ্ট করা হয় সুন্দর মাঠ নদীর জল। সাগরের বেলাভূমি। প্রকৃতির নির্জনতা উপভোগ করার সুযোগ প্রকৃতির মাঝে গেলেও পাওয়া যায় না ।
পথের পাঁচালির মধ্যে যে প্রকৃতির সাথে থাকার গল্পটা আমরা পাই , নিজের জীবনের উদাহরণ দিলাম না। গল্পটা অনেক বেশি ধারন করে, এ সব কিন্তু কারো মনে তেমন নাই এখন হয় তো মধ্য বয়সি কিছু মানুষ অভাব অনুভব করেন, ছোটবেলায় প্রকৃতির মধ্যে বড় হয়ে উঠা । কিন্তু সরাসরি তার মধ্যে থাকা প্রেক্টিস করা কিন্তু হয় না। যান্ত্রিক এক জীবনে ধূঁয়া ধূলায় বসবাস অক্সিজেনের অভাবে। সতেজ গাছের ভিতর থেকে বাতাসে জীবন যাপন তেমন হয় না, জীবন যাপনের তাগিদে।
গ্রাম্য জীবনও অনেকে পছন্দ করেন না। গ্রাম শহর হয়ে উঠছে দিনেদিনে। খাবার অভ্যাস বদলে যাচ্ছে গ্রামিন খাবার পিঠা পুলি উৎসব করে করা হয় কিন্তু বাচ্চারা সে সব খাবার খেতে পছন্দ করে না তেমন।
বিদেশে আমি দেখেছি বাচ্চাদের শহরে জীবন থেকে কতটা প্রকৃতির কাছে নেওয়া হয় হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। আমাদের দেশে বরং অভিভাবকও বাচ্চাদের প্রকৃতির কাছে যাওয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন। গ্রামীন জীবন, প্রকৃতির সাথে থাকা অনেকটা আনকালচারড ব্যাপার এমনই ভাবা হয় অনেক ক্ষেত্রে।
প্রকৃতির মাঝে থাকতে আমার খুব ভালোলাগে। বেড়ে উঠা অবারিত আকাশের খোলা মাঠে মাটির সাথে ভাব করেই বেড়ে উঠেছি। তাই প্রকৃতির কাছাকাছি থাকি বৈচিত্রগুলো প্রতিদিন কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করি। প্রকৃতির অনবদ্য ওষুধী, গাছগাছালি লতা গুল্ম থেকে আমাদের পূর্ব পুরুষ যা আবিস্কার করেছিলেন। বর্তমান সময়েও তা তেমনি কর্যকরী চিকিৎসার জন্য। বিভিন্ন দেশে আমি দেখেছি এই প্রাচীন পদ্ধতিতে চিকিৎসা করতে এবং তার মূল্যায়ন করতে সরকারি ভাবে। অথচ আমাদের দেশে ধরে রাখার ব্যবস্থা নাই বরং উজাড় হয়ে যাচ্ছে অনেক রকম মূল্যবান ঔষধি গাছ।
পৃথিবীর খোলা হাওয়া অনেক অক্সিজেন গাছপালা ঘেরা গ্রামে থাকে । শহর ছেড়ে গ্রাম মুখি হওয়া জরুরী মানুষের। প্রকৃতি থেকে শিক্ষা নেয়া মানুষ অনেক উন্নতি করতে পারে মুখস্ত শিক্ষার চেয়ে।

জোনাকি আর সূর্য গ্রহণ

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০২১ রাত ১২:৫১
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×