somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

প্রকৃতি খবর

১৬ ই মার্চ, ২০২২ রাত ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাইরে অনেক পাখি ডাকছে। অনেকদিন পরে পাখির ডাক শুনলাম, গতকাল অনেকক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে। আগের দিনের প্রবল বাতাস আর তুষারপাতের পরে একদম মায়াবী সময়। এখনও বরফে আচ্ছাদিত মাটি তার মাঝে কখনও একটু ঘাস দূর্বা দেখা যায়, যে দিন উত্তাপ বাড়ার জন্য মাটির বরফ গলে যায় কিছু জায়গা জুড়ে ঘাসের জমিন বেরিয়ে পরে। পাখি গুলো খুটে ঘাস তুলে নিয়ে ঘর বানানোর কাজ শুরু করেছে । ওদের উড়াউড়ি দেখতে ভালোলাগে। দীর্ঘ শীতল নিরব নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে প্রাণের সঞ্চার হচ্ছে।
শীতকালেও অবশ্য কিছু প্রাণী ঘোরাফেরা করেছে। এবার বাড়ির খুব কাছে ঘোরাফেরা করছিল কায়টি। আর একদিন সারারাত ধরে দৌড়ালাম একটা স্কাংক। ঘরের কাছে এসে গার্বেজ ধরে টানাটানি করছিল কিছুক্ষণ পর পর। আর আমিও দৌড়াচ্ছিলাম লেখা ছেড়ে তাকে তাড়াতে। ছিল রেকুনও, মাঝে মাঝে হানা দিত। গাছ বেয়ে উঠে বসে থাকত। আর ঘরের পাশে খাবার খুঁজত। একদিন দেখলাম কিছু সবজি পেয়ে কিছুটা খেলো কিছুটা বরফের নিচে ঢাকা দিয়ে রাখল সুন্দর করে। প্রকৃতির মতন তাদের নিজেস্ব ব্যবস্থা খাদ্য সঞ্চয়ের।
বরফের উপর তাদের পায়ের ছাপ দেখে বুঝতাম কে এসেছিল আজ, হরিন, কায়টি নাকি রেকুন অথবা কাঠবেড়ালীর ছুটাছুটি। সারা শীতকাল জুড়ে কাঠবেড়ালীর দৌরত্ব ছিল। অবাক হই দেখে এদের শীত লাগে না। বরফ পরছে তুমুল আর ওরা দৌড়ে বেড়াচ্ছে এদিক সেদিক। এগাছ থেকে অন্য গাছ। তবে খুব বিরক্তও হই যখন ঘরের এ্যাটিকে ঢুকে খাদ্য সম্ভার জমিয়ে রাত ভর শব্দ করে । কি ভাবে যে ফাঁক ফোকর খুঁজে পায় নাকি নিজেরাই কেটে ফেলে রাস্তা বানায়। এদের জন্য কিছু মেন্টেইনেনস অর্থ রাখতে হয় প্রতি বসন্তে। একটা না একটা কিছু ক্ষতি করেছে পাওয়া যায় বাড়ির ভিতর।

শীতকালের শেষের দিকে জমিয়ে রাখা খাবার শেষ হয়ে গেলে প্রাণীগুলো খাবারের খোঁজে বের হয়। একদিন গার্বেজে না ফেলে খাবারের উচ্ছিস্ট বাইরে ছূঁড়ে দিয়েছিলাম। ওদের জন্যও মায়া হয় তারপরই তাদের আনাগোনা বেড়ে ছিল কদিন বাড়ির কাছে। প্রহরে প্রহরে হাকডাক দিত ঘরের কাছে কায়টি। কদিন ধরে এদের দেখছি না। মনে হয় নতুন সাবক হয়েছে তাদের আর কদিন পরে পুরো পরিবার আবার বের হবে রোদ পোহাতে। তারপর চলে যাবে জঙ্গলে। তখন শিকারীও বের হবে বন্দুক নিয়ে দূর থেকে শুনতে পাবো গুলির শব্দ। হরিণ, কায়টি, খরগোশ অনেক কিছুই শিকারীরা শিকার করে।
আর কদিন পর লুকিয়ে থাকা গ্রাহাউন্ডহাগ, বিভার, খরগোশ, তিতির গুলো বেরিয়ে আসবে। তাদের সাথে সময় কাটবে ভালো আমার।
রাতভর তুষারপাত হয়েছে ঝরছে সারাদিন। গলে যাওয়া বরফের উপর আবার জমছে পরত। থকথকে ভেজা কাঁদা নদী শুভ্রতায় ছেয়ে গেছে। এবার খুব বেশি বরফ হলো না তুলনামুলক অনেক কম। তবে চলছে অনেক লম্বা সময় ধরে অল্প অল্প ঝরে পরা। সাধারনত এ সময়ে থেমে যায়।
এখন যে পাখিগুলো এসেছে এই পাখিগুলো পুরুষ পাখি, দক্ষিণ থেকে আগে আগে উড়ে চলে আসে, ঘর বানায় নারী পাখিটি এলে গান গেয়ে মন ভুলায়ে, ঘরে নিয়ে যাবে তারপর বেশ কিছুদিন সুখে সংসার করবে নীড়ে। ডিম হবে বাচ্চা হবে, বাচ্চারা নিজের মতন উড়ে যাবে । নিজেদের বন্ধু বানাবে। আর দুটো পাখি নিজেদের আনন্দে এক সাথে কাটাবে শরত পর্যন্ত। এরপর উড়ে যাবে শীতের আগে অন্য আস্তানা খুঁজে।
আাহা পাখির মতন আমিও যদি উড়ে যেতে পারতাম নতুন উষ্ণ আস্তানায় ডানা দুটি মেলে ইচ্ছা হলেই। আর তখন বাড়ি রক্ষা করার কোন চিন্তা থাকত না শীতকালে। বানাতাম আবার নতুন করে ঘর কি মজা হতো। অথচ মানুষ কেবল শিকলে বন্দি নানা বাধা ধরে রাখে চারপাশ থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০২২ সকাল ১১:৫০
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×