somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

কান্না নয় আনন্দ

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২২ রাত ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পথে নেমে পরে উষার আলো তখনও ফুটেনি
অভিমান শব্দের উৎস খুঁজে কখনো সময় ব্যয় হয়নি।
মুখে গায়ে আঘাত লাগা পাঁচ আঙ্গুলের দাগ, যার যখন ইচ্ছে কয়েক ঘা শরীরে বসিয়ে দেয়,
চোখের পানিও কখনোও আসে না আর।
এটা স্বাভাবিক জীবনের অংশ।
সন্ধ্যার আলো গাড় হলে তাকিয়ে দেখা,
লাল লিপিষ্টিক রাঙানাো ঠোঁট। হাই হিলের সোনালী রঙ।
কাচুলির চিকন সোনালী ফিতার পাশে পুরুষালী হাতের বেষ্টন ।
যত্ন করে নিয়ে যায় পার্টি রুমে। মায়াবী দৃশ্য সুখ ঝরেঝরে পরে।
বাজনার শব্দ তালে তালে নাচ, আলোর ঝলকানী একটু ফাঁকফোকর দিয়ে চোখে ভাসে।
মনোহারী খাবারের ঘ্রাণ ভেসে আসে, পারফিউমের সুগন্ধ ম্লান করে।
পাতাকুড়ানী জীবন অবাক দৃশ্য দেখে যেন রূপকথার গল্প তাদের জীবন।
নদী গিলে খেয়েছে সবুজ কুঁড়ে ঘর। সাথে গল্প বুড়ি দাদী।
ভাসান জীবন শহরের পথে পথে।
বাবাটাও চলে গেলো চকমকি মেয়ের সাথে।
ঝিয়ের কাজে মায়ের সময় কই, কাছে বসার।
কখন শুরু হলো কুড়ানী জীবন। আর সব পথ শিশুরাই চিনাল জীবন।
কত কিছু ফেলে দেয় মানুষ যাদের আছে
আর ফেলানী কুড়িয়ে জীবন বাঁচে পথশিশুর।
অবাক হয়ে দেখে রূপকথার রাজ্যের মানুষ, ভালোবাসে কুকুর বিড়ালও কত,
কোলে নিয়ে ঘুরে, খাওয়ায় মজার বিস্কুট।
আহা কতদিন অপেক্ষায় আছে দোকানে সাজানো বোতল থেকে একটা বিস্কুট মুখে দিবে বলে।
কেমন স্বাদ জানতে ইচ্ছা করে।
অথচ পেটে পরে না প্রতিদিন খাবার।
কখনো বাসি খাবার নিয়ে আসে মা। কখনো শুখনা ভাত পান্তা করে খায় মরিচ ঢলে।
কুড়িয়ে পাওয়া একটা শিশির ঘ্রাণে কাটিয়ে দিয়েছিল এক সারাদিন।
লুকিয়ে রেখেছিল নিজের কাছে শিশিটা মাঝে মাঝে ঘ্রাণ নিত।
আতরের ঘ্রাণের মতন বাবার কথা মনে পরত।
সেটাও বেঁচে দিল মা তাকে না বলে।
অনেক নাকি দাম। সেদিন এক বেলা মাছ খেতে পেয়েছিল বহু বছর পরে।
খালি শিশির দামে মাছ পাওয়া যায় তাই আরো বেশি খুঁজে তেমন শিশি
মাছ ভাত জুটবে তবে। আরো ভোরে পথে নামে আর সবার আগে।
কখনো মনে আসে না কেন এমন জীবন, না খেতে পেয়ে পথে ঘোরা।
ময়লার মাঝে গড়াগাড়ি খেয়ে হাসিতে আকাশ ছোঁয় তারা।
দল বেঁধে কখনো মিছিলে হাঁটে পুলিশের লাঠি পিঠে পরে।
তবু দুহাত উঁচিয়ে চিৎকার করে শিশু অধিকার দিতে হবে।
যদিও অধিকার শব্দের কোন মানে জানা নাই।
এটা একটা কাজ মিছিলে চিৎকার করে পুলিশের ডান্ডার বাড়ি খাওয়া।
এই একটা খেলা তাদের সেদিন কিছু কড়কড়ে নোট পাওয়া যায় আর বাক্স ভর্তি খাবার।
এটাই অধিকার হয়তো। দিগন্তে চোখ মেলে হাড় মাংস চিবুতে চিবুতে ঘাসে বসে ভাবে।
যদি প্রতিদিন এমন মিছিল হতো, ডান্ডার বাড়ি খেলেও
মুরগির ঠেং চিবুনো যেত মজায়, পাওয়া যেত সাথে টাকা।



সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২২ রাত ১২:১২
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে কোন বনের হরিণ ছিলো আমার মনে-১৯

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৫ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ৯:৩৫



আজকাল আমি রোজ বিকেলে সিদ্দিকা কবিরের বই দেখে দেখে ডালপুরি, সিঙ্গাড়া, সামুচা বানাই। বাবার বাড়িতে আমি কিছুই রান্না শিখিনি, এমনকি ভাতও টিপ দিয়ে বুঝতে শিখিনি সিদ্ধ হলো নাকি হলো না... ...বাকিটুকু পড়ুন

নূর মোহাম্মদ নূরু ভাইয়া আর কখনও ফিরবেনা আমাদের মাঝে

লিখেছেন শায়মা, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ২:০২


নূর মোহাম্মদ নূরু
আমরা কিছু সামু পাগল আছি যাদের সামুতে না লিখলে কিছুই ভালো লাগে না। নুরুভাইয়া মনে হয় ছিলেন সেই দলে। প্রথমদিকে উনাকে ফুল ফল ও মনিষীদের জীবন নিয়েই লিখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোক সংবাদঃ ব্লগার নূর মোহাম্মদ নূর আর আমাদের মাঝে নেই।

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ৩:০৪



সুপ্রিয় ব্লগারবৃন্দ,
আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাতে চাই যে, সামহোয়্যারইন ব্লগের ব্লগার নূর মোহাম্মদ নূরু (নূর মোহাম্মদ বালী) আর আমাদের মাঝে নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন। গত ২৯ অক্টোবর রাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেকোনো মৃত্যু: বড় কষ্টের, বড় বেদনার.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৪৯

যেকোনো মৃত্যু: বড় কষ্টের, বড় বেদনার.....

ছড়াকার সাংবাদিক ব্লগার বন্ধু নুর মোহাম্মদ নুরু ভাইর চলে যাওয়া খুব কষ্টের। আরও বেশী কষ্ট পেয়েছি ব্লগার শায়মার পোস্টে নুরু ভাইয়ের মেয়ের হৃদয়বিদারক লেখা পড়ে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ মাস গত হয়ে যাবার পর?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ দুপুর ১:২৮





ব্লগে রেজিস্ট্রেশন করে লিখতে শুরু করলেন, সময় গত হবার পর আপনি পরিচিতি পেলেন, সবাই আপনার পোস্ট, কমেন্ট চায় ; আপনি যথেষ্ট সক্রিয় ব্লগে।হঠাৎ আপনি অসুস্থ হয়ে অনিয়মিত, অসুস্থতায় আপনি মৃত্যুবরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×