somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

দ্যা ফামস স্ট্যাচু অফ দ্যা টাউন মিউজিসিয়ান অফ ব্রেমেন

৩০ শে মে, ২০২৬ রাত ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দুই বছর আগে গিয়েছিলাম, জার্মানির ব্রেমেন শহরে। সেখানে গিয়ে দেখা হয়েছিল ছোটবেলায় গল্পে শোনা চরিত্র গুলোর সাথে। গল্পের সেই চরিত্রগুলোকে কেউ সাজিয়ে রেখেছে এভাবে এই শহরে, যাওয়ার আগে জানা ছিল না। শহরে পৌঁছে হোটেলে গেলাম থাকার জন্য সেখানে প্রথম দেখলাম বিভিন্ন পোস্টারে, পর্যটন ফ্লায়ারে ছবিটা। যেন শহরের আইকন স্ট্যাচু। যার নাম দেয়া হয়েছে, "দ্যা ফামস স্ট্যাচু অফ দ্যা টাউন মিউজিসিয়ান অফ ব্রেমেন"।

ব্রেমেনের নগর সঙ্গীত শিল্পীদের বিখ্যাত মূর্তিটি ব্রাদার্স গ্রিমের, একটি জার্মান রূপকথার গল্পকে স্ট্যোচু করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
রূপকথার গল্পের চরিত্রগুলোকে ১৯৫৩ সালে জার্মান শিল্পী গেরহার্ড মার্কস ব্রোঞ্জের উপর কারুকাজ করে, তৈরি করেন। আমি শুধু গল্পটাকে মনের মধ্যে রেখে ছিলাম। আর এই ভাস্কর্য গল্পটিকে অন্যদের জন্য সাজিয়ে দিয়েছেন ব্রিমেন শহরে।
ছেলে বুড়ো সবাই দেখছেন স্ট্যাচুটি। ছবি তুলছেন। সবারই ছোট বেলার স্মৃতি মনে পরছিল হয় তো। আমাকে অনেকক্ষন অপেক্ষা করতে হলো এই স্ট্যাচুটির সাথে ছবি তোলার জন্য।
আপনাদের কারো কি এই গল্পটি মনে আছে? আমার মনে আছে।
খুব ছোটবেলায় শোনে ছিলাম।

গল্প ছিল চারটি বয়স্ক খামারের পশুকে নিয়ে। একটি গাধা, একটি কুকুর, একটি বিড়াল এবং একটি মোরগ। বয়স হয়ে যাওয়ায় তাদের কাজ করার ক্ষমতা কমে গিয়েছিল। নিষ্ঠুরখামার মালিকরা কাজ করতে না পারা প্রাণীগুলোতে আর বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে চাইল না। তাদের বের করে দেয়া হলো খামার বাড়ি থেকে। গাধাটি একা দুঃখের সাথে চলতে চলতে তার দেখা হয়, একা কাঁদতে থাকা একটি কুকুরের সাথে। নিজেদের দুঃখের কথা একে অপরকে বলে, দুজনে নিজেদের জীবনের মিল পায় এবং দুজন মিলে এক সাথে চলতে থাকে। দুজনই বয়স্ক এবং অসমর্থ কাজ করতে অপারাগ তাই মালিক তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এরপর তাদের দেখা হয় একটি বিড়াল এবং একটি মোরগের সাথে তাদেরও একই কাহিনী।
চারটি প্রাণী এক সাথে চলতে থাকে। নানা শহর, পথ, জঙ্গল পেরিয়ে পৌঁছায় তারা ব্রেমেন শহরের কাছের এক জঙ্গলে। জঙ্গলের মধ্যে একটি পরিত্যাক্ত বাড়িতে একদল ডাকাত তখন মালামাল ভাগাভাগি করছিল। ভিতরে আলো জ্বলতে দেখে প্রাণীগুলো ঐ বাড়িতে আশ্রয় নিতে চায়। কিন্তু বাড়ির ভিতরে কি আছে দেখতে পায় না আলাদা আলাদা ভাবে। তখন গাধার পিঠে কুকুর এবং কুকুরের পিঠে বিড়াল । বিড়ালের পিঠে মোরগ চড়ে বাড়িটার ভিতরে দেখার চেষ্টা করে। এবং ডাকাতগুলোকে ভয় দেখাতে এক সাথে সবাই মিলে ভয়ানক চিৎকার করে ডাকতে থাকে। এমন হঠাৎ নানা রকমের শব্দ এক সাথে শুনে ডাকাতরা ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়। প্রাণীগুলো ঐ বাড়িতে আশ্রয় নেয় । এবং একসাথে বসবাস করতে থাকে। এবং মাঝে মাঝেই সবাই মিলে এক সাথে ডাকাডাকি করত, যাতে তাদের কাছে কেউ না আসে।
তারা ব্রেমেন শহরে নগর সঙ্গীতশিল্পী নামে পরিচিতি পায়। রূপকথার এই গল্পটির এমন বাস্তব রূপ দেখে আমার খুবই ভালোলাগে। মনে হয়েছিল, ভাগ্য ছোটবেলায় গল্পটি আমি শুনেছিলাম। তাই সংয়োগটা করতে পারলাম, এত দূরে এসে এই গল্পের চরিত্রের দেখা পেয়ে।
জার্মানিতে এমন রূপকথার শহর আরো আছে ব্রিমেন থেকে আড়াই ঘন্টার দূরত্বে আরেকটি রূপকথার গল্পের শহর আছে হ্যামেলিন, জার্মানি। পাইপ পাইপার অব হ্যামেলিন এই গল্পটি তো সবারই জানা।
সেখানে গল্পটাকে বাঁশিওয়ার সাথে ইঁদুরের চলমান দৃশ্য তৈরি করে যেন বাস্তবে রূপকথাকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
আমার চব্বিশ সালের ইউরোপ ভ্রমনে আমি অনেক গুলো রূপকথার গল্পের দেখা পেয়েছিলাম। দেখা পেয়েছিলাম কালজয়ী সাহিত্যিক, রূপকথার জন্য বিখ্যাত গল্পকার ডেনিশ লেখক বিখ্যাত হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসেনের ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে । আরো দেখা হয়েছিল, চেক লেখক ও ঔপন্যাসিক ফ্রাঞ্জ কাফকার সাথে চেক রিপাবলিকের প্রাগ শহরে।
সবাইকে নিয়ে এবং তাদের সাথে দেখা হওয়া আমার গল্প বিস্তারিত লিখতে ইচ্ছা কিন্তু সময়ের কারণে লেখা হয়ে উঠছে না। লিখে ফেলব দ্রুত।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০২৬ রাত ১:৫৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট : পর্ব- ১

ভুমিকা
১.১ গবেষণার পটভূমি
একবিংশ শতাব্দীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রিয় ২৬টি পোস্ট; যেগুলো আপনারও ভালো লাগতে পারে

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৭

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth- তবে কি আমরা মহাবিশ্বের ভৃত্য?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

Humans are not from Earth: A Scientific Evaluation of the Evidence বইটির লেখক ডক্টর এলিস সিলভার (Dr. Ellis Silver)-এর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক জীবন নিয়ে মূলধারার তথ্যমাধ্যমে এক ধরনের রহস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×