
বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে গেছে দেশে। বিদেশের আবহ দেশেও পাওয়া যায় ব্যাপারটা উপভোগ করলাম। মুভিটি ছিল
পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার আকাশ হকের ছবি, দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল ।
সিনেমা হলের বদলে যাওয়ার মতনই সিনেমা নির্মানেও বদল এসেছে এই ছবিটি দেখে বুঝলাম।
কোন পারিবারিক গল্প নয় কোন প্রেমের গল্প নয় সমাজের ভিতরের কুলসিত অংশ যা একটা নিয়মে দাঁড়িয়ে গেছে। বছরের পর বছর এই নিয়মগুলো বদল হয় না আরো যুতসই হয়ে দৃঢ় অবস্থান নেয়। সহজ সরল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা ছাত্রছাত্রী ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় নিজেদের খুঁজে পায় এই ঘূর্নিচক্রপাকে। দেশে যারাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন বা করছেন। নানা রকম নিয়মের বাইরের আরোপিত নিয়মের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার কথা মনে করতে পারবেন। যা একটি শিক্ষা জীবনে অবাঞ্চিত যন্ত্রনা। শিক্ষার সাথে যার কোন সম্পর্ক নেই অথচ সিন্দাবাদের দৈত্যর মতন ঘাড়ে চেপে আছে যুগের পর যুগ ধরে।
মেটাফোরের মাধ্যমে সেই সব বৈষম্যগুলো সুন্দর ভাবে চিত্রায়ন করেছেন আকাশ হক। নির্বাহী পরিচালক হাফিজউদ্দিন মুন্না।
মুভি নয় যেন জীবনের বাস্তবতার কঠিন কিছু বিষয়ের সাথে আড়াই ঘন্টা সময় পার করলাম ।
ছবির আরো একটা নতুন দিক ছিল ছবিতে কোন কোন জায়গায় আলাদা বাদ্য যন্ত্রের মিউজিক ছিল না। কিন্তু মিউজিক ছিল বাস্তব শব্দ। চারপাশের বাস্তব কোলাহল শব্দগুলো দারুণ ভাবে ব্যবহার করে আরো বাস্তব করা হয়েছে কাজটায়।
আমি সময়ের বেশ আগে পৌঁছে গেলেও টিকেট নিয়ে আকাশ আটকা পড়েছিলেন বৃষ্টির ভিতরে। প্রতি সন্ধ্যায় ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে আর সেই বৃষ্টি কাল সন্ধ্যায় বেশ জোড়েসোরে এসে সবার সময় কিছুটা পিছিয়ে দিল। সব বাঁধা অতিক্রম করে তবু সবাই এসে প্রথম দিনে, দেখানো ছবিটি দেখতে পৌঁছে গেলেন শেষ পর্যন্ত।
দর্শক ভালোই এসেছিলেন ছবিটি দেখতে ঝড় জলের ভিতর।
আর ছবি শেষে অনেকটা সময় আড্ডা হলো পুরো তরুণ দলের সাথে অনেকক্ষণ ধরে। এর পর ওরা চলে গেলেন অন্য জায়গায় যেখানে ছবিটি আবার প্রদর্শিত হবে আর আমি ফিরলাম ঘরে।
এই লেখাটি বারো জুন লিখেছিলাম। আমার সাক্ষাতকার এবং লেখার অংশ কিছু ইংলিশ এবং বাংলা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে।
আমি ব্যাস্ত থাকার জন্য সামুতে লগ ইন করা হয়নি। ছবিটি প্রর্দশিত হয়েছে বেশ কিছুদিন স্টার সিনেমা হলে বসুন্ধরায়। আমি শেষ দিনও আবার দেখতে গিয়েছিলাম।
ভুল হয়ে গেলো সামুর অনেকে যেতে পারতেন, সিনেমাটি দেখতে হয় তো আমি আগে লেখাটি দিলে । বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অনেক কিছুর সাথে মিল খুঁজে পেতেন।
তবে ছবিটি চরকিতে আসার সম্ভাবনা আছে । এছাড়া নির্মাতারা চেষ্টা করছেন আরো বিভিন্ন জায়গায় ছবিটি প্রদর্শন করার জন্য। যদি আমি জানি এবং সুযোগ পাই জানিয়ে দিব।
ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয়েছে এবং দুটো এওয়ার্ড পেয়েছে অল রেডী।
আকাশ হক পরিচালিত রাজনৈতিক ব্যঙ্গধর্মী চলচ্চিত্র ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (DIFF) ‘বাংলাদেশ প্যানোরামা’ বিভাগে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয় এবং শ্রেষ্ঠ পূর্ণদৈর্ঘ্য ফিচার ফিল্ম হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ফিপরেসি (FIPRESCI) অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


