অন্ধ উন্মত্ততার কাছে মানবতা কেন পরাজিত?
---------------------------------------------------------------
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক পীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং শেষ পর্যন্ত নির্মম হত্যাকাণ্ড এ ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন সহিংসতা নয়; এটি আমাদের সমাজের গভীরে পচে ওঠা অসহিষ্ণুতা, অজ্ঞতা এবং বর্বরতার নগ্ন প্রকাশ। যে সমাজে ভিন্নমত, ভিন্ন বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের জায়গা নেই, সে সমাজ সভ্যতার দাবিদার হতে পারে না বরং তা মধ্যযুগীয় অন্ধকারেই রয়ে গেছে।
একজন মানুষ ধর্ম পালন করবেন কি করবেন না এটি তার মৌলিক অধিকার। এটি কোনো দয়া বা অনুকম্পার বিষয় নয়; এটি একটি স্বাধীন মানুষের জন্মগত অধিকার। কেউ ধর্মে বিশ্বাসী হতে পারেন, কেউ সংশয়বাদী, কেউ নাস্তিক এই বহুত্বই মানবসভ্যতার সৌন্দর্য। অথচ আমরা দেখছি, এই ভিন্নতাকেই এখন অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, আর তার শাস্তি হিসেবে দেওয়া হচ্ছে মৃত্যু! প্রশ্ন হলো কোন আইন, কোন নৈতিকতা, কোন মানবতা এই হত্যাকে বৈধতা দেয়?
এই ধরনের হামলা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়; এটি রাষ্ট্রের আইন, বিচারব্যবস্থা এবং সামাজিক চুক্তির ওপর সরাসরি আঘাত। যখন জনতা নিজেই বিচারক, জল্লাদ এবং আইন হয়ে ওঠে, তখন সভ্যতা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। এটি “বিচার” নয় এটি উন্মত্ত প্রতিহিংসা, যা সমাজকে আরও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো এই সহিংসতার পেছনে থাকে এক ধরনের বিকৃত নৈতিকতার দাবি। কেউ কেউ মনে করে, তারা নাকি “ধর্ম রক্ষা” করছে! অথচ প্রকৃত ধর্ম কখনোই হত্যা, লুটপাট বা অগ্নিসংযোগ শেখায় না। ধর্ম যদি মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে না শেখায়, তবে সেই ধর্মচর্চা আসলে কেবলই ভণ্ডামি।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



